kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সীতাকুণ্ডে ৯ দিনে তিন খুন, দুই ঘটনায় আসামি অধরা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০২:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে ৯ দিনে তিন খুন, দুই ঘটনায় আসামি অধরা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ৯ দিনে তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় খুনিকে এলাকাবাসী হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছে। এ ছাড়া অন্য দুটি ঘটনায় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নতুন করে একটি খুন হলে চাপা পড়ে যাচ্ছে আগেরটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সীতাকুণ্ডে হঠাৎ করেই খুন-খারাবি বেড়ে গেছে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯ দিনে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পরদিন সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ভোলাগিরি এলাকায় দিনদুপুরে হত্যা করা হয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখা যুবলীগের সভাপতি দাউদ সম্রাটকে (৩০)। ওই ঘটনায় দাউদের মা জেবুন্নেছা বেগম বাদী হয়ে শহীদুল ইসলাম ওরফে ডাকাত শহীদসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

এ মামলার প্রধান আসামি ডাকাত শহীদ স্থানীয় চন্দ্রনাথ পাহাড়সহ আশপাশে নিয়মিত ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে। কিন্তু ঘটনার ৯ দিনেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ডাকাত শহীদের পেছনে প্রভাবশালী মহল রয়েছে বলে সে গ্রেপ্তার হচ্ছে না—এমন অভিযোগ দাউদের মায়ের। 

২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার কুমিরা হিঙ্গুলীপাড়ায় নিহাদ হোসেন রাজু নামের এক শিশু খুন হয়। এলাকাবাসী তার সত্মা শামীনা আক্তারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শামীমা।

সব শেষ সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে বাড়বকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় রেলওয়ে কলোনিতে নিজ ঘরে খুন হন রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সরোয়ার হোসেনের ছেলে মাদরাসা শিক্ষক ইমরান হোসেন রিয়াদ (২৮)। 

রিয়াদের বড় ভাই ফরহাদ ও বোন শামীমার অভিযোগ, ডাকাতি করতে এসে বাধা পেয়ে তারা রিয়াদকে কুপিয়ে ফেলে যায়। পরে সে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলা করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা পুলিশের ভূমিকা সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছে। তারা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সব ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় খুন-ডাকাতি বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা