kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজন

নবান্ন উৎসবে শিকড় সন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০৬:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবান্ন উৎসবে শিকড় সন্ধান

প্রতীকী ছবি

বাঙালির ঐতিহ্য আর শিকড় সন্ধানের অভিপ্রায়ে চট্টগ্রামে উদ্যাপিত হলো নবান্ন উৎসব। বাংলার কৃষিজীবী সমাজের শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ের আচার-অনুষ্ঠানের হাজার বছরের ঐতিহ্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয় বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত নবান্ন উৎসবের আলোচনায় বক্তারা বাঙালির ঐতিহ্যের অসাম্প্রদায়িক দিকে দৃষ্টি ফেরানোর তাগিদ দেন।

বক্তারা বলেন, ‘নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় এই নবান্ন উৎসবে। একসময় বাঙালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে নবান্ন উৎসব সমাদৃত ছিল। কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলায়, ঐতিহ্যবাহী এ নবান্ন উৎসব আজ বিলুপ্তপ্রায়। নাগরিক জীবনের কোলাহলে আমরা আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য হারাতে বসেছি। শহরের শিশু-কিশোরদের আবহমান বাংলার কৃষি ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে না পারলে আমরা আমাদের শিকড়-অস্তিত্ব হারাব।’ 

প্রতিবারের মতো এবারও তিনজন কৃষক এই নবান্ন উৎসব উদ্বোধন করেন। উত্সবে প্রধান অতিথি ছিলেন গীতিকার ও সুরকার সৈয়দ মহিউদ্দিন। পরে তাঁকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

উৎসবের আলোচনা পর্বে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিশুমেলা’র সভাপতি অধ্যক্ষ রীতা দত্ত। 

নবান্ন উত্সব উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, সদস্যসচিব রত্নাকর দাশ টুনু, এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য জামশেদুল আলম, প্রধান সমন্বয়ক রুবেল দাশ প্রিন্স, এনামুল হক এনাম প্রমুখ। 

বক্তারা আরো বলেন, ‘শিশু-কিশোররা আজ ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে। গ্রামে, হাটে, মাঠে, ঘরে নবান্ন উত্সব হয়। এ সময় ঘরে ফসল ওঠে। গ্রামাঞ্চলে আনন্দ উৎসব, পালাগান, যাত্রাগান হয়। সারা দিন আনন্দে থাকে মানুষ। আমাদের আনন্দ-উৎসব সন্ত্রাসবাদী জঙ্গির থাবায় মলিন হতে বসেছে। এই হায়েনাদের পরাজিত করতে হবে। এ রকম উৎসব থেকেই আমাদের শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। উৎসব আয়োজনই পারে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করতে।’

তাঁরা আরো বলেন, ‘এখন শিশুরা বাঙালি ঐতিহ্য নয়, পাশ্চাত্য ভাবধারার অনুকরণ করছে। শিশুরা এখন মাছ পাখি ফুল গ্রাম চেনে না। বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে, তবে সেটা বাঙালির সংস্কৃতিকে বিসর্জন দিয়ে নয়। নিজের সংস্কৃতিকে ধারণ করে মাটির কাছাকাছি থেকে মেধা মননে নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

বিকেলে ‘সুরাঙ্গণ ডান্স একাডেমি’র শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হয়। এরপর ‘তারুণ্যের উচ্ছ্বাস’ বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে। খেলাঘরের শিশুদের দলীয় পরিবেশনার পর মঞ্চে আসেন সঞ্চারি নৃত্যকলা একাডেমির শিল্পীরা। স্বর্ণময়ী সিকদার, প্রীতম ভট্টাচার্য ও মায়া চৌধুরীর একক গানের পর মঞ্চে আসেন লোকশিল্পী ফকির সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী আয়েশা হক শিমু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা