kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বালকপুরাণ ১৯৭১

অদিতি ফাল্গুনী

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বালকপুরাণ ১৯৭১

অঙ্কন : মাসুম

গোটা তল্লাটের মেয়েরা সব হাপিশ হলো কই? আজিজ আলীর শ্যেন চক্ষু এড়িয়ে আশপাশের তিন-চারটা গ্রামের মেয়েরা সব হাওয়া? সাত বছরের গেঁড়ি মেয়ে থেকে সত্তরের বুড়ি—কেউ নেই? করে কী এই ইউনিয়নের নবগঠিত শান্তিবাহিনীর আওতায় নিযুক্ত যুবক রাজাকাররা? মাসে মাসে রীতিমতো ভালো বেতন দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার! তার প্রতিদান এই? পাঞ্জাবি যে ক্যাপ্টেন আর তার সঙ্গের সোলজাররা এই করমচাবাড়ি গ্রামে দুদিন হয় তাঁবু ফেলেছে...পঞ্চাশটা ভরন্ত যুবক...রোগা-কালো-বেঁটে বাঙালি ছেলে না...টকটকে ফরসা-লম্বা-চওড়া সব পাঞ্জাবি-পাঠান-বালুচ...এদের কাছে তবে আজিজ আলী এখন কিভাবে মুখ দেখায়? আহা কত দূর-দূরান্ত থেকে সব বউ ফেলে এসেছে! হাতে সবার ভারী অস্ত্র। যতই তিন বেলা কচি মুরগির মাংস, পরোটা, খাসির কলিজা কি গরু ভুনা আর সাধ্যমতো ডালিম-আনার-আপেল-কমলা গছিয়ে দিক আজিজ আলী, এই বয়সের জোয়ানদের আসল ক্ষুধাটাই যদি সে মেটাতে না পারে, তবে কিসের কী? আজিজ আলীর নিজের ছাপ্পান হলো এ বছর...তবে একসময় তারও কি ছিল না দুরন্ত ছাব্বিশ থেকে ছত্রিশের সেই জোয়ারের সময়? পরে না বিষয়-সম্পত্তি করা আর একই সঙ্গে ইবাদত করার নেশায় মেয়ে মানুষের নেশা তার কমে গেল। দুইখানা বউয়েই মোটামুটি চলে যায় তার।

গ্রামেরই চিন-পরিচিত মানুষদের বাড়িতে হানা দিয়ে মেয়ে পাঠানো ঠিক কাজ কি না সেটা নিয়ে বিশেষ দ্বিধা এ কারণে ছিল না যে শুরুতে আজিজ আলী ভেবেছিল, সোলজাররা এসে পৌঁছলে তিন গ্রামের ছয়টা হিন্দু পাড়াতে হামলা দিলেই হবে। অথচ সেই হিন্দু পাড়াগুলো থেকেই এলো প্রথম দুঃসংবাদ। জোয়ান পুরুষ হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ নেই। পালপাড়ায় গোটা কয়েক সুন্দরী মেয়ের নাম শুনেছে, ইউনিয়নের বাজারে ঘোষদের বড় মিষ্টির দোকানের মালিক শম্ভু ঘোষের দুটি ভাতিজি আর একটি মেয়ে নাকি পরির মতো দেখতে, অথচ তারা নেই।

‘শোন্—শালার পুত ঘোষেরা আর পালেরা যদি পালায়িই যায়—আরো চারটা পাড়া থিকি ডানাকাটা পরি না হোক, হাত-পা অলা মেয়ে মানুষ নিয়ি আয় কয়েকটা!’

‘একজনও নাই—’ হতভম্ব রাজাকারেরা ঘোষণা করে।

‘কিভাবে সম্ভব? তোরা কতিছিস কী?’

‘এ মালাউনগো একার কাজ না—হারামজাদা মুক্তি মুক্তি ভাবের ছেলেগুলাই নিশ্চিত মালাউনগো পালাতি সাহায্য করিছে।’

‘শোন্—বড় ঘোষ তো বউ-বিটি সব বরডারে পাঠায়ি বাজারে মিষ্টির দোকান খোলা রাখিছে। যা টাকার লোভ, ও কি ব্যবসা ছাড়ি কোথাও যাবে? এর শাস্তি আমরা দেব। পঞ্চাশটা সোলজারের সকাল বেলার পরোটা-ডিম-চা-মিষ্টি, বিকালের খাবার...বিনি পয়সায় ওর সাপ্লাই দিতি হবে। আচ্ছা, স্বর্ণকারপাড়ায় অনিলের মেয়েটা বয়সে একটু ছোট, শরীর এখনো হয় নাই, তয় চেহারা তো ভালো ফুটতিছে—’

‘ওরাও নাই।’

‘বিশ্বাস করি না—তোরাই কি গোপনে মুক্তি নাকি? মিথ্যা বলতিছিস?’

প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে আজিজ আলী নিজেই পরশু দুপুরে গেছিল অনিলদের বাড়ি। অনিলের আশি বছরের মা নড়তেচড়তে পারে না। একা সে বিরান ভিটায় কদম ছাঁট চুল আর সাদা থানে বসে ছিল। তুলসীগাছের মঞ্চটা অবদি হুবহু ছিল। রাগে তুলসীগাছের মঞ্চটায় লাথিই মারত সে। কিন্তু বুড়ি মালতী বালা সহসা খনখনে গলায় বলে উঠল, ‘তুমি রশিদ আলীর ছল না? তোমার মায়েরে আমি চিনতাম বাপ!’

‘জে—মাসিমা!’

না চাইতেও শৈশবের সম্বোধন জিহ্বা থেকে গলে বের হয়ে স্বয়ং আজিজ আলীকেই চমকে দেয়।

‘দ্যাশে কী হয়িছে বাপ? একা অনিল সোনার দোকান নিয়ি রয়ি গেল। আর তিন ছল, চার ছলের বউ, নাতি-নাতনিগুলা সব পরশু ভোররাতে...আমি অশক্ত মানুষ...আমাকে ফেলি কই গেল? ও বাপ!’

কোনোক্রমে দাঁতে দাঁত চেপে বৃদ্ধার মুখের ‘বাপ’ সম্বোধন উপেক্ষা করে আজিজ আলী ফিরে যায়।

‘ধর্মের জন্য, পাকিস্তানের জন্য আমাদের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা আমাকে পুরুষ হিসেবে গড়িলেও যথেষ্ট কঠোর করেনি। নয় এক বুড়ির কথায় আমার মন গলার কিছু নেই, তবে—’

আজিজ আলী সামনে দণ্ডায়মান রাজাকারদের দিকে তাকায়—

‘অনিল শালা বউ-বিটি সব পাঠিয়ে আবার দোকান খোলা রাখিছে? ওর সোনার দোকানে আমাদের পুরা হক যা আদায় করতি হবে।’

 

দুই.

এই পাঞ্জাবি-বালুচ-পাঠানগুলোই বা কেমন? অনিলের দোকান লুট করায়ে সব স্বর্ণের অর্ধেক ভাগ নিজে আর দলের ছেলেদের দিয়ে বাকিটা তো আজিজ আলী সৈন্যদের হাতে তুলে দিল। তবু শান্তি নাই? ‘আওরাত’-ই লাগবে?

‘নাহ্! এবার তলি মুসলমানপাড়ায় খোঁজ নিতি হয়। আওয়ামী লীগ কারা করে? বাচ্চু মিঞা আর তার দুই ভাই না ৭ই মার্চের ভাষণ দেখতি ঢাকা গেছিল? বাচ্চু মিঞার সেজো মেয়ে ক্লাস টেনে পড়ে। তাকে কলেজের ছেলেদের সাথে মিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে কয়েকবারই দেখা গেছে। এমন পর্দা-পুশিদাহীন, পাকিস্তানের প্রতি ঈমানহীন আওরাত তো কাফেরেরই সমতুল্য। তারাও ‘গনিমতের মাল’। খোঁজ লাগাও। কিসের কী? সেই এক কথা। কোনো মেয়ে নাই। মানে? এই গোটা করমচাবাড়ি, হেলেঞ্চাবাড়ি আর জামবাড়ি গ্রাম কি নারীর গর্ভ ছাড়া এমনি এমনি সৃষ্টি হলো নাকি? বিপথগামী মুসলমান যত ঘর আছে, তাদের সবার নারীশূন্য? এখন ঈমানদার মুসলমানদের বাড়ি কি তবে খোঁজ নিতে হবে? ভাগ্যিস আজিজ আলীর নিজের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে আর তারা স্বামীর সঙ্গে থাকেও অনেক দূরে। দলের রাজাকার ছেলেদের বোনটোন? সে ক্ষেত্রে বিয়ে পড়াতে হবে। তারপর মেয়েগুলোর ভাগ্যে থাকলে এই ‘মাউড়া’ স্বামীরা তাদের ওদেশে নিয়ে যাবে। না থাকলে নেবে না। কত মেয়েরই তো বিয়ের পর তালাক হয় বা বিধবা হয়। তার নিজেরই মেজো আপার দুবার বিয়ে হয়ে দুবারই তালাক হয়েছে। কিন্তু এই প্রস্তাব নিজ দলের ছেলেদের কিভাবে দ্যায়? নরমভাবে, বিনয়ে গলে গিয়ে ওদের বোঝাতে হবে।

‘তোমাদের সাথে জরুরি কথা আছে।’

‘বলেন হুজুর!’

‘দ্যাখো, আজ পাকিস্তানের বড় দুর্দিন। গোটা মুসলিম জাহানের ভেতর পাকিস্তান শিক্ষা-দীক্ষা ও সামরিক শক্তিতে অগ্রণী একটি দেশ। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের দশ বছর শাসনের পর ইয়াহিয়া খান আরেক শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট আমাদের পাকিস্তানি কওমের বড় ভাগ্য। সবাই বলো মাশাআল্লাহ!’

‘মাশাআল্লাহ্!’

‘আজ পাকিস্তানের জানি দুশমন হিন্দুস্তান আমাদের রাষ্ট্র ধ্বংস করতে বর্ডারের ওপারে কিছু বেদাতি যুবককে অস্ত্র শিক্ষা দিচ্ছে, ট্রেনিং দিচ্ছে। তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হাজার মাইল দূর থেকে আমাদের পাঞ্জাবি-বালুচ-পাঠান ভাইরা এসেছে। হোক তারা পাঞ্জাবি-পাঠান-বালুচ...তারা তো সবার আগে মুসলমান, নাকি?’

‘জি, হুজুর!’

‘আলহামদুলিল্লাহ যে আল্লাহ তোমাদের সঠিক পথে রেখেছেন। এবার বলো আমাদের যে মুসলমান ভাইয়েরা কত দূর থেকে পাহাড়-পর্বত-মরুভূমি-সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এসেছে, দিন শেষে তাদের যুদ্ধক্লান্ত শরীর-মন একটু শান্তি চাইলে আমাদের কী করা উচিত?’

তরুণ রাজাকাররা এ-ওর মুখের দিকে তাকায়। বেলাল নামের ছেলেটি খানিকক্ষণ মাথা চুলকে বলেই ফেলল, ‘আমরা তো হুজুর কয়েক দিন অনেক খুঁজিছি। কিন্তু তল্লাটে কোনো মেয়ে মানুষই তো বলতি গেলে নাই।’

‘ভাই, ইসলামের এই বিপদের দিনে নওজোয়ান হিসেবে আমরা কি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত? মদিনাবাসী কি নবীজির সাহাবিদের সাথে আপন কন্যাদের, ভগিনীদের বিবাহ দেন নাই? ভাগ্যে থাকিলে তোমাদের বোন-মেয়ে-ভাতিজিরা লাহোরে কি রাওয়ালপিন্ডিতে সুখে সংসার করিবে। তোমরা কি বুঝিছ আমি কী বলতি চাই?’

উত্তেজনার মুহূর্তে বিএ ফেল আজিজ আলীর মুখের ভাষা সব সময়ই কেমন সাধু ভাষার দিকে ধাবিত হয়।

একে একে পনেরোজন রাজাকার তরুণের বাড়ির প্রতিটি অবিবাহিত যুবতী, কিশোরী মায় শিশুকন্যা দূরে কোনো না কোনো আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেছে বলে জানা গেল। উফফূ! নিজেদের ভেতর এই অবিশ্বাস থাকলে কী করে হবে? আবার মনে মনে গোপনে আজিজ আলী হাঁফও ছাড়ে। গত রাতে সে বন্ধু অনিলকে স্বপ্নে দেখেছে, ‘আমার সোনার দোকান লুট করিস আর বন্দুকের বাঁটে পিঠিত ঘা করিস, ব্যাপার না! বাড়ির মেয়েগুলানরে সব অক্ষত বনগাঁ পাঠাতি পারিছি। আমি না তোর সাথে এক ইস্কুলে পড়িচি? ক্লাস ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষায় তোকে না আমি অঙ্ক দেখায়িছি? ‘আকাশবাণী’র খবর শুনিস আজিজ?’

‘আব্বু’—

দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরের কনিষ্ঠতম পুত্র সামনে এসে দাঁড়ায়। মায়ের রূপ পেয়েছে ছেলেটি। টকটকে গৌর বর্ণ রং, কোঁকড়া চুল আর টানা টানা দুই চোখ। বছর বারো বয়স। পড়া-শুনাতেও ভালো মাথা। দোষের ভেতর ছোট মামার খুব ভক্ত। স্ত্রীর ছোট ভাইয়ের হাবভাব ভালো না। ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র এই ছোট শ্যালক এরই মধ্যে বর্ডার পার হয়েছে বলে খবর আসছে। ‘আব্বু—আজ না ছোট মামার চিঠি আসিচে!’

‘আবার ছোট মামা? ছোট মামার কথা না বলতি মানা করিচি?’

ছেলেকে একটু ধমকেই মন খারাপ হয় আজিজ আলীর। তার সুদর্শনতম, মেধাবীতম পুত্র।

‘ইরাজ বাবা? বসো!’

প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ছেলেকে নানা কথার ছলে আজিজ বলে—ইসলামের সংকট, পাকিস্তানের অখণ্ডতা।

‘তোমার ছোট মামা ভুল করতিছে, বুঝিছ? পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের তাহলে এখন কী করা উচিত?’

‘পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করা উচিত।’

‘শাবাশ—বলো আলহামদুলিল্লাহ!’

‘আলহামদুলিল্লাহ!’

 

তিন.

প্লাটুনের ছেলেদের চাঙ্গা রাখবে কিভাবে ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব জানে না। সাত দিন হয়ে গেল, একটি মেয়ে মানুষ নেই গোটা তল্লাটে। ক্যাপ্টেনের অবশ্য নারী পিপাসা তত প্রবল নয়। লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় আব্বার মৃত্যুর পরপরই সেনাবাহিনীতে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ...সডোমি...সডোমির জন্য কি লুত নগরীর প্রাচীন মানুষরা ধ্বংস হয়েছিল? অথচ ওমর খৈয়াম কিশোর তনু সাকির জন্যই প্রার্থনা করেছেন তাঁর রুবাইয়ে। হাফিজ। ইন্তেখাবের প্রিয় বন্ধু হাফিজ। লম্বা আর রোদে পোড়া ইন্তেখাব যদি হয় মাচো রূপের আইকন, হাফিজ ছিল যেন গোলাপ বর্ণ কম্পিত তরুলতা। যেন সে বুনো গোলাপের কুঞ্জ একাই। খানিকটা বেঁটে-খাটো আর পুরু ঠোঁটে তার মদিরা তুলনারহিত। ইয়াসমীন যত সুন্দরীই হোক, হাফিজের কাছে সে কী? লম্বাটে গড়ন আর লম্বাটে মুখের ইয়াসমীন পুরুষের বাড়া। তবু তো নিয়ম মাফিক মা-নানিরা তার সঙ্গেই বিয়ে দিয়েছে। নিয়ম রক্ষায় দুটি সন্তানও হয়েছে। অবশ্য উর্দু সাহিত্যজুড়ে দিঘল কালোকেশী ‘বাঙাল কি জাদু’ রমণীদের কথা বলা হয়েছে। দূর পশ্চিম থেকে যাওয়া মুসাফির পুরুষদের যারা ভেড়া বানিয়ে রেখে দ্যায়। কিন্তু গত সাত দিনে এমন জাদুকরী একজনেরও দেখা মেলেনি।

‘মে আই কাম ইন স্যার?’

... হাফিজ। ক্লাস সিক্সের সেই অমর রূপবান বালক। ইন্তেখাব তখনই মরদ বা বেটা মানুষ হয়ে উঠছিল আর হাফিজ হয়ে উঠছিল নারীর প্রতিরূপ। ইন্তেখাবের বিয়ের পর সে আত্মহত্যা করে।

ইরাজের হাতে রাতের খাবারের ট্রে। আব্বা বলেছে, নিজের হাতে খাবারের ট্রে নিয়ে আসতে। এরাই পাকিস্তানের বীরপুরুষ। ছোট মামার মতো বিদ্রোহী, গাদ্দার নয়।

‘তুমহারা নাম কেয়া হ্যায়?’

‘মোহাম্মদ ইরাজ আলী।’

‘তুম তো বহুত খুবসুরত হ্যায়—জেনেনা কি তরো! আও—মেরে পাশ আও!’

ইরাজের ক্লাসমেট যে ননীগোপাল পালিয়ে যাত্রাদলে সখী হয়েছে, যাত্রাদলের প্রধান অ্যাক্টর নীলকান্ত দা পুকুরঘাটে মাঝে মাঝে ননীগোপালের সঙ্গে যেমন করে, এই ক্যাপ্টেন এমন করছে কেন তার সঙ্গে?

...‘অর প্রাচীন লুত নগরীর মানুষেরা ধ্বংস হইয়াছিল, কারণ তাহারা অতি পাপকার্যে মত্ত হইয়াছিল।’ পাপ? হাহ্—এখানে কেন এসেছ ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব? কমিউনিস্ট তারেক আলীর বক্তৃতা ফার্স্ট ইয়ারে ক্যাম্পাসে শুনে আর হ্যামলেটের স্বগত ভাষণ পড়ে এখানে এই মানুষগুলোকে নির্বিচারে খুন করতে এসেছ কেন? স্রেফ তারা কালো বলে? তাদের মেয়েদের রেপ করছ কেন? সডোমি তার তুলনায় কী বা এমন অপরাধ? আহ! সৈনিকের কোনো ভাবনা থাকতে নেই, স্মৃতি থাকতে নেই। সে কাঁদবে না বা অনুতাপ করবে না। হি উইল অনলি ক্যারি আউট অর্ডার অ্যান্ড কিল।

...পেশল দুই পুরুষ বাহুতে গোলাপ তনু কিশোরকে বেষ্টন এবং একই সঙ্গে নিজের ছোট কামরার দরজা বন্ধ করতে করতে, দরজার সামনে দাঁড়ানো অধস্তনদের দিকে তাকিয়ে হা হা হাসে ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব, ‘জেনেনা অর আওরাত নেহি হ্যায় তো কিয়া? ফাক বেবি বয়েজ!’

...পরবর্তী তিন দিনে করমচাবাড়ি গ্রামের গোটা ত্রিশেক পেলব কিশোরের জীবনে যা কিছু হয়েছিল, তার সঙ্গে লুপ্ত নগরী লুতের আখ্যানের কোনো মিল পেলে আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন।

মন্তব্য