kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

[ মনে পড়ে ]

ইউনূস স্যারের সামনেই পড়লাম

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তখন আমি পিপলস জুট মিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ি। পঞ্চম শ্রেণিতে। আমাদের বাসাটা ছিল খুলনার খালিশপুরে পুরনো আবহাওয়া অফিসের উল্টো পাশে। বাসা থেকে স্কুলে যেতে সময় লাগে পাঁচ থেকে সাত মিনিট।

বিজ্ঞাপন

একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে বন্ধু জয় বলল, ‘সাব্বির আজ স্কুলে যেতে ভালো লাগছে না, চল কোথাও ঘুরতে যাই। ’

আমি ওর কথা শুনে অবাক। বললাম, মজা করিস না চল স্কুলে।

আরে মজা না চল, ঘুরতে চল, স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজার আগেই ঠিক চলে আসব। বাসার কেউ বুঝতে পারবে না।

—আব্বা যদি জানতে পারে?

—আরে কিছু হবে না, চল। আমি বহুবার এমন করেছি। এখন পর্যন্ত ধরা খাইনি।

সেদিন একপ্রকার জোর করেই নিয়ে গেল জয়। ভয় পাচ্ছিলাম যদি ধরা পড়ি তাহলে কী হবে। সেদিন ভৈরব নদের ওপারে প্রথম গিয়েছিলাম জয়ের সঙ্গে। ঠিক যেমনটা বলেছিল, ছুটির ঘণ্টা বাজার আগেই আমরা স্কুলের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যথাসময়ে স্কুল ছুটি হলো। মাঝরাস্তায় সবার সঙ্গে আমরা যোগ দিলাম। সময়মতো ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরলাম। কেউ কিছু টের পেল না। হাই স্কুলে থাকতে আরেকবার স্কুল পালাতে চেয়েছিলাম। ঠিক করলাম, টিফিন টাইমে পালাব। টিফিন টাইম শুরু হলে বন্ধুদের অনেকে নাশতা খেতে শুরু করল। কেউ কেউ মাঠেও গেল। ভাবলাম, এটাই উপযুক্ত সময়। ক্লাস থেকে বেরিয়ে দেখি করিডরে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী হাঁটাহাঁটি করছে। আমার ক্লাসের বাঁ পাশের দুইটা রুম পরে ছিল হেড স্যারের রুম। পালাতে হলে সেই রুমের সামনে দিয়েই যেতে হবে। কারণ মাঠের মধ্যে স্যাররা রোদ পোহাচ্ছিলেন। তাঁরা দেখলে পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যাবে। যাই হোক, সাহস করে হেড স্যারের রুমের সামনে দিয়েই জোরে জোরে হাঁটা শুরু করলাম। কিন্তু বিধিবাম। হেড স্যারের রুম থেকে ইউনুস স্যার বেরোলেন আর তাঁর সামনেই পারলাম আমি! তাঁর সামনে পড়লে কি আর রক্ষে আছে? পালানোর বদলে উত্তম-মধ্যম খেতে হলো সেদিন।

 সাব্বির ফকির, সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, খুলনা