kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

[ কার্য কারণ ]

অ্যাথলেটরা পদকে কামড় কেন দেন?

আল সানি   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অ্যাথলেটরা পদকে কামড় কেন দেন?

তোমরা টিভি পর্দায় নিশ্চয়ই দেখেছ, অলিম্পিকে সাঁতার ও আর্চারি থেকে শুরু করে যেকোনো ইভেন্টে জয়ী অ্যাথলেটরা তাঁদের পদকে কামড় বসান। কিন্তু কেন? একটু পেছনে ফেরা যাক। অলিম্পিকের শুরুটা গ্রিসে, আজ থেকে প্রায় তিন হাজার বছর আগে। তবে আধুনিক অলিম্পিক শুরু হয় ১৮৯৬ সালে। এখন সোনা, রুপা, ব্রোঞ্জ—এই তিনটি পদক দেওয়া হয় প্রতিটি ইভেন্টের সেরা তিনজনকে। তবে একেবারে প্রথম দিকে শুধু একজন জয়ী অ্যাথলেটকে সোনার পদক দিয়ে সম্মান জানানো হতো। একজনকে দেওয়া হলেও কিছুদিন পর জানা গেল সোনার পদকে ভেজাল মেশানো আছে। এত এত প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সোনার পদক জেতার পর যখন জানা যায় সেই পদকে ভেজাল, তখন মন খারাপ হওয়ার কথা। এই কারণে আয়োজকরা যেকোনো ইভেন্ট শুরুর আগেই দেখে নিতেন পদকে আসল সোনা আছে কি না। সে জন্য সহজ পদ্ধতি হিসেবে পদকে কামড় দিয়ে পরীক্ষা করে নিতেন তাঁরা। কামড় দেওয়ার সময় পদকে দাঁতের দাগ পড়লে সেটি আসল হিসেবে ধরে নেওয়া হতো। সে সময় সোনার বদলে দেওয়া হতো পাইরাইট। পাইরাইট এক ধরনের খনিজ পদার্থ, যেটিকে রসায়নের ভাষায় বলা হয় আয়রন সালফাইড। পাইরাইটের হলুদ আভার কারণে মেডেল দেখতে অনেকটা সোনার মতোই দেখা যায়। অনেকে একে নকল স্বর্ণ বা বোকার স্বর্ণও বলে থাকেন। তবে দাঁত দিয়ে কামড় দিলে আসল স্বর্ণের ওপর দাগ পড়বে ঠিকই, কিন্তু নকল স্বর্ণের ওপর না। এ জন্যই খেলোয়াড়রা এমন অদ্ভুত পন্থার উদ্ভাবন করেছিলেন সে সময়। তবে এখন ভেজাল সোনার কথা শোনা না গেলেও খেলোয়াড়দের পদকে কামড় দেওয়ার প্রচলন থেকেই গেছে। কিন্তু পদক কামড়ানো নিয়ে মাঝেমধ্যেই টুকটাক বিপদ দেখা যায়। যেমনটা ঘটেছিল ২০১০ সালে। সেইবার জার্মানির এক অ্যাথলেট তাঁর রৌপ্য পদকে এতটাই জোরে কামড় দিয়েছিলেন যে তাঁর দাঁতের একটা কোনা একেবারে ভেঙে যায়! তবে শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের জন্য আয়োজিত প্যারালিম্পিকের ব্যাপারটা একটু উল্টো। প্যারা পদকজয়ী অ্যাথলেটরা তাঁদের জেতা পদক দাঁত দিয়ে কামড় দেওয়ার বদলে কানে দিয়ে শোনেন। অবশ্য এর পেছনে আছে মহৎ এক কারণ। দৃষ্টিহীন অলিম্পিয়ানরা যাতে সহজেই বুঝতে পারেন তাঁদের পদক সোনা, রুপা, না ব্রোঞ্জ; সে জন্য পদকের মধ্যে দেওয়া হয়েছে স্টিলের বল। যেমন ব্রোঞ্জ পদকে আছে ১৬টি স্টিলের বল, রুপার পদকে আছে ২০টি আর সোনার পদকে ২৮টি। যে কারণে পদক নাড়ালেই বোঝা যায় সেটা সোনা, রুপা, নাকি ব্রোঞ্জের। এটা খুব বেশি আগের কথা নয়। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিক থেকেই কানে শুনে বোঝার এই পদ্ধতি চালু হয়।