kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

[ অ ন্য র ক ম ]

টাইপরাইটার আর্টিস্ট

মালিহা রহমান   

৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাইপরাইটার আর্টিস্ট

গুরুমূতির আঁকা মাদার তেরেসা

তোমাদের অনেকেই হয়তো নাচ শেখো, কেউ বা গিটার বাজাতে যাও, কেউ হয়তো শেখো মূকাভিনয়। এগুলোর সবই শিল্পকলা। যাঁরা কোনো একটিতে বিশেষ পারদর্শী হয়ে ওঠেন আর জীবনভর তার সাধনা চালিয়ে যান, তাঁরা হলেন শিল্পী।

একটা অন্য রকম শিল্পকলার কথা বলি তোমাদের। নামটা হলো টাইপরাইটার আর্ট। খট খট খটাংয়ের টাইপরাইটার, মাউস (ইঁদুর থেকেই কিন্তু) সঙ্গী করে নতুন নামে এ ধরায় এসেছে। একে আমরা বলছি কি-বোর্ড। এ দিয়ে গল্পও জমানো যাচ্ছে। টাইপরাইটার দিয়ে মূলত লেখার কাজই চলে। অফিস-আদালত, সংবাদপত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি টাইপরাইটার ছাড়া ভাবা যেত? অনেক বাড়িতেও থাকত যন্ত্রটি। এতে টাইপ করে নথিপত্র সংরক্ষণ করা হতো। লেখার ওই যন্ত্র দিয়ে কিন্তু ছবিও আঁকা যায়। চোখ কপালে উঠল তো! হ্যাঁ, সবাই নিশ্চয়ই পারে না, সারা পৃথিবীতে হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র নামি টাইপরাইটার আর্টিস্ট আছেন। খুব চমত্কার ছবি আঁকেন তাঁরা। খুব কঠিন একটা শিল্প। আমাদের কাছের দেশ ভারতেও একজন নামি টাইপরাইটার আর্টিস্ট আছেন। নাম তাঁর গুরুমূর্তি। তিনিই এ শিল্পের জনক। বেঙ্গালুরু বাস করেন। একটি ব্যাংকে কাজ করতেন। টাইপরাইটারের সঙ্গে ওঠাবসা বেশি হয় সেখানেই। প্রতিদিন অনেক লেখা তাঁকে টাইপ করতে হতো। আর এটা করতে গিয়েই টাইপরাইটারে ছবি আঁকার পদ্ধতি রপ্ত করেন। সময় পেলেই টাইপরাইটারে আঁকিবুঁকি করতে লেগে যেতেন। ক্রমেই লেখাগুলো হয়ে উঠতে থাকল মানুষের মুখ। কখনো বা গাছ অথবা তেপান্তরের মাঠ। তিনি এক পর্যায়ে পোর্ট্রেট আঁকা শুরু করলেন। পোর্ট্রেট মানে প্রতিকৃতি। গুরুমূর্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডির পোর্ট্রেট এঁকে ফেললেন টাইপরাইটার দিয়ে। চেনা লোকদের দেখিয়ে বেশ সাড়াও পেলেন। সংবাদমাধ্যমে একদিন তিনি খবরও হয়ে গেলেন। বললেন, ‘আমি চাই কঠিন থেকে আরো কঠিন ছবি আঁকতে। এতে ছবি আঁকতে খুব মনোযোগ আর ধৈর্য লাগে। এর বড় একটি কারণ এই যে, টাইপ মেশিনে ইরেজ বাটন নেই। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ নেই। তাই একটু অমনোযোগী হলেই আবার গোড়া থেকে শুরু করতে হয়।’ গুরুমূর্তি প্রায় ৩৫০টি ছবি এঁকেছেন। তাঁর ছবি এতটাই আদর পেয়েছে যে প্রেসিডেন্টরা এখন ছবি আঁকাতে তাঁর দরবারে লাইন দেন। তাঁর কাছে কাজ শিখতেও চান অনেকে। তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই অবহেলার নয়। যে পর্যন্ত না সফল হবে, সে পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর এ জন্য প্রধান অস্ত্রটির নাম ইচ্ছাশক্তি।