kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আমি মীনা বলছি

মীনার ১১টি পর্বে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রমিতা গাঙ্গুলি। শুরুটা ছিল ২০০৫ সালে। প্রমিতা এখন থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। আল সানি তাঁর গল্প শুনেছেন

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমি মীনা বলছি

২০০৫ সালে ক্লাস সেভেনে পড়ি। একদিন মাসি এসে বললেন, ‘মীনা কার্টুনের মীনা হবে?’ আমি ভাবলাম, দুষ্টুমি করছেন। পরে বুঝলাম, মীনার ভয়েস দেওয়ার  জন্য আর্টিস্ট খোঁজা হচ্ছে। আমি আগে থেকেই কার্টুনটির দারুণ ভক্ত ছিলাম। ভাবতেই অবাক লাগছিল, মীনা আমার গলায় কথা বলবে! কয়েক দিন পর এক বিকেলে বাবার সঙ্গে এভিকম নামের একটি অফিসে গেলাম। সেখানে ছিলেন আমিনুর রহমান বাচ্চু আংকেল। তিনি আমার ট্রায়াল (পরীক্ষা) নেওয়া শুরু করলেন। মীনার কয়েকটা ডায়ালগ পড়তে দেওয়া হলো আমাকে। খুব সম্ভবত আমার বলা প্রথম ডায়ালগটি ছিল—‘ও রাজু ইশকুলে যাইবা না? ওহ্ মিঠু।’ একটা পর্যায়ে আমাকে সিলেক্ট করা হলো। কী যে খুশি হয়েছিলাম বলে বোঝাতে পারব না। এরপর একে একে ১১টি পর্বে কণ্ঠ দিয়েছি। এর মধ্যে আছে ‘আজব দেশ’, ‘বন্যায় নিরাপদ থাকি’, ‘জাদুর পাথর’, ‘অটিজম’ ইত্যাদি। মীনা আমার গলায় কথা বলছে—জানতে পারলেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আর শিক্ষকরাও। আমি পড়তাম উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে। স্কুলে গেলেই বন্ধুরা বায়না ধরত—এই একটু মীনার মতো করে কথা বল। এটা বেশ মজার ছিল।

একদিনের রেকর্ডিংয়ে গোল বেধেছিল। মীনার কান্নার একটি দৃশ্য ছিল সেদিন। আমি কোনোভাবেই তা ঠিকঠাক করতে পারছিলাম না। পরে পেছন থেকে কেউ একজন আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় আর তারপর আমি কেঁদে ফেলি। হাসির দৃশ্যেও আমাকে কাতুকুতু দিয়ে হাসানো হয়েছে। আমার মনে হয়, মীনা কার্টুন আবার নতুন নতুন এপিসোড নিয়ে ফিরে আসা প্রয়োজন। একসময় আমাদের এখানে প্রবল শিশুশ্রম ছিল, বাল্যবিবাহ ছিল, এখন অনেকটাই কমে এসেছে। মীনা কার্টুনের এ ব্যাপারে ভূমিকা আছে। এখনো যেসব অসংগতি আছে যেমন শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা, সেসব নিয়ে নতুন করে হাজির হতে পারে মীনা। মীনা কার্টুন কিন্তু শুধু শিশুরাই দেখে না, বড়দের অনেকেই দেখে। এই সেদিন মানে এই করোনাকালেও মীনা কার্টুনের একটা সচেতনতামূলক তিন মিনিটের পর্বে কণ্ঠ দিলাম। হাত ধোয়া, পরিষ্কার থাকা নিয়ে কার্টুনটা।

মন্তব্য