kalerkantho

তোমাদের লেখা

মামার উপদেশ

রাশিদা পারভীন

১১ মে, ২০১৮ ০০:০০



মামার উপদেশ

অঙ্কন : মানব

মিজান মামার কাছ থেকে অনেক গল্প শোনে মৌমিতা। তবে মৌমিতা সত্যি ঘটনা শুনতে চাইলেও মামার কাহিনি ওর কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। অথচ মামা গল্পের শুরুতে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে কাহিনির শানেনুজুল বর্ণনা করেন। তারপর যে গল্পটি শুরু করেন সেটা যে মোটেই সত্যি ঘটনা নয়, সেটা ভালো করেই বুঝতে পারে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া মৌমিতা।

তাই আজ গল্প শুরু করার আগে ও মামাকে বলল, ‘মামা, তুমি যদি আজ কোনো সত্যি ঘটনা বলো, তাহলে আইসক্রিম খাওয়াব।’

‘সত্যিই খাওয়াতে হবে কিন্তু।’

‘হ্যাঁ, এখন সত্যি গল্পটা বলো।’

‘শোন তাহলে, শুরু করলেন মিজান মামা। ‘গত শনিবার বিকেলে আমি ফুটপাতে হাঁটছিলাম। হঠাৎ তোর বয়সী একটা ছেলে সামনে এসে দাঁড়াল। রোগা-পাতলা ছেলেটা ফুল বিক্রি করছিল। পরনে ময়লা কাপড়চোপড়। ও করুণ স্বরে বলল, সে নাকি সকাল থেকে পানি ছাড়া আর কিছুই খায়নি। তখন মনে কর বিকেল ৫টা বাজে। তুই পারবি এতক্ষণ না খেয়ে থাকতে?’

মৌমিতা যেন আঁতকে উঠল, ‘ওরে বাপরে, আমার তো দুই ঘণ্টা পর পর হালকা কিছু না খেলে পা কাঁপে।’

‘তাহলেই বোঝ। আর ছেলেটি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত না খেয়ে আছে।’

‘তুমি তখন কী করলে?’ জিজ্ঞেস করল মৌমিতা।

‘অনেক মায়া হলো আমার। এতটুকু ছেলে না খেয়ে আছে। মনে হচ্ছিল ও এখনই হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে। আমি ছেলেটিকে পাশের একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলাম। আগেই ওর নাম জেনে নিয়েছিলাম। ওর নাম হলো পল্টু। রেস্টুরেন্টের সবাই পল্টুর দিকে কেমন যেন অবজ্ঞার চোখে তাকাচ্ছিল। আমি সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে ওকে একটা টেবিলে বসিয়ে ওয়েটারকে খাবার দিতে বললাম। পল্টু খাওয়া শেষ করেই আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। আনন্দে। আমার মতো কেউ নাকি কখনো ওর সঙ্গে এত ভালো ব্যবহার করেনি। পল্টুকে শান্ত করে ওর হাতে ১০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে বাড়ির পথ ধরলাম।’

পরোপকারী মিজান মামার আজকের গল্পটা মোটেই অবিশ্বাস্য লাগল না। কারণ মৌমিতা ভালো করেই জানে, নিজের ক্ষতি হলেও মামা কারো উপকার করতে পিছপা হন না। তাই মামাকে জিজ্ঞেস করল, ‘মামা, ভ্যানিলা খাবা, নাকি অন্য কিছু?’

‘ভ্যনিলাই আন। আর শোন অসহায় কাউকে দেখলে যথাসাধ্য সাহায্য করবি। ঠিক আছে?

মামার কথায় ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানিয়ে আইসক্রিমের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল মৌমিতা। প্রায় ১৫ মিনিট পর খালি হাতে ফিরে এলো।

‘কিরে আইসক্রিম পাসনি?’ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল মিজান মামা।

‘আইসক্রিম তো পেয়েছিলাম। কিন্তু ফিরে আসার পথে এক ভিক্ষুক মহিলার সঙ্গে দেখা। তোমার ভ্যানিলা আইসক্রিম তাকে দিয়ে দিয়েছি। খুব গরম পড়েছে, তাই না মামা?’ মৌমিতা খুব সাবলীলভাবে উত্তর দিল।


মন্তব্য