kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

দেশ জানো বিশ্ব জানো

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

   

১০ আগস্ট, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

নলগোলার একটি ভাড়া বাড়িতে ১৮৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল সার্ভে স্কুল। ১৮৯৮ সালে সরকার শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের জে এস স্লেটারকে বাংলা প্রদেশে 'টেকনিক্যাল এডুকেশন' উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না সে ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন সার্ভে স্কুলকে ওভারসিয়ার পর্যন্ত উন্নীতকরণের সুপারিশ করেন তিনি। সরকার স্লেটারের রিপোর্টকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯০২ সালে সিদ্ধান্ত নেয়, ঢাকা সার্ভে স্কুলকে 'স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং'-এ রূপান্তর করা হবে। কলেজের জায়গা, ইমারত নির্মাণ এবং যন্ত্রপাতির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয় এক লাখ ৭২ হাজার টাকা। কিন্তু সরকার মাত্র ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ করলেও বাকি টাকা কোত্থেকে আসবে, এ ব্যাপারে কিছুই বলেনি। পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার সময় এগিয়ে আসেন নবাব আহসানউল্লাহ। দান করেন এক লাখ ১২ হাজার টাকা। শুধু অনুরোধ করলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ যেন তাঁর পরলোকগত বাবা নবাব আবদুল গনির স্মরণে কিছু একটা করে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পাশে ১৯০২ সালের আগস্ট মাসে স্কুলের নতুন ভবন স্থাপনের জন্য ভিত্তি স্থাপন করলেন স্যার জন উডবার্ন। ১৯০৪ সালের নভেম্বরের মধ্যেই নতুন স্কুলের কাজ শুরু হবে বলে ঠিক হয়। ১৯০৬ সালে সার্ভে স্কুল স্থানান্তরিত হয় নতুন ভবনে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় এখানে সরকারি ছাপাখানার জন্য যে ভবন নির্মিত হয়েছিল, তা বরাদ্দ করা হয় 'ঢাকা স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর নামে। ১৯১৩ সালে স্কুলে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ডিপ্লোমা কোর্স চালু হয়। কিন্তু তিন বছর পর তা বাতিল হয়ে যায়। ১৯২০ সালে স্কুলটি সরিয়ে আনা হয় বর্তমান ক্যাম্পাসে। ১৯৪৬-৪৭ সালে ১৯০ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। সেশন শুরু হয় ১৯৪৭ সালে। ১৯৪৮ সালে ঢাকা স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রথমে আহসানউল্লাহ স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পরে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নাম রাখার অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ। সে প্রতিষ্ঠানই ১৯৬২ সালে রূপান্তরিত হয় 'ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে, যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি।