kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বনাশের বিনিময়ে পাওয়া ছেলেমানুষির গল্প

ফারজানা জাহান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সর্বনাশের বিনিময়ে পাওয়া ছেলেমানুষির গল্প

মাহমুদুল হক

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মাহমুদুল হকের ব্যতিক্রমী উপন্যাস ‘খেলাঘর’। যারা যুদ্ধে যায়নি, সব কিছু থেকে নিজেকে আড়ালে রেখে বাঁচতে চেয়েছে—এমন এক যুবকের দৃষ্টিকোণ থেকে কাহিনি উপস্থাপন করেছেন লেখক। যেকোনো যুদ্ধে অন্যতম এবং বলা যায় অনিবার্য শিকার হয় নারী। মাহমুদুল হকের ‘খেলাঘর’ উপন্যাসটির কাহিনি তেমন একজন নারীর।

বিজ্ঞাপন

তবে উপন্যাসটিতে সেই নারীর মনোবিকলন-পরবর্তী স্বপ্নময় কয়েকটি দিন এবং এক যুবকের সঙ্গে তার গড়ে তোলা খেলাঘর এবং সেখানে ভাঙনের বর্ণনা আছে। উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র রেহানা, যার ডাকনাম অনেক। ঝুমি ওরফে আন্না ওরফে গাব্বু ওরফে টেঁপি ওরফে লতা। এই মেয়েটির গল্পই ইয়াকুবের জবানিতে বর্ণনা করেছেন লেখক। ১৯৭১ সাল। উচ্চশিক্ষিতা রেহানা গ্রামের কলেজ শিক্ষক ইয়াকুবের আশ্রয়ে কিছুদিন ছিলেন একটা অজপাড়াগাঁয়। ঝুমি রেহানার ডাকনাম। আরো আছে লতা। এটা ছোটবেলার সই পাতার নামের সঙ্গে মিল রেখে রাখা। গ্রামে এসে রেহানা ফিরে যায় তার শৈশবে। সে বলে শৈশবের সব গল্প, কোনোটা সই পাতার সঙ্গে, কোনোটা দাদাভাইয়ের সঙ্গে। কোনোটায় জোনাক পোকার আলো আছে, কোনোটায় কুপিবাতির। একটা মেয়ের জীবনে ঘটে যাওয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনার পরবর্তী গল্প এটা। ট্রমা থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় নেয় শৈশবের সুখ স্মৃতিচারণায়। এই অনর্গল ঘোর লাগা ছেলেমানুষির গল্প আসলে একটা সর্বনাশের বিনিময়ে পাওয়া।

অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক