kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জন্মদিন

মুহাম্মদ মহিউদ্দিন   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



জন্মদিন

যখন ঘুম ভাঙল, তখন হাতঘড়িতে ১০টা। মাহমুদ চোখ কচলে আবার ঘড়ির দিকে তাকাল। ঠিক ১০টাই। তড়িঘড়ি বিছানা থেকে নামল। মাহমুদ কী করবে বুঝতে পারছে না। অফিসে এক ঘণ্টা দেরি। দরজার ফাঁক গলে মেঝেতে পড়ে থাকা আজকের পত্রিকাটা হাতে নিয়ে বাথরুমে ঢুকল। আয়েশ করে পত্রিকা পড়ার মতো সময় তার নেই। বাথরুমের কমোডে বসে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলিয়ে নেওয়াটা নিত্যদিনের কাজ।

টেনশন হলে কোনো কাজই ঠিকমতো হয় না। মাহমুদেরও তাই। পত্রিকা পড়া, বাথরুম সারা কোনোটাই নিয়মমাফিক হচ্ছে না। কলিংবেল বেজে উঠল।

এ সময়ে আবার কে এলো? সকালে তো বুয়া আসে না। ময়লা নেওয়ার লোক—কী জানি। মাহমুদ ভাবছে আর...। আবার কলিংবেল বাজল।

অসমাপ্ত রেখেই মুখে পানির ঝাপটা দিল। পত্রিকাটা বিছানায় ফেলে রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে দরজার কাছে গেল। ফুটো দিয়ে দেখল একজন লোক বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। মাঝবয়সী। মাহমুদ দরজা খুলল। লোকটি সালাম দিল।

—আপনি কি ইকবাল মাহমুদ পাটোয়ারী?

—কেন, বলুন তো?

—বলার জন্যই তো সাতসকালে এসে হাজির হয়েছি। বলতে বলতে লোকটি অনেকটা জোর করেই ড্রইংরুমে ঢুকে পড়লে মাহমুদ বাধা দিতে গিয়েও পারল না।

—স্যরি, পারমিশনের অপেক্ষা না করেই ঢুকে পড়লাম। আসলে আমি বিপদে পড়েছি। লোকটা বলল।

—কী বিপদ?

—আগে বলুন, আপনি ইকবাল মাহমুদ পাটোয়ারী কি না?

—কেন? আপনার পরিচয় কী?

—সবই বলব। তার আগে আপনার পরিচয়টা আমার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

—যদি বলি ইকবাল মাহমুদ পাটোয়ারী নই?

—সত্যি আপনি ইকবাল মাহমুদ পাটোয়ারী নন?

মাহমুদ চুপ করে থাকে। দেয়ালের ঘড়ির দিকে তাকায়।  মোবাইলটা বেডরুমে। মাহমুদের মনে রাগ জমছে। ইচ্ছা করছে লোকটিকে গলাধাক্কা দিয়ে বের দেয়; কিন্তু পারছে না।

—চুপ করে আছেন কেন? লোকটি বলে থামল। পকেট থেকে মোবাইল বের করে টিপল। বেডরুমে মোবাইলটা বেজে উঠল। মাহমুদ বেডরুমের দিকে যেতে চেয়েও থামল।

—যান কল রিসিভ করুন। চুরি-ডাকাতির ভয় নেই।

মাহমুদ লোকটির দিকে তাকাতে তাকাতে ভেতরে গেল। মোবাইলে রিং বন্ধ হয়েছে। মাহমুদ মোবাইল হাতে নিয়ে ড্রইংরুমে এলো। স্ক্রিনের নম্বরটা অপরিচিত।

লোকটি আবার মোবাইল টিপল। মাহমুদের হাতে মোবাইল বেজে উঠল। মাহমুদ কল রিসিভ করতে যাবে তখনই লোকটি বলল, কলটা আমিই দিয়েছি। তাহলে আপনিই ইকবাল মাহমুদ পাটোয়ারী। কিছু মনে করবেন না। আপনার নামটা একটু বেশি  বড়, আমি কী আপনাকে পাটোয়ারী সাহেব বলে ডাকতে পারি?

—হ্যাঁ, বলুন। মাহমুদ রাগত স্বরে বলল।

—আমি হাসান রায়হান। আমাকে হাসান অথবা রায়হান—দুটির যেকোনো একটি ডাকতে পারেন। আমার কোনো আপত্তি নেই।

—কোনোটাই আমার ডাকার ইচ্ছা নেই। আপনি কেন এসেছেন বলুন? আমার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে।

—মাঝেমধ্যে অফিসের দেরি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ রকম এক-আধটু সবার হয়ে থাকে।

—আপনি কেন আমাকে বিরক্ত করছেন বলুন তো?

—ফ্ল্যাটটা তো বেশ বড় পরিপাটি-সুন্দর, একাই থাকেন বুঝি?

—একা না দোকলা থাকি—তা জেনে আপনার লাভ কী?

—লাভ নিশ্চয়ই আছে। এ ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতির অঙ্ক কষে জীবন চলে না।

মাহমুদের বিরক্তির মাত্রা থার্মোমিটারের পারদের চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। পায়চারি করছে সে। লোকটিও ড্রইংরুমে পায়চারি করছে। দুজনই চুপচাপ। লোকটি পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে।

—দিয়াশলাই হবে?

মাহমুদ খটমট করে লোকটির দিকে তাকায়।

—দিয়াশলাই হবে? গলার ভলিউম বাড়িয়ে লোকটি আবার বলে। মাহমুদ কোনো উত্তর দেয় না। রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। লোকটি সিগারেট বের করে দুই আঙুলের মাঝখানে চেপে ধরেছে। পায়চারি করছে আর ঘরের আসবাব দেখছে।

কিছুক্ষণ পর মাহমুদ দিয়াশলাই নিয়ে ফিরে আসে। বাড়িয়ে দেয় লোকটির দিকে। ফস করে একটি সিগারেট ধরায় লোকটি। তারপর খুক খুক করে কেশে বলে, পাটোয়ারী সাহেব, আপনার দিনটা মাটি করার জন্য আমি দুঃখিত।

—ধন্যবাদ, এবার আসুন। বিরক্তি নিয়ে জবাব দেয় মাহমুদ।

—হ্যাঁ, আসছি। লোকটি কয়েক পা গিয়ে আবার ফিরে আসে। আসল কথাই তো বলা হয়নি।

মাহমুদ চোখ তোলে। কপাল কুঁচকায়। শোনার প্রবল আগ্রহ নিয়ে লোকটির দিকে তাকায়। লোকটি চুপচাপ। বলুন।

—বৃষ্টিকে চেনেন?

মাহমুদ চমকে ওঠে। তারপর ও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে প্রশ্ন করে, কোন বৃষ্টি?

—এমন একটা ভাব করছেন যেন চেনেন না?

মাহমুদ কী বলবে বুঝতে পারে না। এর পরও নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, আপনি কোন বৃষ্টির কথা বলছেন?

—যে বৃষ্টি আপনার একাকী জীবনকে মধুময় করে তোলে। যাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান, পার্কে-রেস্টুরেন্টে...। থামে লোকটি।

—মাহমুদর ধমকের সুরে বলে, কী বলতে চান?

—বলতে চেয়েছিলাম আপনি বৃষ্টিকে চেনেন কি না?

—না, চিনি না! মাহমুদ রেগে যায়।

—রাগবেন না, আপনার মঙ্গলের জন্যই এখানে এসেছি। বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছে।

মাহমুদের মাথায় যেন বজ্রপাত হয়। চোখ কপালে তোলে। ভ্রু কুঁচকে লোকটির দিকে তাকায়। —বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছে?

—হ্যাঁ। এবং চিরকুটে লিখে গেছে তার মৃত্যুর জন্য আপনিই দায়ী। পুলিশ লাশ নিয়ে গেছে। আমি চিরকুটটা নিয়ে পালিয়ে এসেছি। বাঘে ছুলে আঠারো ঘা আর পুলিশে ছুলে ছত্রিশ ঘা। পুলিশি জেরায় আমরা কেউ রেহাই পাব না।

—আপনি বৃষ্টির কে হন? মৃদুস্বরে বলল মাহমুদ।

—হাজব্যান্ড। স্বামী দেব।

মাহমুদ রায়হানকে আপাদমস্তক দেখে। আপনি বৃষ্টির হাজব্যান্ড!

—প্রমাণ চান? নাকি পুলিশের হাত থেকে বাঁচার উপায় খুঁজবেন! আমার মনে হয় দ্বিতীয়টাই এখন জরুরি।

—ও হঠাৎ আত্মহত্যা করতে গেল কেন? মাহমুদ বলল।

—প্রশ্নটা তো আমারও। নিশ্চয়ই আপনাদের মধ্যে সে রকম কিছু ঘটেছে? আপনার আর বৃষ্টির সম্পর্কটা কেমন বলুন তো?

—বন্ধুর মতো। আমরা একে অপরের ভালো বন্ধু।

—শুধুই বন্ধু? নাকি...। রায়হান থামে। আপনাদের সম্পর্কের বিষয়টা আমি অনেক আগেই টের পেয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির স্বামী হিসেবে ওকে বাধা দিতে পারিনি। কারণ সব সময় ওর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েছি। ওকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিলাম। ব্যবসায়ী বলে বেশির ভাগ সময় আমাকে ঢাকার বাইরে, দেশে-বিদেশে কাটাতে হয়েছে। হচ্ছে। তাই ওর চলাফেরার স্বাধীনতায় কখনো বাধা দিতাম না। বৃষ্টির প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল। কিন্তু...। একনাগাড়ে অনেকক্ষণ বলে থামে রায়হান।

সুনসান নীরবতা। মাহমুদ কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বেলা ১২টা পেরিয়ে গেছে। সকালের নাশতার কথা মনে নেই। দুপুরে খাবারের সময় হয়ে আসছে। হঠাৎ মাহমুদের মোবাইল বেজে ওঠে। মাহমুদ চমকে ওঠে। মাথা থেকে শীতল রক্ত বেয়ে যেন পায়ের দিকে গড়িয়ে যায়। অফিসের ফোন।

হ্যালো। জি বলছি। না, জানি না। ঠিক নেই। এলে জানাব। রাখি। মাহমুদ মোবাইল অফ করল। রায়হান বুঝতে পারল অফিসের ফোন। এতক্ষণ সোফায় পা তুলে বসেছিল রায়হান। উঠে আবার পায়চারি শুরু করে।

—জীবনে এমন একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হব ভাবতেই পারিনি। মানসম্মান, সমাজ সব যে একই সঙ্গে গেল, হাতে আঙুল মোড়াতে মোড়াতে বলল রায়হান।

—হ্যাঁ, আমিও তাই ভাবছি।

—ভেবে কী হবে? এখন কী করবেন তাই বলুন। আচ্ছা আপনার আর বৃষ্টির মধ্যে কী এমন ঘটেছিল যে বৃষ্টি আত্মহত্যা করতে পারে? বলল রায়হান।

—কই তেমন কিছু তো ঘটেনি।

—তাহলে? সত্যি করে বলুন তো, বৃষ্টিকে ভালোবাসতেন কি না? ওর তো এখন পোস্টমর্টেম চলছে। সত্যি কথা বললে আপনার কোনো সমস্যা হবে না।

পোস্টমর্টেমের কথা শুনে চমকাল মাহমুদ। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, —হ্যাঁ, বাসতাম।

—অন্যের সংসারে যে আপনি বিষফোড়া হয়ে ঢুকেছেন, সেটাও বুঝতে পারেননি?

—দেখুন রায়হান সাহেব, এখন ওসব বলে তো কোনো লাভ নেই। বৃষ্টি তো চলে গেছে। মাহমুদ দুই হাতে মাথা চেপে ধরে সোফায় বসে পড়ে। রায়হান টেবিলের কাছে গিয়ে গ্লাসে পানি ঢেলে পান করে। ফিরে মাহমুদের কাছে এসে বসে। মাথার ওপর সিলিং ফ্যানটা ঘুরছে। তার পরও ঘামছে মাহমুদ।

—ডোন্টওয়ারি পাটোয়ারী সাহেব। আমি তো আপনার পাশে আছি। আফটার অল আমার স্ত্রীকে ভালোবাসতেন। থামে রায়হান। আবার বলে, আপনি বিয়ে করেছেন?

—আমার প্রসঙ্গ থাক। বলল মাহমুদ।

—শুধু এটুকু বলুন, বিয়ে করেছেন কি না?

—হ্যাঁ, করেছিলাম। রাগত স্বরে বলল মাহমুদ।

—করেছিলেন? আর কিছু বলতে হবে না। বৃষ্টি যদি আমাকে ছেড়ে আপনার কাছে চলে আসত তাকে কি গ্রহণ করতেন?

—হ্যাঁ করতাম। কারণ তাকে আমি ভালোবাসতাম এবং বৃষ্টিও আমাকে ভালোবাসত।

—কাল রাতে ঘুমানোর আগে বৃষ্টি কী বলেছিল জানেন? আজ নাকি ওর খুব কাছের বান্ধবীর জন্মদিন। বিকেলে পার্টি আছে। সেখানে তাকে যেতেই হবে। তাই আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে ও অ্যাটেন্ড করবে না।

রায়হানের কথা শুনে চমকায় মাহমুদ। এতক্ষণে মনে পড়ে আজ তার জন্মদিন। বিকেলে বৃষ্টির আসার কথা। দুজনে লং ড্রাইভে যাবে। সাভারে কোনো নয়নাভিরাম বাংলোতে রাত কাটাবে। অনেক মজা করবে।

—কী ভাবছেন পাটোয়ারী সাহেব? বলল রায়হান।

রায়হানের কথায় সংবিৎ ফিরে পায় মাহমুদ।

—ও না, কিছু না। রায়হান সাহেব আপনি বসুন। আমি বাথরুম থেকে আসছি।

মাহমুদ ওর ঘরের দিকে যায়। রায়হান সোফায় পা তুলে আয়েশ করে বসে। মাহমুদ বাথরুমের দরজায় সিটকিনি লাগিয়ে ফোন করে বৃষ্টিকে। বৃষ্টির মোবাইল বন্ধ। মাহমুদের ভয় বেড়ে যায়। বুঝতে পারে রায়হানকে হাতে না রাখলে তার বিপদ হতে পারে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো। মাহমুদ ফ্রিজ থেকে কয়েকটা আপেল এনে রেখেছিল। তাই খেয়েছে দুজন।

—মাহমুদ সাহেব! বৃষ্টিকে আমিও খুব ভালোবেসেছিলাম। সব সময় চাইতাম ও হাসি-খুশি থাকুক। আনন্দে থাকুক। ওর কোনো ইচ্ছাকে আমি বারণ করতাম না। দেশের বাইরে, এমনকি দেশেও ভালো কিছু চোখে পড়লে ওর জন্য কিনে নিতাম। বলতে বলতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রায়হান। দম নেয়। আবার বলতে থাকে—কিন্তু ধরে রাখতে পারলাম না। তাকে এত ভালোবাসতাম! সে ভালোবাসত আপনাকে? যার জন্য আমি ছুটে আসতাম, সে ছুটে যেত অন্যের কাছে। পৃথিবীটা কেমন যেন। আমারও আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না। কিসের অভাব ছিল বৃষ্টির। বাড়ি, গাড়ি, অর্থ—কী ছিল না তার! তার পরও ভালোবাসার খাঁচায় বৃষ্টিকে বেঁধে রাখতে পারলাম না।

হঠাৎ হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে রায়হান। মাহমুদ কী করবে বুঝে উঠতে পারে না। সান্ত্বনা দেয়। সান্ত্বনার বাণী রায়হানের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে না।

কলিংবেল বেজে ওঠে। মাহমুদ বেশ চমকে যায়। রায়হান কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।

—পুলিশ নয়তো? বলল মাহমুদ।

আবার কলিংবেল বেজে ওঠে। মাহমুদ দরজা খুলতে ইতস্তত করে। একবার রায়হানের দিকে তাকায়, আবার দরজার দিকে। কলিংবেল বেজে চলে, মাহমুদ ভয়ে ভয়ে সিটকিনি খুলে চমকে যায়। অপরূপ সাজে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে বৃষ্টি।

—কি ঘুমিয়েছিলে? বলতে বলতে ভেতরে ঢোকে বৃষ্টি।

ড্রইংরুমের সোফায় রায়হানকে বসা দেখে রক্ত শীতল হয়ে যায়। বৃষ্টির মুখ দিয়ে কোনো শব্দই বের হয় না। মাহমুদ ও বৃষ্টি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে রায়হানের দিকে। রায়হান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। মাহমুদও বৃষ্টির কাছাকাছি আসে।

হাসতে হাসতে রায়হান বলে—ইকবাল মাহমুদ পাটোয়ারী সাহেব, আপনার বৃষ্টি আপনারই জন্মদিন পালন করতে ছুটে এসেছে। সারাটা দিন আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। তবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি অকপটে সব কিছু স্বীকার করার জন্য। মহা আনন্দে জন্মদিন উদযাপন করুন বাকি জীবনে। মিসেস বৃষ্টি? বৃষ্টির ফ্যাকাসে চেহারাটা আরো মলিন হয়ে যায়।

কাগজপত্র আমি পাঠিয়ে দেব। আর যা কিছু আপনার পছন্দের সব। মাহমুদ সাহেব, আপনারা ভালো থাকুন।

বেরিয়ে যায় রায়হান। মাহমুদ ও বৃষ্টি খোলা দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে।