kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

বই আলোচনা

মহামারির রাজনীতি

শাহিন কবির   

২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহামারির রাজনীতি

করোনাকালে বাংলাদেশ (সংক্রমণের দশ মাস) : ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রকাশক : দি ইউনিভার্সেল একাডেমি। প্রচ্ছদ : অরূপ মান্দি। দাম : ৬০০ টাকা

মহাকবি হোমারের ‘ইলিয়াড’ কাব্যের কথা আমরা জানি। গ্রিসের বীর যোদ্ধাদের এক অপূর্ব মাহাত্ম্যগাথা এই কাব্য। ট্রয় নগরী ধ্বংস করা বিজয়ী গ্রিকদের কথা কবি লিখেছেন। সেই বীররাই পরবর্তী সময়ে এক মহামারিতে প্রায় নিশ্চিহ্নের পথে দাঁড়িয়েছিল। তখন চলছে গ্রিক ও স্পার্টাদের মধ্যে যুদ্ধ। গ্রিকরা এগিয়েই ছিল। কিন্তু ঠিক এই সময় টাইফয়েড বা ভাইরাস জ্বরে প্রায় এক লাখ গ্রিক মারা যায়, যা মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ। এই ঘটনা খ্রিস্টপূর্ব ৪২৯-৪২৬ সালের। এটিই সম্ভবত পৃথিবীর প্রথম মহামারি। ওই যুদ্ধে স্পার্টারা বিজয়ী হয়। ফলে মহামারি কখনো কখনো একটা জাতির ইতিহাস পাল্টে দিতে পারে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ‘করোনাকালে বাংলাদেশ’ বইটি পড়তে গিয়ে এই কথাগুলো মাথায় এলো। মোশাররফ মূলত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক। ভূতত্ত্ব বিষয়ে তাঁর একটি মৌলিক উদ্ভাবন রয়েছে। এটি ‘হোসেনস মেথড অব এক্সটেনশন’ নামে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীও ছিলেন।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এবং এটা মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণমূলক বই এটি। এতে ১৬টি অধ্যায় রয়েছে। একটি অধ্যায়ের শিরোনাম, ‘মন্ত্রী-নেতাদের অতিকথন ও জনমনে বিভ্রান্তি’। এই অধ্যায়টি বেশ কৌতুককর। যেমন একজন মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘করোনা যত বড় শক্তিশালী হোক, আমরা তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।’

একটি অধ্যায়ের নাম ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি’। এই অধ্যায়ে বাংলাদেশে কিভাবে ক্রমান্বয়ে করোনা ছড়াল তার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি অধ্যায় ‘করোনা প্রতিষেধক টিকা’। এখানে টিকার উদ্ভাবন, উৎপাদন ও দাম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই তথ্য বেশ কৌতূহলের যে দেশ ভেদে টিকার দাম আলাদা। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ‘কোভিশিল্ড’ ইউরোপ পাচ্ছে ২.১৯, ফিলিপাইন ২.৫০, যুক্তরাষ্ট্র ৪, ভারত ৩.২০ এবং বাংলাদেশ পাচ্ছে ৫ ডলারে। পরিশিষ্টে করোনাভাইরাসে যেসব বিশিষ্টজন মারা গেছেন তাঁদের আলাদা তালিকা দেওয়া আছে। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতির সপ্তাহওয়ারি বিবরণ রয়েছে। এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, দেশে সংক্রমণের ২৫তম সপ্তাহে (২৪-৩০ আগস্ট ২০২০) পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ছিল সর্বোচ্চ, ২৫.৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ছিল তৃতীয় সপ্তাহে (২৩-২৯ মার্চ ২০২০) ১০.৪১ শতাংশ। এভাবে এই বইয়ে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। বলা যায়, এই বইটি বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের এক দলিল হয়ে থাকবে।