kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

পেশা

মাকিদ হায়দার

২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



পেশা

অঙ্কন : মাসুম

সে  হয়তো এমনি এমনিই বলেছিল, দিন এমনভাবে যাবে না। রায়হান শুধু শুনেছিল, রীনার কথার কোনো প্রতিবাদ না করে বলেছিল ফিরে আসি, তারপর দেখা যাবে। রীনা জানতে চেয়েছিল, তাহলে তুমি সত্যি সত্যিই যাবে? বললাম তো, আজ রাতে আরিফুল আর আমি কুষ্টিয়া হয়ে নদীয়ায় চলে যাব, ওপারে থাকবে আমাদের বন্ধু হামিদ।

রীনা আর কোনো কথা না বাড়িয়ে শুধু বলেছিল, ঠিকমতো ফিরে এসো, ধরা যেন না পড়ো। হরিতলার রহিম, সে তো মারা গেল বিএসএফের গুলিতে। লাশ নাকি ফিরিয়ে দিয়েছিল দুই দিন পর। তার আগে গরু নিয়ে আফজাল আর ইউন্যা এপারে এলেও আসতে পারেনি রহিম, কাঁটা তারে বেঁধে গিয়েছিল, সাবধানে যেয়ো।

সেই সন্ধ্যায় এইটুকু কথা হয়েছিল দুজনার মধ্যে। নিজ বাড়িতে ফিরে এসে রীনার একটি কথাই বারবার মনে হয়েছিল, গরু চোরাচালানি ছাড়াও তো ওষুধ, জামা-কাপড়, গয়না, কত কিছু করার থাকলেও রায়হান, হামিদ, আরিফুল কেন যে গরু—নিজেকে একটু ভাবনার জগৎ থেকে সরিয়ে এনে অন্য কথা ভেবেছিল, কী হবে ভালোবেসে গরুচোরকে, তার চেয়ে পাড়ার সাইফুল হুজুর অনেক দিন আকারে-আভাসে ইতিউতি দিয়েছিল, তবে হুজুরের ইতিউতিতে প্রথম দিকে মোটেই সাড়া দিইনি, কেন দেব—সাইফুল তো কালো কুচকুচে আবলুশ কাঠের রং নিয়ে এসেছে পৃথিবীতে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য তার কিছুই করার নেই, যেমন ফরসা উজ্জ্বল রং নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে রায়হান।

সেই সন্ধ্যায় এর পরেরটুকু না ভেবে শুধু ভেবেছিল, সাইফুলকেও হাতে রাখা যায়, যদি রায়হান বিএসএফের গুলিতে চিরতরে হারিয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে হুজুর। হুজুর যেহেতু ছোটকাল থেকেই তাকে আরবি পড়িয়েছে, দ্বিন-দুনিয়ার কথা বলেছে এবং মেয়েদের আদব-আকিদার ভেতরে মানুষ হতে হয়, তা ছাড়া হুজুরের বংশপরিচয় ভালো, মোল্লা বংশের ছেলে। এমনকি আরবি লাইনে আইএ নয়, বিএ পাস করেছে বলেছিল মাস কয়েক আগে। শেষ অবধি নিজেকে সে এই ভেবে সান্ত্বনা দিয়েছিল হাতের পাঁচ নয়, হাতের দুই, দুই হাতে থাকুক—ডানে-বাঁয়ে। এসব সাতপাঁচ ভাবনার ভেতরে সে নিজেকে আবিষ্কার করেছিল, সে যেন ওই রায়হান কিংবা হুজুরের না হয়ে হয়েছে অচেনা-অজানা অন্য কারো। এমনকি সে এ দেশের নয়, অথবা সে বহুজনের অথবা সে কারোরই নয়, সে শুধু থাকবে আল্লাহর ওপর নির্ভর করে, আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে সব তাঁর নিজস্ব। যদি তা-ই না হবে, হুজুরের বড় ভাই বিবাগী হয়ে কোথায় যে হারিয়ে গেল? কেউ কেউ এসে খবর দিয়েছে, জলিল মোল্লাকে দেখে এলাম লালন শাহর মাজারে, তখনই সেখানে ট্রেনে হোক, বাসে কিংবা নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছে সাইফুল, গিয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে এসেছে সুজানগরে। মা জানতে চেয়েছেন, জলিলের কোনো খবর পাওয়া গেল কি না? বাবা শুধু মন্তব্য করেছেন, সুনীল ঘরামির মেয়েটি তোমার ছেলেকে ঘরছাড়া করেছে। বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শুধু বলেছেন, জলিলের তো জানা উচিত ছিল, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি। সুনীলের মেয়েটি মোটামুটি দেখতে হলেও কালো জলিলের চেয়ে অনেক ভালো।

আরিফুল আর রায়হানের জন্য ওপারের বর্ডারে অপেক্ষায় ছিল হামিদ। সেদিন এপার থেকে ওপারে যেতে অসুবিধা হয়নি। ওই দিন আগের ভারতীয় বর্ডার গার্ড পরিবর্তন হয়ে নতুন বর্ডার গার্ডদের বর্ডারে এসে দায়িত্ব বুঝে নিতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সেই সময়টুকুর ভেতরে এপারের গরু চোরাচালানিরা নিশি রাতে, বিশেষত রাত ১২টা-১টার দিকে দুজন দুজন করে এপার থেকে ওপারে পাড়ি দেয়, ওপারে যাওয়ার পথে যদি বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে, কিছু বিনিময়ের পর চোরাচালানিদের ওরা ছেড়ে দেয়, কেননা ভারত সরকার নাকি বলে দিয়েছে চোরাচালানিদের কাছে ডলার, পাউন্ড, বাংলাদেশের টাকা যা-ই আসুক না কেন, সবই ভারতের। উপরন্তু গরু চোরাচালানের সময় চোরাচালানিকে মেরে যদি গরুগুলো এ দেশে রেখে দেওয়া যায়, তাহলে ফরেন কারেন্সিও রইল, সেই সঙ্গে রইল গরুগুলো।

সবই শোনা কথা—রায়হান, হামিদ, আরিফুলের। রায়হানরা এবার আর কৃষ্ণনগরে যাবে না, ওখানে নাকি ভারতীয় পুলিশ আর গোয়েন্দারা প্রতি হাটে সাদা কাপড়ে ঘুরে বেড়ায়। হামিদ তো একবার ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে গিয়েছিল, পুলিশ পিছু ছাড়েনি। হাট থেকে অনেক দূরে এসেও রক্ষা পায়নি। তবে রক্ষা পেয়েছিল মোটা অঙ্কের বিনিময়ে। সেই দিনই হামিদ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল আর গরু চোরাচালান না করে বরং আরিফপুর হাটে শাড়ি-লুঙ্গির ব্যবসা করা অনেক ভালো। কুমারখালীতে তার ফুফুর ছেলে শাড়ি-লুঙ্গির ব্যবসা করে। ছোট বাজারে এক খণ্ড জমি কিনে বাড়ি বানিয়েছে। ফুফাতো ভাই, তিনিও চোরাচালানি করেন, বছরে মাত্র দুইবার। একবার রোজার ঈদে, আরেকবার দুর্গাপূজার সময়। তবে দুর্গাপূজার সময় এপার থেকে ঢাকাই জামদানি ওপারে নিয়ে গেলে বেশ অনেক দামে বিক্রি করা যায়। আর রোজার ঈদের সময় কৃষ্ণনগর রানাঘাট থেকে ওরাই এনে দিয়ে যায়, তারাই, যাদের বাড়িঘর ছিল একদা পাবনায়, যদিও তাদের দু-এক ঘর স্বজন এখন আছে লাহিড়িপাড়ায়, পুষ্পপাড়ায় কিংবা দোগাছি, হরিতলায়।

হরিতলার বিষ্ণুপদ হাটে হাটে কাপড়ের ব্যবসা করে। দোগাছিতে তার পৈতৃক বাড়িটাকে ক্যালেসতারা টিন ফেলে দিয়ে  যে বছর বানিয়েছিল, সেই বছরই সে দোগাছি ইউনিয়ন কাউন্সিলের মেম্বার হয়েছিল। বিষ্ণুর ধারণা, ঈশ্বর তার দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছেন। মা লক্ষ্মী এখন ঘরে, গণেশ ঠাকুর আছেন তাঁর সঙ্গে। সেই সঙ্গে আছে মাঝে মাঝে চোরাচালানের নেশাটা। আরিফপুরের হাটে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বিশাল গরুর হাট বসে, সেই হাটের ইজারাদার আকবর গরুর দালাল, বিষ্ণুপদের যেমন পূর্বপরিচিত, তেমনি রায়হানেরও আকরব দালালের সঙ্গে একদিন কিছুটা বচসা হয়েছিল। রায়হান ইজারার টাকা বেশি দাবি করেছিল। কেননা সেবার রায়হান ভারত থেকে ৮-১০টি গরু এনে হাটে তুলেছিল এবং ভালো দামেই বিক্রি করেছিল আকবর দালালের মাধ্যমে। আর সেই দিনই বিষ্ণুপদর সঙ্গে রায়হানের পরিচয়। রায়হানকে বিষ্ণু বলেছিল, ‘আপনি যখন এপার-ওপার করেন, গরু আনার সময় নদীয়ার বড় বাজারের নিখিল ঘোষের দোকান থেকে শাড়ি এনে আমাকে দিতে পারেন।’ নিখিলের বাড়ি ছিল দোগাছিতেই। এখন নদীয়ায়। বিষ্ণু আরো বলেছিল, ভারতীয় শাড়ির নাম শুনলেই আমাদের মা-বোনেরা কেনার জন্য অস্থির হয়ে যায়, আর সেই ফাঁকে লাভের অঙ্কটাও বেড়ে যায়। এখন রায়হান ভাই একটু ভেবে দেখবেন। বিষ্ণু আর কথা বাড়ায়নি। কথা বাড়িয়েছিল আকবর দালাল। বলেছিল, রায়হান ভাই, বিষ্ণু কথাটি ভালোই বলেছে। এই আরিফপুর হাটে ভারতীয় মসলা জিরা, গুজরাত, জায়ফলসহ অনেক মসলাপাতি কেনাবেচা হয়, আপনি শাড়ি এনে শুধু আমাকে জানাবেন, বিষ্ণুকে আমিই খবর দেব, ওর বাড়ি আর আমার বাড়ি পাশাপাশি। ভেবে দেখি, বলেছিল রায়হান।

মুখে ভেবে দেখি বললেও ভেতরে ভেতরে সে খুশি হয়েছিল আকবর দালালের প্রস্তাবে। পরের হাটের দিন ছিল মঙ্গলবার। সেই মঙ্গলবারেই পাকাপাকি সিদ্ধান্ত বিষ্ণুকে জানিয়েছিল রায়হান। সে এখন থেকে ঢাকাই জামদানি আর কাঁসা-পিতল ওপারে নিয়ে যাবে, তবে তার আগে ওপারে গিয়ে নিখিলের সঙ্গে কথাবার্তা পাকাপাকি করার পর সে কাঁসা, পিতল, শাড়ি, এমনকি যদি সোনা পায় সোনা নিতেও তার আপত্তি থাকবে না। তবে বিএসএফ! একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আকবর দালাল আর বিষ্ণুকে জানিয়ে দিল—চোরাচালানের খাতায় যখন নাম লিখিয়েছি, পেশা হিসেবে যখন গ্রহণ করেছি, পাট, চামড়া, মেয়ে মানুষ কোনো কিছুই বাদ দেব না। শুধু লক্ষ রাখতে হবে ওপারের গার্ডদের গতিবিধি। তবে গরুপ্রতি ৫০০ টাকা আবার কখনো সাত-আট শ টাকাও পড়ে যায়, যদি ওপারের বড় সাহেবের চাহিদা বেশি থাকে। তবে গরু ৮-১০টি এপারে আনলে পরে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি করা যায়। ভাগ্যিস, হিন্দুরা গরু খায় না।

রায়হান প্রথম চালানে মাত্র আধামণ ভাঙাচোরা কাঁসার থালাবাটি, পানির কলস এবং সের পনেরো পিতলের থালা, পানির জগ নিজের মাথায় নিয়ে শেষ রাতে পার হয়েছিল দুই দেশের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী। নদীর ওই পারে যখন গিয়ে সে পৌঁছেছিল তখন সূর্যোদয় হয়নি, খুবই নির্বিঘ্নে বাঁশ বাগানের মাঝামাঝি যেতেই হঠাৎ একটি শিয়াল তার সামনে দিয়ে পালাল, তখন রায়হানের মনে হয়েছিল সামনে দিয়ে শিয়াল, বেজি পালানো অলক্ষণ। মা বলেছিলেন, কথাগুলো অনেক দিন আগে এবং তিনি আরো বলেছিলেন, ওই সব জীবজন্তু সামনে দিয়ে যাওয়ার পর অন্তত যেকোনো গাছের আড়ালে ১০-১৫ মিনিট নিজেকে লুকিয়ে রাখতে হয়। বিপদ পার হয়ে যাওয়ার পর যেতে হয় গন্তব্যে।

মায়ের কথা অনুসারে রায়হান নিজেকে লুকিয়ে ছিল বাঁশ বাগানের আরো গভীরে। একটি পুরনো দিনের এক পায়ে দাঁড়ানো তালগাছ আর একটি ঝুড়িওয়ালা বটপাকুড়ের গাছের আবডালে। বিপদটা তেমন কিছুই নয়, আরো জনাকয়েক গরু চোরাচালানি ওই পথ ধরে এগিয়ে গিয়েছিল নদীর দিকে। সূর্য ওঠার বেশ কিছুটা পরে। রায়হান কাঁসা-পিতলের বস্তা নিয়ে সরাসরি গিয়ে উঠেছিল তার পূর্বপরিচিত নিখিল ঘোষের বাড়িতে।

সারা দিন ঘুমিয়ে বিকেলের দিকে কাঁসা-পিতলগুলো বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছিল সেখান থেকে ঘোষ রেখেছিল শ খানেক টাকা। রায়হান নিজেও ভাবতে পারেনি পাঁচ-ছয় শ ভারতীয় রুপি খুব অল্প সময়ের ভেতরেই হাতে আসবে। নিখিল তখনই একটি নতুন প্রস্তাব জানাল। এরপর যখন আসবে তখন যত ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইলের জামদানি এবং ঢাকার রূপগঞ্জের জামদানির ওড়না আর ব্লাউজের কাপড় পারলে সঙ্গে নিয়ে আসিস। সামনেই দুর্গাপূজা। নিখিলের প্রস্তাবে রায়হান খুশি হয়ে বলেছিল, আমার কাছে কয়েক হাজার টাকা আছে, সেগুলো দিয়ে ছাগল কিনে নিয়ে এলে কেমন হয়, মাসখানেক পরই কোরবানির ঈদ। মন্দ হয় না, জানাল ঘোষ। কয়েকটি ছাগল, আর কয়েক শ ভারতীয় শাড়ি কিনে পরদিনই মাঝরাতে ফিরে এলো আবু রায়হান। কয়েকটি শাড়ির ভেতরে একটি বেনারসি শাড়িও কিনেছিল তার প্রেমিকার জন্য। রীনার জন্য। এবং সে কল্পনার জগতের দিব্যচক্ষে দেখতে পেয়েছিল রীনা তার গৃহিণী হয়ে এসেছে দোহারপাড়ায়। লাল টুকটুকে বেনারসি পরে। হামিদ, আরিফুল সবাই আছে তার বাড়ির উঠানে।

রীনা সে রকম কোনো স্বপ্নই দেখেনি, বরং সে স্বপ্ন দেখছে পরকালের। পরকালে যেতে হলে তাকে হুজুরের হাত ধরাটাই ভালো, চোরাকারবারির হাত থেকে। নিজেকে ছাড়িয়ে সে হুজুরের দিকেই চোখ রাখবে। হুজুরের গৃহিণী হলে নিশ্চয়ই সে একদিন না একদিন বেহেশতের মেওয়া বাগানে তার স্বামীর হাত ধরে কলকল ঝরনার পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে গাছ থেকে ছিঁড়ে আনবে আঙুর, আপেল, লাল টকটকে ডালিম। কল্পনার দোলনায় রীনা যেমন দুলেছিল, রায়হানও দুলেছিল রীনাকে নিয়ে শিগগিরই—শিগগিরির পরের কথাটুকু না ভেবে, ভেবেছিল কাল বিকেলে কাতান শাড়িটা রীনাকে দেখিয়ে আনবে এবং সেই সঙ্গে জানিয়ে আসবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তার মামাকে দিয়ে প্রস্তাব পাঠাবে রীনার মায়ের কাছে। এর মধ্যে একদিন সুযোগ-সুবিধা বুঝে রীনাকে জানাবে বিয়ের পর কলকাতায় তাকে নিয়ে যাবে চিড়িয়াখানা দেখতে। তারপর ঘর দেখবে, আরো দেখবে সিনেমা, থাকবে হোটেলে, তবে দু-এক রাত কাটাবে তার ব্যবসায়ী পার্টনার নিখিল ঘোষের বাড়িতে। তারপর যদি কোনো দিন সুযোগ-সামর্থ্য হয় রীনাকে নিয়ে সে যাবে আগ্রার তাজমহল দেখাতে। দিল্লি শহরের আনাচকানাচে রাজা-বাদশাহদের বাড়িঘর। রায়হানের কল্পনা বাস্তবে পরিণত হয়েছিল পরের মাসে ৫ তারিখে। টাকা-পয়সা, সোনা-গয়না ভালোই খরচ করেছিল আবু রায়হান। আর তখনই তার মনে হয়েছিল মাগি মানুষের জন্য এত টাকা-পয়সা খরচ না করলেও পারতাম। যাই হোক, খরচকৃত টাকা তাকে যেভাবেই হোক ফিরিয়ে আনতে হবে।

নিখিল ঘোষকে বিয়ের শুভ সংবাদটা জানিয়েছিল রায়হান। নিলিখ বলেছিল, বউদিকে নিয়ে চলে আয় আমার বাড়িতে। নিখিলের সব কথাই রেখেছিল রায়হান। এমনকি রীনাকে যেদিন নদীয়ায় রায়হান নিয়ে গিয়েছিল, সেদিন পথে কোনো বিপদ-আপদ ঘটেনি। দুই পারেই আছে ঘাড়ে ধাক্কা। শয্যা পেটের ব্যবস্থা, তবে অর্থের বিনিময়ে। ওপারে ঘোষ অপেক্ষায় ছিল নবদম্পতির এবং যথারীতি নিজের বাড়িতে না নিয়ে গিয়ে রীনাকে নিয়ে গিয়েছিল এক অন্ধকারজগতে। রায়হানের একান্ত ইচ্ছায় তার নেশা আর পেশা চোরাচালানি।

এবারের চালানিতে সে পেয়েছিল ৬০ হাজার টাকা, নিখিল পেয়েছিল ভারতীয় রুপি ১৫ হাজার মাত্র।