kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

লুইস গ্লিকের কবিতা

অনুবাদ : ফাহমিদা দ্যুতি

১৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লুইস গ্লিকের কবিতা

ইচ্ছে

তোমার ইচ্ছের কথা বলার সেই সময়টা মনে আছে?

 

আমি অনেক কিছুই ঠিক করি মনে মনে।

 

সে সময় আমি প্রজাপতি সম্পর্কে তোমায়

মিথ্যে বলেছিলাম। আমার সব সময় তোমার

ইচ্ছের কথা জানতে ইচ্ছে করত।

 

আমার কি ইচ্ছে ছিল তুমি জানো?

 

আমি জানি না। আমি যে ফিরে এসেছি,

যেভাবেই হোক শেষে আমরা একসঙ্গে হয়েছি,

হয়তো এই।

 

সব সময় যেমন চেয়ে থাকি তেমনই চেয়েছি।

আমি আরেকটি কবিতা চেয়েছি।

 

রাতের পরিভ্রমণ

এই মুহূর্তেই তুমি পাহাড়ি ওয়াশিজের

লাল বেরিগুলো এবং অন্ধকার আকাশে

পাখিদের রাতের পরিভ্রমণ

আবার দেখতে পাও।

 

মৃতরা যে এসব দেখবে না

ভাবতেই আমার মন ভারী হয়ে ওঠে,

আমরা যা কিছুর ওপর নির্ভর করি

সবই বিলীন হয়ে যায়।

 

তাহলে সান্ত্বনার জন্য আত্মা কী করবে?

আমি নিজেকেই বলি, হয়তো আত্মার

এসব আনন্দের দরকার হবে না;

হয়তো অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়াই যথেষ্ট,

সেটা কল্পনা করাও কঠিন।

 

সার্সির দুঃখ

শেষে তোমার স্ত্রীর কাছে আমার পরিচয় দিয়েছি

যেকোনো দেব-দেবী যেভাবে দিয়ে থাকে

ইথাকায় তার নিজের বাড়িতে,

নিরাকারে শুধু কণ্ঠের মাধ্যমে :

কাপড় বোনার কাজটা সে থামিয়ে দিল

প্রথমে ডান দিকে, পরে বাম দিকে মাথা ঘোরাল

অবশ্য কণ্ঠের আওয়াজের উৎস কোনো 

বস্তুতে খুঁজতে যাওয়াটা আশাহীন চেষ্টাই রয়ে গেল :

আমার সন্দেহ হচ্ছে, এখন যা জানে তা সত্ত্বেও

সে তাঁতের কাছেই ফিরে যাবে।

তার সঙ্গে তোমার আবার যখন দেখা হবে

তাকে বলো, কোনো দেব-দেবী এভাবেই বিদায় জানায় :

আমি তার মাথার মধ্যে চিরতরে থাকতে পারলে

আমি তোমার জীবনেও চিরতরে থাকতে পারব।

 

অতীত

দুটো পাইন ডালের মাঝখান দিয়ে

হঠাৎ চলে আসছে আকাশের হালকা আলো,

দূরের পালকের মতো আকাশের

 

দীপ্তিমান উপরিভাগে পাইনের সুচালো পাতার

ছবি আঁকা হয়ে যাচ্ছে।

 

বাতাসের গন্ধ নাও। সাদা পাইনের গন্ধ পাবে,

গন্ধটা সবচেয়ে তীব্র হয়

পাইনগাছের ভেতর দিয়ে বাতাস বয়ে গেলে

পাইনের গায়ে বাতাস যে শব্দ তৈরি করে তাও বড় অদ্ভুত

চলচ্চিত্রে শোনা বাতাসের মতো। 

 

ছায়াগুলোও নড়াচড়া করছে। দড়ি 

থেকে শব্দ তৈরি হচ্ছে যেমন শব্দ দড়ি থেকে হয়ে থাকে।

এখন যা শুনবে সে শব্দ নাইটিঙ্গেলের, কর্ডাটা,

পুরুষ পাখি নারী পাখির প্রণয় প্রার্থনা করছে—

 

দড়ি বদল হয়ে যায়। দুটো পাইনগাছের মাঝে

শক্ত করে বাঁধা দোলনা-বিছানা

বাতাসে দোল খায়।

 

বাতাসের গন্ধ নাও। এটা সাদা পাইনের গন্ধ,

 

যে কণ্ঠটা শুনতে পাচ্ছ সেটা আমার মায়ের কণ্ঠ

নাকি গাছের মধ্য দিয়ে বাতাস বয়ে গেলে

গাছেরা যে শব্দ তৈরি করে এটা সেই শব্দ,

 

কারণ শূন্যের ভেতর দিয়ে বয়ে গেলে বাতাস

আর কী শব্দই বা তৈরি করতে পারে?

মন্তব্য