kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

ফুলের ঘ্রাণ

হানযালা হান

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পপি ফুলের ঘ্রাণ, কেবলি স্বপ্নে দেখেছি, হয়তো দূরে কোনো নদীর তীরে।

ব-হু-দূ-র সাগর থেকে জাহাজের হুইসেল শোনা যায়, আদৌ জাহাজ ছিল নাকি? সমুদ্র নেই যেহেতু।

হয়তো তা স্বপ্ন নয়, খুব বেশি দূর নয়—তবু দূর মনে হয়।

টকটকে রক্তিমগ্রস্ত সন্ধ্যা—কেবলি ব্যথা কাটে—বেদনা বাড়ায় তবু, হতে পারে কোনো এক ফুল—তবে তা ফুল নয়—এক মানবীর মন শুধু, উঁচু পাহাড়ে দাঁড়ালে ঠিক দেখা যায়, কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে উড়ে আসা বাতাস শত শত নদীবনবাগানের সুগন্ধ মেখে বয়ে যায়, জ্বরের ঘোরে আদুরে আদুরে এক মায়াময় ছায়া যেন।

জাহাজের ভেতর থেকে কেউ হাতছানি দেয় নাকি? কোমল শুভ্র সেই হাত, একবার ছুঁয়েছিল, প্রথম জোছনা দেখার মতো আজও সেই হাতখানি ডাকে, না দেখেও মনে হয়— ভিনদেশি জাহাজের যাত্রী সে, মৃদ হেসে বলেছিল—‘যাবে নাকি সাথে?’

কতো কতো কথা হায়, মরে যায়, একটিও হয়নিকো বলা, তবু সে বুঝে গেল যেন সব—চাতক যেমন বোঝে মেঘের রব, একবার হাত তুলে ইশারা, যোজন যোজন দূর থেকে হয়ে গেল বোঝাপড়া।

ছুটে চলা ট্রেনের চোখে যেমন ঝাপসা সব দৃশ্য, তার চেয়েও অধিক গতি, তবু মনে হয় একটু থামুক, একবার ছুঁয়ে দেই অঘ্রানের ঠাণ্ডাজলে এই কোমল পদ্মপাপড়ি, তা আর হয় না এই চাবুক খাওয়া ঘোড়ার।

ফিরে গেল ভিনদেশি নাবিকেরা, রয়ে গেল হাতের ইশারা

আসলে এ হাত নয়, নয় কোনো তরণি, হতে পারে এক স্মৃতি গোপন, লুকিয়ে রেখেছে প্রকৃতি, তার আর নেই সময়, অন্য গ্রহের ডাক, দূরগামী আকাশের তারার মতো বহুদিন পর পর যায় দেখা।

মন্তব্য