kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্বসাহিত্য

২২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বসাহিত্য

গুই মিনহাই

কারাবন্দির কাব্য

 

কারাবন্দি চীনা-সুইডিশ লেখক ও প্রকাশক গুই মিনহাইয়ের একটি কাব্য সংকলন প্রকাশিত হয়েছে সুইডেনে। কবিতাগুলো চীন থেকে গোপনে সুইডেনে পাচার করা হয়েছিল। হংকংভিত্তিক পাঁচ প্রকাশকের অন্যতম মিনহাই। চীন ও সুইডেনের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। যদিও চীনা কর্তৃপক্ষ দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। মিনহাইয়ের প্রকাশিত বইয়ে চীনের রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যও থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্টকহোম ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সুইডেন থেকে প্রকাশিত ‘আই ড্র আ ডোর অন দ্য ওয়াল উইথ মাই ফিঙ্গার’ নামের কাব্য সংকলনটিতে ১১টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো জেলখানায় থাকাকালে মিনহাই তাঁর স্মৃতিতে ধরে রাখেন। পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মুক্তি মিললে তা লিপিবদ্ধ করে মেয়ে অ্যাঙ্গেলা গুইয়ের মাধ্যমে চীনের বাইরে পাঠান। অ্যাঙ্গেলা তাঁর বাবার মুক্তির জন্য প্রচার চালাচ্ছেন।

সিটি লাইটস

প্রাণ পেল সিটি লাইটস

কবি লরেন্স ফের্লিংগেটি ও পিটার ডি মার্টিনের হাত ধরে ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে আত্মপ্রকাশ করেছিল সিটি লাইটস নামর গ্রন্থবিপণি ও প্রকাশনা। পিটার দুই বছর পরই সরে যান। ফের্লিংগেটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশ করেন তরুণ কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের প্রথম কবিতার বই ‘হাউল অ্যান্ড আদার পোয়েমস’। বিপুল প্রভাব বিস্তারকারী বইটি প্রকাশের কারণে ফের্লিংগেটি অশ্লীলতার দায়ে বিদ্ধ হয়ে বিচারের মুখোমুখি হন, যা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে আজ হয়ে উঠেছে কিংবদন্তি। বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের জেরে বন্ধ হয়ে যায় বিপণিটি। ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় সিটি লাইটসের প্রধান নির্বাহী এলেন কাটজেনবার্জার অনলাইনে পাবলিক ফান্ড তৈরির আবেদন জানান। তাঁদের প্রয়োজন ছিল তিন লাখ মার্কিন ডলার। সবাইকে চমকে দিয়ে তিন দিনের মধ্যে সিটি লাইটসের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সাড়ে চার লাখেরও বেশি ডলার সংগ্রহ করে দিয়েছেন! সিটি লাইটস তরফে জানানো হয়েছে, এই দান তাঁদের পক্ষে এই মুহূর্তে যথেষ্টরও বেশি। আবারও তাঁরা নতুন উদ্যমে সবার মাঝে ফিরে আসবেন—এমন আশার বাণী শোনালেন।

ফিলিস রোজ

প্যারালাল লাইভস

মার্কিন লেখক, সাহিত্য সমালোচক, প্রাবন্ধিক ফিলিস রোজের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘ওম্যান অব লেটারস : আ বায়োগ্রাফি অব ভার্জিনিয়া ঊলফ’। ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ লেখক ভার্জিনিয়া উলফের এই জীবনীগ্রন্থটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি ছড়ান। বইটি দেশটির ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নাম লেখায়। তবে রোজের সবচেয়ে আলোচিত গ্রন্থটি হচ্ছে ‘প্যারালাল লাইভস : ফাইভ ভিক্টোরিয়ান ম্যারেজেস’। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত এ বইতে ফিলিস রোজ ভিক্টোরিয়ান যুগের পাঁচজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের দাম্পত্যের ইতিহাস নিরীক্ষণ করেছিলেন। সেই পাঁচ ব্রিটিশ হলেন টমাস কার্লাইল (এবং তাঁর স্ত্রী জেন ওয়েলশ), জন রাস্কিন (এবং তাঁর স্ত্রী ইফি গ্র), জন স্টুয়ার্ট মিল (এবং তাঁর স্ত্রী হ্যারিয়েট টেলর), চার্লস ডিকেন্স (এবং তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন হোগার্থ) এবং জর্জ এলিয়ট বা মেরি অ্যান ইভান্স (এবং তাঁর সঙ্গী জর্জ হেনরি লুইস)। ফিলিস রোজের বইটি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই চর্চার কেন্দ্রে চলে আসে এবং ধীরে ধীরে তা এক ক্লাসিকের মর্যাদা পায়। সম্প্রতি দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্লেষণাত্মক বহু প্রশংসিত বইটির একটি পুনর্মুদ্রণ প্রকাশিত হয়েছে, কানাডিয়ান লেখক শিলা হেটির একটি দীর্ঘ ভূমিকাসহ।

রিয়াজ মিলটন

মন্তব্য