kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

লে খা র ই শ কু ল

নিজের প্রজন্মকে আলো থেকে বঞ্চিত করা নিষ্ঠুরতা : হেলেন হান্ট জ্যাকসন

২২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজের প্রজন্মকে আলো থেকে বঞ্চিত করা নিষ্ঠুরতা : হেলেন হান্ট জ্যাকসন

উনিশ শতকের আমেরিকান কবি ও কথাসাহিত্যিক হেলেন হান্ট জ্যাকসন তাঁর লেখার জন্য যেমন জনপ্রিয়, তেমনি স্মরণীয় আদিবাসী আমেরিকানদের প্রতি ভালোবাসার জন্য। ১৮৫০-এর দশকে তাঁর প্রথম স্বামী এডওয়ার্ড বিসেল হান্ট এবং দুই সন্তানের মৃত্যুর পর তিনি পুরোপুরি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। সাহিত্য তাঁর সামনে তখন শোকযাপনের একটা মাধ্যম মনে হয়। ১৮৬০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে তাঁর লেখা প্রকাশের চেষ্টা করেন। ১৮৭৫ সালে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে হয় উইলিয়াম এস জ্যাকসনের সঙ্গে। জন্মস্থান অ্যামহার্স্ট থেকে তখন তাঁরা কলোরাডোতে বসতি স্থাপন করেন। তবে অ্যামহার্স্টে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসেন। ১৮৭৬ ও ১৮৭৮ সালে কবিবন্ধু এমিলি ডিকিনসনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ্য; বোস্টন থেকে রবার্ট ব্রাদার্সের তত্ত্বাবধানে কবিতা সংকলন ‘আ মাস্ক অব পোয়েটস’ প্রকাশের আগে ডিকিনসনকে কবিতা জমা দেওয়ার জন্য চাপ দেন হেলেন। শেষ পর্যন্ত বেনামে ডিকিনসনের কবিতা ওই সংকলনে প্রকাশ করা হয়। অনুমান করা হয়, ডিকিনসন নিজে জমা দেননি, হেলেনই জমা দিয়েছিলেন। ডিকিনসনের নিজের কবিতা প্রকাশে দীর্ঘ অনীহা দেখে ১৮৮৪ সালে হেলেন আবারও বন্ধুকে বোঝানোর চেষ্টায় জোর দিয়ে বলেন, ‘তোমার সময় ও প্রজন্মকে তুমি আলো থেকে বঞ্চিত করবে—এটা তোমার নিষ্ঠুরতা ও ভুল। জগতের মানুষের কাছে আমাদের কোনো বড় কাজ যতটা পাঠাব, আমাদের কোনো কথা কিংবা চিন্তা ততটা পাঠাব না—এ রকম কোনো অধিকার আমাদের আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না।’

তাঁর প্রথম দিকের লেখা বেনামে প্রকাশ করেন এইচ এইচ নামে। এমারসন তাঁর কবিতা পছন্দ করেন। তাঁর বেশ কিছু কবিতা এমারসন কাব্যপাঠের আসরে পড়েন। ‘পারনাসাস : অ্যান অ্যান্থলজি অব পোয়েট্রি’তে তিনি হেলেনের পাঁচটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করেন।

আদিবাসী আমেরিকানদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের দুর্ব্যবহার দেখে তিনি মর্মাহত হন এবং তখন তাদের পক্ষে লেখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। স্বনামে লেখা তাঁর এই প্রথম বইটির নাম ‘আ সেঞ্চুরি অব ডিস-অনার’। ক্ষমতাসীনদের প্রতিজ্ঞা ভাঙার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে পাঠকদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন। ইতিহাসের বইয়ের চেয়ে কথাসাহিত্যের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছনো যাবে ভেবে তিনি উপন্যাস লেখার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উপন্যাসটি লেখার আগেই বলেন, নিগ্রোদের জন্য তাঁর লেখক বন্ধু হ্যারিয়েট বিচার স্টোর উপন্যাস ‘আংকল টমস কেবিন’ যতটা করেছে, আদিবাসীদের জন্য তাঁর উপন্যাস তার এক শ ভাগের এক ভাগ করতে পারলেও ধন্য হবেন।

তাঁর উপন্যাস ‘র‌্যামোনা’ লেখা শুরু করার আগে নাম ঠিক করেছিলেন ‘ইন দ্য নেইম অব দ্য ল’। তবে প্রকাশের আগে বইয়ের প্রধান চরিত্রের নামানুসারে ‘র‌্যামোনা’ রাখা হয়। নিজ ভূমিতে ঠাঁই তৈরি করার সংগ্রাম নিয়ে লেখা হয়েছে এ উপন্যাসটি। উপন্যাসের কাহিনির বিস্তার ঘটেছে লেখকের দেখা চারপাশের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। তবে উপন্যাসটির রোমান্টিক আবহ পাঠকের ওপর জোরালো প্রভাব ফেলে এবং সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় পর্যটনের ব্যাপক প্রসার ঘটে; লোকজন এ উপন্যাসে বর্ণিত জায়গাগুলো  দেখতে ছুটে আসে।

দুলাল আল মনসুর

মন্তব্য