kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

সাহিত্যে মহামারির পদচিহ্ন

দুলাল আল মনসুর

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



সাহিত্যে মহামারির পদচিহ্ন

সমাজের সার্বিক অবস্থার চিত্র সাহিত্যে পাওয়া যায়; ইতিহাস রাজনীতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান—সব কিছুই সাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডার তৈরিতে অবদান রাখে। অন্য কথায়, সাহিত্যজীবনের সব উপাদান ও অবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে, গ্রহণ করে থাকে। জীবনের চলমানতায় যখন যে দৃশ্যমান ছবি তৈরি হয়, যে সুর জেগে ওঠে—সবই সাহিত্যের রূপ-রসের সঙ্গে মিশে যায়, সময়ের গতির সঙ্গে এগিয়েও যেতে থাকে। অতীতের অনেক ঘটনার মতো, কোনো ক্ষেত্রে বেশি সংখ্যায় ও অধিক মাত্রায় ছাপ ফেলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে বর্তমানেও। সেগুলোর কোনো কোনোটি সাহিত্যে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেয়। বর্তমানে চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের কবলে সারা বিশ্ব। অতীতের মহামারি নিয়ে লেখা হয়েছে কালজয়ী সাহিত্য। এই সময়ে সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা আছে অবশ্যই। মহামারি সম্পর্কিত সাহিত্যের খোঁজখবর নিতে গিয়ে যেগুলো দৃষ্টি কেড়েছে, তেমন কয়েকটি টেক্সট সম্পর্কে কিছু কথা শিলালিপির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রাচীন সাহিত্যে মহামারির প্রাসঙ্গিকতা স্বাভাবিকভাবেই ছিল। কারণ তখন বর্তমানের মতো প্রতিষেধক ছিল না। প্রথমে বলা যায় ‘দ্য ডেকামেরন’ সম্পর্কে। চতুর্দশ শতকের ইতালীয় লেখক জোভান্নি বোক্কাসিওর উপন্যাসিকা সংকলন এটি। ব্ল্যাক ডেথ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফ্লোরেন্সের বাইরে আশ্রয় নেওয়া সাত নারী ও তিন পুরুষের বয়ানে ১০০টি গল্পের সমাহার হলো ‘দ্য ডেকামেরন’। অনুমান করা হয়, ১৩৪৮ সালের মহামারি মনে রেখেই জোভান্নি বোক্কাসিও ‘দ্য ডেকামেরন’ লেখেন। তিনি এটি ১৩৫৩ সালে লেখা শেষ করেন বলে মনে করা হয়। তবে উপলক্ষ মহামারি হলেও এখানকার কাহিনির অনেকগুলোর শিকড় বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন সময়ে। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, স্পেন থেকেও উপকরণ ব্যবহার করেন বোক্কাসিও। প্রাচীন আরবি ফারসি লাতিন ভাষা থেকেও পেয়েছেন প্রেরণা। বুদ্ধির খেলা, কৌতুককর উপাদান, যৌনতা থেকে ট্র্যাজেডি—সবই আছে এসব কাহিনিতে। পরবর্তী সাহিত্যের ওপর ‘দ্য ডেকামেরন’ ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ইংরেজ কবি জেফরি চসারের ‘দ্য কেন্টারবেরি টেলস’-এর কাঠামোও ‘দ্য ডেকামেরন’-এর কাঠামোর মতোই। ‘দ্য ডেকামেরন’ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবেও মূল্যবান, যেহেতু সমসাময়িক কালের চিত্র দেখানো হয়েছে এখানে।

১৬৬৫ সালে লন্ডনে যে প্লেগ আক্রমণ করে তার ওপর ভিত্তি করে ড্যানিয়েল ডিফো লেখেন ‘আ জার্নাল অব দ্য প্লেগ ইয়ার’। বইটি প্রকাশ করা হয় ১৭২২ সালে। এক ব্যক্তির চোখে দেখা মহামারির চিত্র দেখানো হয়েছে এখানে। ‘আ জার্নাল অব দ্য প্লেগ ইয়ার’-এ ধারাবাহিকভাবে লেখা হয়েছে মহামারির ঘটনাবলি, অধ্যায় ভাগ কিংবা আলাদা অধ্যায়-নাম ব্যবহার না করে। ১৬৬৫ সালে ওই মহামারির সময় ডিফোর বয়স ছিল পাঁচ বছর। তবে তাঁর চাচা হেনরি ফোর জার্নাল থেকে তথ্য নিয়ে লেখা হয় ‘আ জার্নাল অব দ্য প্লেগ ইয়ার’। সার্থক উপন্যাসের গুণ এ বইটিতে খানিকটা কম থাকার একাধিক কারণ আছে। প্রথমত, উপন্যাসের প্রারম্ভের যুগে লেখা বলে এখানকার চিত্র পুরোপুরি কল্পিত কাহিনির মতো নয়। দ্বিতীয়ত, ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে এটি। তৃতীয়ত, ডিফো এটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য বাস্তবের স্থান, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ইত্যাদির নাম ব্যবহার করেছেন। সে জন্যই এটা উপন্যাসের পরিপক্বতা পায়নি, অন্যদিকে ইতিহাসের নৈকট্য পেয়েছে। পাঠকের বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছে বলেই এখনো মানুষের পাঠে সক্রিয় আছে।

এডগার অ্যালান পোর ছোটগল্প ‘দ্য মাস্ক অব দ্য রেড ডেথ’ তাঁর সময়ের রোগ-ব্যাধিতে মানুষের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরে চমত্কার শিল্পে। পো ১৮৪২ সালে প্রকাশ করেন গল্পটি। এই গল্পে বলা হয়েছে, মহামারি প্লেগ থেকে বাঁচার জন্য প্রিন্স প্রসপারো দুর্গজাতীয় একটি বিশাল ধর্মাশ্রমে আশ্রয় নেয়। প্রিন্স তার সঙ্গে নেয় সমাজের ধনী ও অভিজাত ব্যক্তিদের। বিশাল ভবনের সাত রুম বিভিন্ন রঙে সাজানো হয়। তাদের মুখোশ পরা নাচের অনুষ্ঠানে রেড ডেথের ছদ্মবেশ ধরে একজন রহস্যজনক ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। একের পর এক রুম পার হয়ে সে প্রসপারোর রুমে ঢুকে পড়ে এবং তাকে মোকাবেলা করতে গিয়ে প্রসপারো মারা যায়। এখানে উল্লিখিত রেড ডেথ নামের এই অসুখটি কল্পিত। এ রোগে আক্রান্ত হলে লোমকূপের ভেতর দিয়ে রক্তক্ষরণে আধাঘণ্টার মধ্যে মানুষ মারা যায়। পো রেড ডেথের প্রসঙ্গ এনেছেন যক্ষ্মা রোগ থেকে। তখনকার দিনে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব ছিল। তাঁর স্ত্রী যক্ষ্মায় ভুগে মারা যান। প্রিন্সের মতো পো নিজেও চেষ্টা করেন যক্ষ্মা থেকে বাঁচার জন্য। তাঁর মা এলিজা ও ভাই উইলিয়ামও যক্ষ্মায় মারা যান। আরেকটি উত্সও থাকতে পারে এ গল্পের। ১৮৩১ সালে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মনে করেন, পো এই গল্পের প্রেরণা পান লন্ডনের বিউবোনিক প্লেগ থেকে। আরেক দল সমালোচক মনে করেন, গল্পের উত্স বা প্রেরণা যা-ই হোক না কেন, এখানে রেড ডেথ বলতে প্রধানত শারীরিক কোনো রোগকেই বোঝানো হয়নি। এটা হলো মানুষের  মনের দুর্বলতা বা আদি পাপ। সব মানুষের মধ্যেই উত্তরাধিকারে বিরাজ করে এই পাপ।

আলবেয়ার কামুর ১৯৪৭ সালের উপন্যাস ‘লা পেস্তে’ (‘দ্য প্লেগ’) মহামারি নিয়ে লেখা সর্বাধিক পঠিত বইয়ের সম্ভবত শীর্ষে অবস্থান করছে। বিশ্বের চলমান প্রেক্ষাপটে পুরনো পাঠকসহ নতুন পাঠকদের কাছেও উপন্যসটি নিবিড়ভাবে প্রাসঙ্গিক। ধারণা করা হয়, ১৮৪৯ সালের কলেরা মহামারির ওপর ভিত্তি করেই কামু এ উপন্যাস লেখেন। আলজেরিয়ার ওরানে ফরাসি উপনিবেশ স্থাপনের পর কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। অবশ্য উপন্যাসে উল্লিখিত সময়টা ১৯৪০-এর দশক। মানুষের ক্ষণস্থায়িত্ব, উদারতা, ক্ষুদ্র বীরত্ব, বিশাল কাপুরুষতা, পারস্পরিক সম্পর্ক—এসব নিয়ে কথা বলে এ উপন্যাস। উত্তর আফ্রিকার মহামারি আক্রান্ত মানুষের কথা বলা হয়েছে এ উপন্যাসে। শুধু সরকার নয়, ব্যক্তি পর্যায়ে সম্মিলিত চেষ্টায় মহামারি ঠেকানো সম্ভব—এমন বার্তা জানায় ‘লা পেস্তে’। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরপরই প্রকাশ করা এ উপন্যাসে প্রতীকের মাধ্যমে মহামারির মতো ফ্যাসিবাদের প্রাদুর্ভাবের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কামুর মেয়ে ক্যাথরিন ১৪ বছর বয়সে ‘লা পেস্তে’ পড়েন। এ মাসের ২৮ তারিখে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার সঙ্গে কথা বলার সময় ক্যাথরিন বলেন, “আগের মতোই ‘লা পেস্তে’র বার্তা এখনো সত্যিই প্রাসঙ্গিক। ভবিষ্যতেও প্রাসঙ্গিক থাকবে। মানুষ আবার এ বইটি পড়ছে শুনে আমি আনন্দিত। বইটির কোনো অংশ যদি পাঠকদের কাছে প্রাণবন্ত মনে হয়, যদি তাদের মাঝে আশা জাগায় তাহলেই এটার গুরুত্ব থাকবে তাদের কাছে।” তিনি আরো বলেন, ‘সম্ভবত লকডাউনে থেকে আমরা ভালো করে ভেবে দেখার মতো সময় পাব কোনটা বাস্তব, কোনটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এভাবেই মানবিক হয়ে উঠতে পারব।’ মানুষের লোভ-লালসা এবং নির্বুদ্ধিতার সঙ্গে এ উপন্যাসের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে ক্যাথরিন আরো বলেন, ‘মানুষ শুধুই সোনার পেছনে ছুটছে; মানুষকে মুক্তবাজারের পণ্য হিসেবে গণ্য করছে কিছু মানুষ, যেন তাদের পণ্যের মতো বেচাকেনা করা যায়। একটা পেয়ে গেলে আমরা আরেকটার দিকে লাফিয়ে যাচ্ছি। সবাই নিজেকে সঠিক মনে করছে, জীবনের অর্থটাই ভুলে যাচ্ছে।’ উল্লেখ্য, যমজ ছেলে-মেয়ে জাঁ ও ক্যাথরিনকে কামু আদর করে যথাক্রমে ‘কলেরা’ ও ‘প্লেগ’ ছদ্মনাম দিয়েছিলেন।

বর্তমানকে দেখে লেখকদের অনেকেই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিতে পারেন। মানুষের অধৈর্য, লোভ-লালসা কত বড় বিপদ ঘটাতে পারে তার ইঙ্গিত দিয়ে যান তাঁরা। তেমন কয়েকজন লেখকের অমর সৃষ্টির দু-একটি উদাহরণ : প্রথমে আসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারন্যাচারাল ফিকশন, সাসপেন্স ও ফ্যান্টাসি উপন্যাসের লেখক স্টিফেন কিংয়ের নাম। তাঁর উপন্যাস ‘দ্য স্ট্যান্ড’ এ রকম ইঙ্গিত খুব স্পষ্ট করেই দিয়ে যায়। এটি প্রকাশ করেন ১৯৭৮ সালে। অস্ত্রে পরিণত করা ইনফ্লুয়েঞ্জার পৃথিবীর প্রায় সব মানুষকে ধ্বংস করে ফেলার ক্ষমতা থেকে তৈরি হয় মহামারি। প্রতিরক্ষা বিভাগের পরীক্ষাগারে অসাবধানে বের হয়ে পড়া ভাইরাস থেকে শুরু এই ইনফ্লুয়েঞ্জার। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ মারা যায়। যারা বেঁচে থাকে তারা নতুন সমাজব্যবস্থা তৈরি করে। এ কাজ করতেই তারাও একে অন্যের মুখোমুখি হয়। প্রথমে তাদের প্রয়োজন পড়ে নেতৃত্ব অনুসরণ করার। তেমন দুজন পাওয়া যায়। একজন মাদার আবাগেইল। শুভ ও মঙ্গলের সমর্থক সে। বয়স ১০৮ বছর। সে অনুসারীদের কলোরাডোর বুলডারে শান্তিপূর্ণ সম্প্রদায় গড়ে তোলার কথা বলে। আরেকজন আসে, নাম র্যান্ডাল ফ্ল্যাগ। তার আনন্দ দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরিতে। যেহেতু মন্দ লোক আর শান্তিবাদী নারী—দুজন আছে সামনে, অনুসারীদেরও তাহলে একজনকে বেছে নিতে হবে। মানবতার ভাগ্য তাদের সিদ্ধান্তের অধীন। বর্তমানের অবস্থা বিবেচনা করলে দেখা যায়, করোনাভাইরাসের ঘটনার প্রায় সবই অগ্রিম ভেবেছেন স্টিফেন কিং।

করোনার প্রাসঙ্গিকতা আগে থেকে অনুমান করার মতো দ্রষ্টা লেখক মার্গারেট অ্যাটউডও। পত্রপত্রিকায় ২০০৯ সালের উল্লেখযোগ্য কথাসাহিত্য হিসেবে গণ্য করা হয় মার্গারেট অ্যাটউডের উপন্যাস ‘দ্য ইয়ার অব দ্য ফ্লাড’কে। এ উপন্যাসে গডস গার্ডেনারস নামের এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জীব-বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ এই সম্প্রদায়ের সদস্য। বাইবেলের বিশ্বাস ও চর্চা এবং বিজ্ঞানের বিশ্বাস ও চর্চার অনুসারী কিছু মানুষের সমন্বয়ে গঠিত এ সম্প্রদায়। এখানকার লোকেরা নিরামিষাশী। তারা সব ধরনের প্রাণী ও উদ্ভিদ রক্ষার কাজকে সম্মানের চোখে দেখে। তারা মনে করে, ভবিষ্যতে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মতো ‘জলহীন বন্যা’ হবে। ভবিষ্যত্ সম্পর্কে তাদের সতর্কতা সত্যে পরিণত হয় এবং ভাইরাসের মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। মানবসভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ইংরেজি শব্দ কোয়ারেন্টিন। সরাসরি এই নামেও কিছু উপন্যাস আছে। ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক জিম ক্রেসের পঞ্চম উপন্যাসের নাম ‘কোয়ারেন্টিন’। তিনি দুই হাজার বছর আগের গল্প নিয়ে আসেন বর্তমান সময়ে। যিশুর মরুভূমিতে চল্লিশ দিনের কাহিনি পুনরায় বয়ান করা হয় এ উপন্যাসে। মরুভূমিতে যাত্রাকালে যিশুর দেখা হয় স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর বণিক মুসার সঙ্গে। মুসার ক্যারাভ্যানসঙ্গীরা তাকে ফেলে গেছে তার অসুখের কারণে। একপর্যায়ে মুসা সুস্থ হয়ে ওঠে। মুসা বলে, “তিনি আমাকে বলেছেন, ‘ভালো হও।’ এবং আমি ভালো হয়েছি।” মুসা ছাড়াও আরো আছে তার অসুস্থ ও সন্তানসম্ভাবনা স্ত্রী মিরি, দশ বছর ধরে সন্তানাকাঙ্ক্ষী মার্তা, ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রবীণ আফাস, মানসিক শান্তিকামী শিম ও রহস্যজনক বোবা বদু। তাদের কোয়ারেন্টিনের পরিকল্পনা থাকে, তারা রোজা রেখে প্রার্থনা করে বিচ্ছিন্ন থাকবে। মরুভূমিকে যারা প্রাণবন্ত সৌন্দর্য আর রুক্ষতার প্রতীক হিসেবে দেখে, তাদের জন্য জিম ক্রেসের উপন্যাসে যিশুর স্বর্গীয় পরিচয়ের চেয়ে আশাবাদ ও উত্সাহের কথায় জোর দেওয়া হয়েছে বেশি। তার পরিকল্পনা থাকে চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত রোজা রাখার। ধর্মীয় কিংবা আধ্যাত্মিক ভ্রমে আক্রান্ত সে। ১৯৯৭ সালের বুকার পুরস্কারের প্রতিযোগিতায় অরুন্ধতী রায়ের বিজয়ী উপন্যাস ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’-এর পরেই স্থান পেয়েছিল জিম ক্রেসের ‘কোয়ারেন্টিন’।

‘কোয়ারেন্টিন’ নামে আরেক উপন্যাস লিখেছেন অস্ট্রেলিয়ার কল্পবিজ্ঞান লেখক গ্রেগ এগান। এটি প্রকাশ করেন ১৯৯২ সালে। এ উপন্যাসের পটভূমিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২০৩৪ থেকে ২০৮০ সাল। অজানা কারণে পৃথিবীর বাইরের সভ্যতার প্রতিনিধিরা সৌরজগতের চারপাশে আলোনিরোধী বেষ্টনী তৈরি করে ফেলেছে। এই বেষ্টনীর নাম বাবল। বাবল যেহেতু সৌরমণ্ডলে আলো ঢুকতে দেয় না, এর ফলে কোনো নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবীর মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়, অন্যের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ভয় বিরাজ করতে থাকে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়।

মহামারি ও মানুষের অসাবধানতার ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় রোধে মানুষই চেষ্টা করে যাবে। নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সাহিত্যের পাতায় তাদের প্রচেষ্টা অমর হয়ে থাকবে ভবিষ্যতের মানুষের জন্য। আজ করোনায় আক্রান্ত কিংবা আক্রান্ত না হয়েও কোয়ারেন্টিনে থাকা সৃজনশীল মানুষেরা নিভৃতে সৃষ্টি করে যাচ্ছেন ভবিষ্যতের সাহিত্য। আরো অনেকে সৃষ্টি করতে থাকবেন কিছুদিন পরে। তাঁদের সাহিত্য ভবিষ্যতের কাছে বলবে আমাদের এখনকার অবস্থার কথা।

মন্তব্য