kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

লেখার ইশকুল

প্রগতির কবি ভিলিমির খ্লেবনিকফ

দুলাল আল মনসুর   

১০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রগতির কবি ভিলিমির খ্লেবনিকফ

ইংরেজি ভাষা নিয়ে জেমস জয়েস যেমন নিরীক্ষা করেছেন, রুশ ভাষায় তেমন নিরীক্ষা করেছেন ফিউচারিস্ট কবি ভিলিমির খ্লেবনিকফ। কবি মায়কোভস্কি তাঁকে গুরু মনে করতেন। যুদ্ধ-পূর্ব সমালোচকরা তাঁকে মনে করতেন মানসিক অসুস্থ। তবে কারো কারো কাছে তিনি ছিলেন কবিদের কবি। তাঁর সমসাময়িক ফিউচারিস্টরা তাঁকে সন্ত মনে করতেন।

স্কুল ত্যাগ করার পর তিনি জন্মস্থান কালমিকিয়া ছেড়ে চলে যান কাজানে। গণিতে ডিগ্রি নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু পড়াশোনায় ছেদ পড়ে গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে। ছাত্র আন্দোলনের একপর্যায়ে গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস কারাগারে কাটান। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জীববিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে ১৯০৮ সালের দিকে তিনি সাহিত্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং কাজান ছেড়ে সেইন্ট পিটার্সবার্গে চলে যান সাহিত্যকর্মে আরো সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য। সেভেলাদ ইভানফ, মিখাইল কাজমিন প্রমুখ সিম্বলিস্ট লেখকদের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেন খ্লেবনিকফ। তবে নবীন কবিদের মধ্যে যাঁরা শিল্প যাত্রায় ভিন্ন পথ অনুসরণ করতে ইচ্ছুক তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন। ভাসিলিজ কামেনসকিজ এবং এলেনা গুরোর মতো কয়েকজনের সক্রিয়তায় প্রসার লাভ করে তাঁদের ফিউচারিস্ট আন্দোলন।

আরেক রুশ কবি আলেক্সেই ক্রুচেনিখের মতো ভিলিমির খ্লেবনিকফ কবিতার ভাষায় যুক্তির বাইরের অর্থ আরোপ করার কৌশল ব্যবহার করেন। তাঁদের সমসাময়িক রাশিয়ার ফিউচারিস্ট কবিরা শব্দকে অর্থের গণ্ডি থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল কবিতায় শব্দের আদিম ভাষা তৈরি করে দেখানো। ভিলিমিরের যুক্তি-মুক্ত শব্দের কবিতার প্রথম দিকের উদাহরণ হলো তাঁর ‘হাসির মন্ত্র’। বাহ্যিক কোনো বিষয়ের উল্লেখ না করে শুধু রুশ শব্দ ‘স্মেখ’ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কতিপয় উপসর্গ-অনুসর্গ যোগ করা হয়েছে। এভাবে কবিতাটা শুধু হাসির শব্দই তৈরি করে। গোটা কবিতাই শিরোনামটাকে উচ্চারণ করে যায় নানা ভঙ্গিমায়। খ্লেবনিকফের প্রথম দীর্ঘ কবিতা ‘সর্পিল ট্রেন’ প্রকাশ করেন ১৯১০ সালে। তাঁদের আন্দোলনের প্রথম প্রকাশনাও ছিল ১৯১০ সালের ‘বিচারকদের জন্য ফাঁদ’ নামক কবিতা সংকলন। তাঁদের দলের উদ্দেশ্য ছিল কবিতার শিল্পের নবায়ন। তবে পাঠক মহলে হতাশাও তৈরি হয় তাঁদের কবিতায়। তাঁদের খ্যাতিও সেভাবেই ছড়াতে থাকে। সামাজিক বিপ্লব এবং প্রথম মহাযুদ্ধের আগমনে বিশ শতকের শুরুতে তৈরি হওয়া অন্যান্য আন্দোলনের মতো ফিউচারিস্ট আন্দোলনও আর এগোতে পারে না। দ্বন্দ্ব-সংঘাত পার হয়ে টিকে থাকতে পারে না।

খ্লেবনিকফ খুব বেশি লেখেননি। হাতে গোনা কিছু কবিতা ও কয়েকটি নাটক লিখেছেন। তিনি ছিলেন অগ্রগামী চিন্তার কবি। সাহসের সঙ্গেই তিনি নতুন জগত্ সন্ধান করেছেন। নতুন জগতে গণযোগাযোগ এবং মানুষের অস্তিত্বের অবস্থা কেমন হবে দেখার চেষ্টা করতেন। রাশিয়ায় অনেক দিন তিনি আড়ালে থাকলেও পশ্চিমে নৃতাত্ত্বিক ও ভাষাবিদদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে খ্লেবনিকফের। ফরাসি নৃতাত্ত্বিক ও লেখক লেভি স্ট্রস এবং বহুবিধ ব্যক্তিত্বের অধিকারী মার্কিন ভাষাবিদ দার্শনিক ইতিহাসবিদ নোয়াম চমস্কির মাধ্যমে পাশ্চাত্যে খ্লেবনিকফের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

মন্তব্য