kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

ধারাবাহিক উপন্যাস মত্স্যগন্ধা

মত্স্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

১০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



মত্স্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

ছদ্মবেশী ঋষি গণেশের কথা শুনে সমবেত মুনিদের বিস্ময়ের অন্ত থাকল না। সবাই জানেন, মহাদেবের দুই পত্নী—পার্বতী আর গঙ্গা। গঙ্গার বয়স কম। তিনি সুন্দরী। তাঁর ছলাকলা পার্বতীর বাড়া। তাঁদের এ-ও শুনতে বাকি নেই যে মহাদেব ইদানীং পাবর্তীর চেয়ে গঙ্গার প্রতি অনুরাগ পোষণ করছেন বেশি। এই রকম অবস্থায় গঙ্গাবিচ্ছিন্ন হতে রাজি হবেন কি ত্রিলোকেশ্বর মহাদেব? যাঁর প্রতি এত ভালোবাসা, সেই পত্নীকে পৃথিবীর কল্যাণের জন্য ছেড়ে দেবেন? ঋষি গণেশের প্রস্তাব তাই সমবেতদের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হলো। এই অবিশ্বাস থেকেই বিস্ময়, মুনিদের।

‘সে কেমন! কেমন করে গঙ্গাকে কৈলাস থেকে আনাবেন এখানে!’ জানতে চাইলেন সবাই।

গণেশ বুঝলেন—তাঁর লক্ষ্য ভেদ হয়েছে। ঋষিদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করতে পেরেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, আশ্রিত জীবন যে অনভিপ্রেত, তা-ও বোঝাতে পেরেছেন মুনিদের। বিজ্ঞের হাসি হাসলেন একটু। তারপর গাম্ভীর্য জড়ানো কণ্ঠে বললেন, ‘আমরা এক কাজ করি।’

‘কী কাজ?’ বয়োবৃদ্ধ ঋষিটি জিজ্ঞেস করলেন। ‘চলুন আমরা মহর্ষি গৌতমের কাছে যাই। তাঁর কাছে আমাদের আরজি জানাই।’

‘মহর্ষির কাছে আরজি জানাব!’

‘হ্যাঁ, তিনিই তো আমাদের একমাত্র ভরসা! প্রণম্য তিনি সবার। গঙ্গাকে এই ধরাতলে আনানোর প্রার্থনা জানালে তিনি রাজি হবেন।’

‘কিভাবে আনাবেন? কেন-ই বা রাজি হবেন?’

‘সে আমি জানি না। তবে রাজি যে হবেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত।’ আস্থার কণ্ঠে বললেন গণেশ।

কিন্তু মহর্ষি গৌতমের কাছে গেলে গণেশের বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। মহর্ষি রোষ কষায়িত চোখে গণেশের দিকে তাকালেন। বললেন, ‘তুমি কি আমাকে মহাদেবের পত্নীবিচ্ছিন্নতার কুপরামর্শ দিচ্ছ! তুমি ভাবলেও বা কী করে—আমি তোমার এই দুরভিসন্ধিতে শামিল হব?’

মহর্ষির কথা শুনে গণেশ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেন। সঙ্গে আসা মুনিদের মধ্যে গুঞ্জন উঠল। সেই গুঞ্জন বিরূপতায় ভরা। এই অপ্রসন্নতার গুঞ্জন গণেশের বিরুদ্ধে। গণেশ ভেতরে ভেতরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন। কিন্তু ক্ষোভের কোনো চিহ্ন চোখে-মুখে ফুটে উঠতে দিলেন না।

বোকা বোকা চেহারা করে বিনীত ভঙ্গিতে গণেশ বললেন, ‘মার্জনা করবেন মহর্ষি, আমি ওভাবে কথাটা বলিনি বা বলতে চাইনি। জলের অভাবে এই শ্যামল পৃথিবী মরুভূমি হয়ে যেতে বসেছে, নদীর সংস্পর্শে এই মর্তভূমি আবার প্রাণ পাবে—এ কথাটাই আপনাকে বোঝাতে চেয়েছি।’

তাই বলে মহাদেবের পত্নীবিয়োগ ঘটিয়ে! কী বলতে চাইছ ছোকরা তুমি আমায়। মহাদেবের রোষানলে পড়তে পরামর্শ দিচ্ছ? তোমার কুমতলব আমি বুঝছি না মনে করছ?’ খসখসে গলায় বললেন মহর্ষি।

সমবেতদের মধ্যে ঋষি পৌষ্য বসেছিলেন। তাঁর বয়স কম। চিন্তা স্পষ্ট এবং যুক্তিপূর্ণ। মহর্ষির দোষারোপ তাঁর কাছে অহেতুক বলে মনে হলো। মাথা নিচু করে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। আনত গলায় বললেন, ‘আমার প্রাণপাত গ্রহণ করুন মহর্ষি। আমি আপনার আশ্রমে আগন্তুক। খরায় পড়ে আমি এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি। দীর্ঘদিন কেটে গেল। এখানে প্রাণটা ছটফট করছে। নিজের আশ্রমে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রাণটা আকুলিবিকুলি করছে। আমার মতো আগন্তুক যাঁরা, তাঁদের সবারই অবস্থা আমারই মতো। ঋষিবর আপনার কাছে যে প্রার্থনা জানিয়েছেন, তা ধরাধামের খরামুক্তির জন্য, আমাদের সবারই কল্যাণের জন্য।’ গণেশকে ইঙ্গিত করে কথা শেষ করলেন ঋষি পৌষ্য।

মহর্ষি গৌতম সতেজে বলে উঠলেন, তার পরও তোমাদের বাসনা আমি পূরণ করতে পারব না। দেবী গঙ্গাকে আমি কৈলাস থেকে এখানে আনার ব্যবস্থা নিতে পারব না।’ এটুকু বলার পর মহর্ষির ক্রোধ কমে আসার কথা। কিন্তু তাঁর ক্রুদ্ধভাব কমল না। তিনি সক্রোধে গণেশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যদি তোমার এই আশ্রমে থাকতে ইচ্ছা না করে, তাহলে চলে যেতে পারো তুমি। তার জন্য আমার কোনো দুঃখ থাকবে না।’ থামলেন ক্ষণকাল। তারপর আবার বলে উঠলেন, ‘আপনাদের মধ্যে যাঁরা যাঁরা গৌতমের আশ্রমে থাকতে অস্বস্তিবোধ করছেন, আশ্রম ত্যাগ করুন।’ বলে দ্রুত পায়ে স্থান ত্যাগ করলেন মহর্ষি গৌতম।

একে একে সবাই চলে গেলেন। ওখানে বসে থাকলেন শুধু গণেশ আর পৌষ্য।

এর পর থেকে গণেশ আর পৌষ্যকে একসঙ্গে দেখা যেতে লাগল। দুজনে যেন হরিহর আত্মা।

এর বেশ কিছুদিন পর এক প্রত্যুষে মহর্ষি গৌতমের আশ্রমের মূল ফটকের অদূরে একটি গাভি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। গাভিটির জীর্ণশীর্ণ দেহ। হাড্ডিসার। চামড়া জড়ানো হাড়গুলো বিসদৃশ্যভাবে দৃশ্যমান। এই মরে কি সেই মরে দশা গাভিটির। সকালবেলা প্রায় মুমূর্ষু গাভিটিকে দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে উঠলেন। এ যে মহর্ষির আশ্রম! আর গাভিটি যে গোমাতা! দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত গোমাতাটি যদি মহর্ষির আশ্রম-আঙিনায় প্রাণ ত্যাগ করে, তাহলে গোবধের পাপ হবে মহর্ষির। কারণ এই আশ্রমের কর্ণধার যে মহর্ষি স্বয়ং! কী করা! কী উপায়! দিশাহারা সবাই। আশ্রিত ব্রাহ্মণরা এবং ওই আশ্রমের স্থায়ী নিবাসীরা দ্রুত পায়ে গৌতমের কাছে গেলেন। এবং গাভিমাতার উপস্থিতি আর তার জীর্ণদশার কথা বিস্তারিত বললেন। সব শেষে মহর্ষিকে উদ্দশ করে বললেন, ‘গাভিটি যদি আপনার আশ্রমের চৌহদ্দিতে প্রাণ ত্যাগ করে, তাহলে আপনি গোহত্যার পাপে পাপী হবেন মহর্ষি। যত শিগগির সম্ভব এই গাভিমাতাটিকে আপনার আশ্রমের সীমানার ওপারে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিন।’

ঋষি গৌতম ভীষণ অধীর হয়ে উঠলেন। এবং দ্রুত পায়ে গাভিটির উদ্দেশে রওনা দিলেন।

ওই দিনের অপদস্থতার পর গণেশ আর পৌষ্য শলাপরামর্শে বসলেন। এই শলা বেশ কিছুদিন ধরে চলল। তবে তা হলো নির্জনে, একান্তে।

একদিন অনতিদূরের উপত্যকায় গাভিটির দেখা পেলেন গণেশ। চট করে তাঁর মাথায় বুদ্ধিটা খেলে গেল। পৌষ্যের সঙ্গে চোখাচোখি হলো গণেশের। চোখে চোখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন দুজনে। সেই রাতে ভোজনক্রিয়া সমাপন হলে সবাই যাঁর যাঁর শয়নস্থানে ফিরে গেলেন। ধীরে ধীরে মহর্ষি গৌতমের আশ্রম নীরব হয়ে গেল। বিড়ালপায়ে গণেশ আর পৌষ্য আশ্রম থেকে বেরিয়ে পড়লেন।

পরদিন আশ্রমিকরা দেখলেন—মহর্ষি গৌতমের আশ্রমের চৌহদ্দিতে, একেবারে ফটকের কাছ ঘেঁষে কঙ্কালসার গাভিটি দাঁড়িয়ে আছে।

কী ব্যাপার! কিভাবে এই মরণোন্মুখ গাভিটি এখানে এলো! গোমাতাটির এমনই দুর্বল দেহ যে এক কদম বাড়াতেই তার শঙ্খঘণ্টা বেজে যাবে। এমনতর উঁচু জায়গায় স্বেচ্ছায় উঠে আসতে পারার কথা নয় তার। তাহলে! তাহলে কী করে এলো গাভিটি! সবারই মুখে একই প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর জানা নেই কারো। এই মুহূর্তে উত্তরটা মুখ্য ব্যাপার নয়। প্রধান সমস্যা, গাভিটিকে স্থানান্তরে নিয়ে যাওয়া। একেবারে ওই দূরের উপত্যকায় বা সমতলে। ওখানে গাভিটি দেহত্যাগ করলে মহর্ষি গৌতমের কোনো অধর্ম হবে না। কারণ দূরের ওই অঞ্চলটা মহর্ষির অধীন নয়।

বয়োবৃদ্ধ ঋষি বর্চা বললেন, ‘কিভাবে গাভিটি এই আশ্রমের দরজায় এসে উপস্থিত হলো, এই রহস্য উন্মোচন করার চেয়ে বড় কাজ হলো একে আপনার আশ্রমসীমার ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া।’

ঋষি পৌষ্য করুণ মুখে বললেন, ‘গাভিমাতাটির যে জীর্ণদশা, আদৌ সামনে এগোতে পারবে কি না সন্দেহ।’ ‘কেন পারবে না? হ্যাঁ, কেন পারবে না? অবশ্যই হাঁটতে পারবে গাভিটি। এসেছে যে পায়ের ওপর ভর করে, ঠিক ওভাবেই হেঁটে চলে যাবে সে।’ রাগী কণ্ঠে বললেন মহর্ষি গৌতম।

‘তার আগে গাভিটির মুখের সামনে কিছু খাবার ধরলে হতো না মহর্ষি?’ বোকা চেহারা করে বললেন পৌষ্য।

রাখো তোমার খাবার! আমি মরছি আমার জ্বালায় আর উনি মরছেন খাবারের চিন্তায়!’ ধমকে উঠলেন মহর্ষি। তিনি ইতিউতি তাকাতে লাগলেন। নিরীহ মুখ করে পৌষ্য জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী খুঁজছেন মহর্ষি?’

মহর্ষির ক্রোধ তখনো কমেনি। বললেন, ‘কী খুঁজব আর! আমার মরণকাঠি খুঁজছি।’ বলা শেষ করেই উচ্চৈঃস্বরে আবার গাভিটিকে লক্ষ্য করে বলে উঠলেন, ‘হই হই হঠ। যা যা, হু-স।’ যেন পাখি তাড়াচ্ছেন, যেন তাঁর আঙিনায় বেখেয়ালে ঢুকে পড়া কোনো শৃগালকে উদ্দেশ করে ভয় দেখাচ্ছেন মহর্ষি।

যাকে উদ্দেশ করে মহর্ষি গৌতম এসব করে যাচ্ছেন, সেই গাভিটি কিন্তু নির্বিকার। তার যে কোনো জাগতিক জ্ঞান নেই। মহর্ষির কোনো শব্দই তার কানে ঢোকেনি। ঢুকবে কী করে, সে যে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

গাভির নির্বিকার, নিস্তেজ ভাব দেখে মহর্ষি আরো চঞ্চল হয়ে উঠলেন। দিশাহারা গৌতম গাভিটির পাশে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। তাঁর চারদিকে অন্য ঋষিরা। তাঁরা বাক্যহারা। ঠিক এই সময় গোবেচারা ভঙ্গিতে ছদ্মবেশী ঋষি গণেশ মহর্ষি গৌতমের কাছে এগিয়ে এলেন। সমবেদনার ভঙ্গিতে মৃদু কণ্ঠে বললেন, ‘মুখে যতই ভয়ডর দেখান মহর্ষি, ওই পশুটি নড়বে না।’ ক্রোধান্বিত চোখে গণেশের দিকে তাকালেন মহর্ষি। এই ক্রোধ উপযাচক হয়ে উপদেশ দেওয়ার জন্য, না গাভিমাতাকে পশু বলার জন্য—বোঝা গেল না।

ক্রূর হাসিটাকে ভেতরে দেবে রেখে গণেশ আবার বললেন, ‘আপনার আগের সিদ্ধান্তই যথাযথ ছিল। কঞ্চি খুঁজছিলেন। কঞ্চির আঘাতের ভয় না দেখালে গাভিটি এক পা-ও নড়বে না।

গৌতমের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। গণেশ বুঝতে পারলেন—তাঁর এবারের কথাটি মহর্ষির মনে ধরেছে।

এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন গণেশ। চিকন চোখে অনতি দূরে দাঁড়িয়ে থাকা পৌষ্যের দিকে তাকালেন। যা বোঝার, ঋষি পৌষ্য বুঝে গেলেন। গাভিকে ঘিরে গোলাকারে দাঁড়িয়ে থাকা ঋষিদের ঠেলে বেরিয়ে গেলেন পৌষ্য। অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে এলেন তিনি। হাতে কঞ্চি। কঞ্চিটি পৃথুলা। স্থানে স্থানে গ্রন্থিমূল থেকে কণ্টকের মতো অকর্তিত অংশ বেরিয়ে আছে। দেখেই মনে হচ্ছে—বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কঞ্চিটি ওভাবে চাঁছা হয়েছে। এটাও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে এত দ্রুত কঞ্চিটি আনার কথা নয় পৌষ্যের। কঞ্চিটি যে আগেই নির্মিত এবং বিশেষ লক্ষ্যে ওভাবেই নির্মিত, তা-ও বুঝতে বেগ পাওয়ার কথা নয় কারো।

কিন্তু ব্যাপারটি কেউ আমলে নিলেন না। সবাই যে গাভি বিতাড়নে ব্যস্ত!

ধীর পায়ে কঞ্চি হাতে গৌতমের কাছে এলেন পৌষ্য। মহর্ষি এক ঝটকায় পৌষ্যের হাত থেকে কঞ্চিটি নিজ হাতে নিয়ে নিলেন। কঞ্চি হাতে রাখালরা যেমন করে বেপরোয়া হয়ে ওঠে, অস্ত্র হাতে সৈনিকরা যেমন করে হিংস্র হয়ে ওঠে, মহর্ষি গৌতমও তেমনি করে বেপরোয়া আর হিংস্র হয়ে উঠলেন। প্রবল শক্তিতে এক ঘা বসিয়ে দিলেন। ঘা সরাসরি গাভিটির মাথা বরাবর এসে লাগল। এমনিতেই বহুদিন ধরে অভুক্ত গাভিটি। সেই কবে জাবর কাটা বন্ধ করেছে সে। এই মুখ দিয়ে খড়-ঘাস ঢুকেছে অনেক দিন হয়ে গেছে। তার দেহ নিঃশেষ। শেষ নিঃশ্বাসটা বুকে নিয়ে চার পায়ে ভর দিয়ে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে ছিল গাভিটি। আচমকা কঞ্চির জোর আঘাতটা সইতে পারল না। ধপাস করে মাটিতে গড়িয়ে পড়ল ধেনুটি। পড়েই চক্ষু উল্টাল।

প্রথমে সমবেতদের কেউ কিছু বুঝতে পারল না। কেউ কেউ মনে করল—আঘাতটা হয়তো বেজায়গায় পড়েছে, বিবশ অবস্থাটা কেটে গেলে আপনাতেই উঠে দাঁড়াবে গাভিটি। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও ধেনুটি উঠে দাঁড়ানো দূরে থাক, একটুখানি নড়লও না।

দ্রুত পায়ে পৌষ্য গাভিটির পাশে এগিয়ে এলো। তিনি গাভিটির এলিয়ে পড়া কান দুটি নাড়লেন, চোখ দুটির দিকে ভালো করে তাকালেন, শেষ মুহূর্তে নাকের কাছে হাত নিয়ে হাহাকার করে উঠলেন, ‘মাগো, ঈশ্বরগো গাভিমাতাটি যে মরে গেছ গো!’ গণেশ বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বলে উঠলেন, ‘এ যে গোহত্যা! গরু যে আমাদের মাতা! মহর্ষি গৌতম যে মাতৃহত্যার পাপে পাপী হলেন!’

  চলবে ►►

মন্তব্য