kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহের নির্বাচিত ৫ বই
মৌর্য

দুই হাজার তিন শ বছর আগের প্রেম উপাখ্যান

আরাফাত শাহরিয়ার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই হাজার তিন শ বছর আগের প্রেম উপাখ্যান

মৌর্য : আবুল কাসেম। প্রকাশক : অন্যপ্রকাশ। প্রচ্ছদ : মাসুম রহমান। মূল্য : ১০০০ টাকা

প্রায় দুই হাজার তিন শ বছর আগের কাহিনি নিয়ে প্রকাশিত উপন্যাস ‘মৌর্য’। প্রথম মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে গ্রিক সম্রাট সেলুকাসের কন্যা কর্নেলিয়ার (তিনি পরে নাম দেন হেলেন) প্রেমের বয়ান আছে ইতিহাসনির্ভর প্রেমের উপন্যাসটিতে। লেখক আবুল কাসেম তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাসটিতে সেই সময়কে তুলে এনেছেন চমকপ্রদভাবে। আবুল কাসেমের ‘মৌর্য’ সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের সময়কাল নিয়ে রচিত। ইতিহাসনির্ভর উপন্যাসে দুটি বিষয় থাকে। একটি সত্য ও অপরটি কল্পনা। এ দুটি ধরেই ঔপন্যাসিককে এগোতে হয়। এ জন্য গবেষণার প্রয়োজন হয়, যেটি লেখক করেছেন বলেই উপন্যাস পাঠে প্রতীয়মান হয়। তাই ‘মৌর্য’ উপন্যাসে শুধু একজন কথাশিল্পী নয়, একজন গবেষকেরও সন্ধান পাওয়া যায়। লেখক এতে ইতিহাসের উপাদান নিয়েছেন, আবার কল্পনা দিয়ে সেই সময়ের ছবি এঁকেছেন। ইতিহাসের সঙ্গে কল্পনার অনন্য মিশেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে উপাখ্যানটি। ঔপন্যাসিক ইতিহাসের চরিত্রগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ইতিহাসের সত্য ও শিল্পের দায়বদ্ধতাকে সমান্তরালে এনেছেন লেখক, এখানেই তাঁর সার্থকতা। উপন্যাসের কাহিনিতে, প্রথম মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত সম্রাট সেলুকাসের কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন। এ বিয়ের সঙ্গে ইতিহাস ও প্রেম দুই-ই জড়িয়ে রয়েছে। ঝিলাম নদীপারে গ্রিকদের প্রমোদ প্রাসাদে সেলুকাসকন্যা কর্নেলিয়াকে দেখে প্রেমে পড়ে যান চন্দ্রগুপ্ত। তাঁদের মধ্যে পত্র যোগাযোগ তৈরি হয়। প্রেম গভীরতর রূপ নিলে চন্দ্রগুপ্ত তাঁর মহামন্ত্রী চাণক্যকে বিষয়টি জানিয়ে কর্নেলিয়াকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অতি চতুর চাণক্য দেখলেন, গ্রিক তাড়ানোর এই মোক্ষম সুযোগ। তিনি বললেন, সেলুকাস কোনো ভারতীয়ের সঙ্গে কন্যার বিয়ে দেবেন না; তাঁকে যুদ্ধে পরাজিত করে তবেই তা সম্ভব। চন্দ্রগুপ্ত মন্ত্রীকে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, নন্দরাজ্যের বাকি অংশ দখলের পরই তা সম্ভব। ঘরের দরজায় শক্র রেখে বাইরে অভিযান বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের হূদয়ে বিরহের সৃষ্টি হয়। তিনি যুদ্ধে প্রথমে নন্দরাজ ও পরে সেলুকাসকে পরাজিত করেন। পরাজয়ের পর সেলুকাসের সঙ্গে চন্দ্রগুপ্তের একটি সন্ধিচুক্তি হয়। তাতে সেলুকাসের কন্যা কর্নেলিয়ার সঙ্গে চন্দ্রগুপ্তের বিয়ে, চন্দ্রগুপ্তের সেলুকাসকে পাঁচ শ যুদ্ধহস্তি প্রদান এবং দখলকৃত ভারতীয় এলাকাগুলো মৌর্যদের হাতে তুলে দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। সেলুকাস নিরুপায় হয়ে শর্ত মেনে নেন। ধ্রুপদী উপন্যাস ‘মৌর্য’তে ইতিহাসের সংশ্লেষ এটুকুই। এতে আছে বহু ঘটনা, নানা গল্প আর চমত্কার এক কাহিনি। আছে বেশ কয়টি বৃহৎ চরিত্রের উপস্থাপনা। সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায় লিখিত উপন্যাসটি পাঠককে বইয়ের শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে।

মন্তব্য