kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

রে আলাপ

নির্মাতা খ্যাতির আড়ালে প্রায়ই ঢাকা পড়ে যান লেখক সত্যজিৎ রায়। যা-ও আলোচনা হয় ‘ফেলুদা’ নিয়ে, তাঁর ছোটগল্পের কথা বলে কম মানুষই। সত্যজিতের চার ছোটগল্প অবলম্বনে নেটফ্লিক্সে কাল আসছে সিরিজ ‘রে’। লিখেছেন লতিফুল হক

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রে আলাপ

‘বারীন ভৌমিকের ব্যারাম’, ‘বহুরূপী’, ‘বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম’ ও ‘স্পটলাইট’—সত্যজিতের চার গল্প অবলম্বনে ‘রে’। তবে পরিচালক তিনজন। ‘হাঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা’, ‘বহুরূপিয়া’, ‘ফরগেট মি নট’ ও ‘স্পটলাইট’ নির্মাণ করেছেন যথাক্রমে অভিষেক চৌবে, সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও বাসান বালা। তিন পরিচালকের সত্যজিৎ-যোগ তিন রকম। বাঙালি সৃজিত যে ছোট থেকেই সত্যজিতের সব সিনেমা আর লেখার ভক্ত, বলার অপেক্ষা রাখে না। চলচ্চিত্রকার হওয়ার আগে লিখেছিলেন নাটক ‘ফেলুদা ফেরত’। গেল বছর ‘ফেলুদা’কে নিয়ে ওয়েব সিরিজও বানিয়েছেন। ‘সত্যজিতের অনেক অনেক লেখা আছে এখনো দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক। উনার অনেক গল্প নিয়েই কাজ করতে চাই। পাঁচ-ছয় বছর আগে উনার ছোটগল্প নিয়ে হিন্দিতে একটা দীর্ঘ সিরিজ করার কথা ছিল। পরে প্রজেক্টটা আর হয়নি। তবে ওই সিরিজের জন্য পড়াশোনাটা এবার কাজে লেগে গেল’, বললেন সৃজিত। ‘ইশকিয়া’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘সনচিড়িয়া’খ্যাত পরিচালক অভিষেক। তিনিও সত্যজিতের ভক্ত বনে যান ছোটবেলায়, দূরদর্শনে ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ দেখে। “রাঁচিতে আমাদের এলাকায় অনেক বাঙালি পরিবার ছিল। এক রবিবারে দেখি বন্ধুরা সবাই উত্তেজিত, টিভিতে ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ দেখাবে। সেই প্রথম পরিচয়। এরপর মুগ্ধ হওয়ার পালা। ভারতের এমন কোনো চলচ্চিত্রকার নেই যাঁর সঙ্গে পরোক্ষভাবে সত্যজিতের সম্পর্ক নেই”, বলেন অভিষেক। তাঁর মতো ‘মর্দ কা দর্দ নাহি হোতা’ পরিচালক বাসান বালাও মুগ্ধ হন ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ দেখে। “ছবিতে ভূতের নাচের সঙ্গে ওই রকম মিউজিক, কস্টিউম পাগল করে দেওয়ার মতো। এ ছাড়া উনার ছবির অন্য রকম একটা উত্তেজনা আছে। ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’-এর ঐতিহাসিক ছুরি চালানোর দৃশ্য আমার দেখা সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দৃশ্যের একটা”, বলেন বাসান।

সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তৈরি হয়েছে ‘রে’। নেটফ্লিক্সের এই সিরিজের দৃশ্যায়নের সময় মূল গল্পের অনেক কিছুতেই বদল আনতে হয়েছে। ‘স্থান, কাল পাত্র—অনেক কিছুই বদলাতে হয়েছে। শুধু কলকাতার প্রেক্ষাপটে নির্মাণ করলে সেটা বাংলাতে করতে হতো’, বলেন অভিষেক। সৃজিত বলেন, ‘গল্প অবলম্বনে না বলে বরং প্রেরণা নিয়েছি বলা ভালো। আমার বাছাই করা দুটো গল্পেরই (বহুরূপী ও বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম) একটা ধূসর ব্যাপার আছে। পর্দায় যা দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পেয়েছি।’

চার ছবিতে দেখা যাবে এই সময়ের পরিচিত এক ঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। যাঁদের মধ্যে শুরুতেই আছেন মনোজ বাজপাই। ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’-এর কল্যাণে সম্ভবত তিনি এখন ভারতের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেতা। এই সিরিজে তাঁকে অবশ্য দেখা যাবে শাস্ত্রীয় গায়কের চরিত্রে। এক সাক্ষাৎকারে মানোজ কথা বলেন তাঁর সত্যজিৎ-স্মৃতি নিয়ে, “বিহারে বড় হওয়ার সময় শুধু মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবিই দেখেছি। ২৪ বছর বয়সে যখন নাটক করতে প্যারিসে যাই তখন দেখি স্থানীয়রা সত্যজিৎ নিয়ে কথা বলছে! সত্যজিতের ছবিগুলোর মধ্যে প্রথম ‘মহানগর’ দেখি। কিন্তু তখন তত ভালো লাগেনি, স্লো মনে হয়েছে। পরে যখন সিনেমা বোঝা শুরু করলাম, বুঝলাম ড্রামা, হাস্যরস, দর্শন মিলিয়ে কত অসাধারণ সিনেমা সেটা। শ্যাম বেনেগাল, নাসিরুদ্দীন শাহসহ অনেক সিনিয়র আমাকে সত্যজিতের রস আস্বাদনের পরামর্শ দেন।”

মনোজ ছাড়াও সিরিজে দেখা যাবে কে কে মেনন, গজরাজ রাও, আলি ফজল, রাধিকা মদন, হর্ষবর্ধন কাপুর, বিদিতা বাগ, অনিন্দিতা বসু, চন্দন রায় স্যানাল ও শ্বেতা বসু প্রসাদকে। এই সিরিজে অভিনয় নিজের ক্যারিয়ায়ের বড় প্রাপ্তি মনে করেন আলি ফজল, যিনি এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের হলিউড ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘আমার প্রজন্মের অনেকের মতো আমারও সত্যজিতের কাজের সঙ্গে তেমন পরিচয় হয়নি। যে কারণে আমি অনুতপ্ত। কলেজে পড়ার সময় পশ্চিমা অনেক পরিচালকের কাজেই মুগ্ধ হতাম, অথচ সত্যজিৎ দেখা হয়নি’, বলেন আলি।

মূল ধারার বলিউডে আগে সত্যজিতের ছোটগল্প নিয়ে কাজ করেছিলেন দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়। অ্যান্থলজি ছবি ‘বম্বে টকিজ’-এ ‘পটলবাবু ফিল্মস্টার’ অবলম্বনে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি বানিয়েছিলেন তিনি।

  শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীর চরিত্রে মনোজ বাজপাই