kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

তিশার পছন্দেই ফারিণ

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বহুল প্রতীক্ষিত ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’ ৯ জুলাই মুক্তি পাবে জি-ফাইভে। সিরিজটির প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার গল্প বলেছেন তাসনিয়া ফারিণ। লিখেছেন এম আর হাসান

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিশার পছন্দেই ফারিণ

গত বছরের ডিসেম্বরে এক ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে ডিনারে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। তখনই মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এক সহকারীর ফোন, ‘একটা প্রজেক্ট করতে যাচ্ছেন সরয়ার ভাই। আপনি আগ্রহী হলে ভাইয়া কথা বলবেন।’ ফারিণের আগ্রহী না হওয়ার কোনো কারণই নেই। মাত্র দুই বছরের ক্যারিয়ার, এর মধ্যেই এক দেশসেরা পরিচালকের প্রস্তাব, ফিরিয়ে দেওয়ার কী মানে থাকতে পারে! ‘প্রাথমিক আলাপে ফারুকী ভাই সন্দিহান ছিলেন আমাকে নিয়ে। বয়স কম, ম্যাচিউরড একটা মেয়ের চরিত্র হয়তো পারব না। তিনি কিছু ছবি চাইলেন। ছবি দেখে জানালেন, ওজন বাড়াতে হবে। এখানেও তাঁর সন্দেহ! একটা চরিত্রের জন্য কি আর আমি ওজন বাড়াব! তাঁকে অবাক করে দিয়ে বললাম আমি রাজি। এক মাস সময় চাইলাম। ছয়-সাত কেজি ওজন বাড়াতে পারব বলে আশ্বাস দিলাম। আমি নিজের মতো করে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো কথা নেই। বুঝতেও পারছিলাম না কাজটায় আমি আসলেই থাকছি কি না’, বললেন ফারিণ।

‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’-এর প্রযোজক অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। তাঁর আগ্রহেই অবশেষে ফাইনাল হলেন ফারিণ। সেটা কিভাবে? ফারিণ বলেন, ‘তিশা আপুর প্রবল আগ্রহেই ফারুকী ভাই আমার সঙ্গে দ্বিতীয়বার কথা বলেন। আপুর মনে হয়েছিল চরিত্রটা আমি ভালো করতে পারব।’

জানুয়ারির শুরুর দিকে ফারুকী দেখা করতে বললেন। ফারিণ তখন ঢাকার বাইরে শুটিংয়ে। পরদিন সকালের ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছে দুপুরেই দেখা করতে গেলেন। “আমাকে দেখেই সরয়ার ভাই বুঝতে পারেন ওয়েট গেইন করেছি। আমার ডেডিকেশনে তিনি খুব খুশি হন। বললেন, ‘মাসখানেক ডেট ফাঁকা রাখতে হবে।’ এক মাসের মধ্যে ডেট জানাবেন বলেও জানান। সেই এক মাস আর শেষ হয় না। কল আর আসে না। আমিই মাঝেমধ্যে নক দিচ্ছিলাম ফারুকী ভাইয়ের সহকারীদের। তাতেও লাভ হলো না।

অনেক পরে আমাকে জানানো হলো, ‘হ্যাঁ, তুমি থাকছ।’ ঠিক বোঝাতে পারব না কতটা কাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছিল কাজটি।”

মজার ব্যাপার হচ্ছে, তখনো ফারিণ জানতেন না তাঁর চরিত্রটা, এমনকি চরিত্রের নাম কী! 

সিরিজে ফারিণ অভিনীত চরিত্রের নাম সাবিলা। চরিত্রটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর নিজেই সন্দিহান হয়ে পড়লেন, আসলেই কি তিনি পারবেন! যদিও সংবাদ সম্মেলনে ফারুকী ও তিশা বলেছেন, ফারিণ দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন।

সাবিলাকে নিজের মধ্যে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফারিণকে। কারণ এই চরিত্রের কোনো কিছুই ফারিণের জীবনে ঘটেনি। “আমি এতই আপসেট হয়ে যাচ্ছিলাম যে সরয়ার ভাইকে বলেই ফেললাম, আমি মনে হয় পারব না। তিনি বললেন, ‘টেনশনের কিছু নেই। তুমি শুধু চরিত্রটা ফিল করার চেষ্টা করো। বাকিটা আমি দেখছি।’ কাজটির সঙ্গে তিন মাস যুক্ত ছিলাম। ২৯ দিন শুটিং করেছি। ৭টায় শুটিং শুরু হলে রাত ৯টার মধ্যে আমরা প্যাকআপ করতাম। শুটিং শুরুর ১০ দিন আগে প্রতিদিন লোকেশন ভিজিট করতে যেতাম। চরিত্রের জীবনটা বোঝার জন্য বাসে যাতায়াত করেছি। কবিতা পড়েছি, ছাদে হেঁটেছি। সিরিজটি করার সময় আমি সাইকোলোজিক্যালি তাসনিয়া ফারিণ ছিলাম না”, বলেন ফারিণ। 

সিরিজের গল্প নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে। নারী-পুরুষের সম্পর্ক নানাভাবে দেখানো হবে। বৈষম্য বা হ্যারাসমেন্ট একটা বিষয়। আট পর্বের এই সিরিজের প্রধান নারী চরিত্র সাবিলা। সাবিলার একটা জগত আছে। যেখানে তার সঙ্গে বাবা, স্বামী ও অফিসের সম্পর্ক আছে। শুধু সাবিলা নয়, আরো যারা অভিনয় করেছে প্রত্যেকেরই একটা গল্প আছে।

মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, চঞ্চল চৌধুরী, পার্থ বড়ুয়া, হাসান মাসুদসহ সিনিয়র শিল্পীরা অভিনয় করেছেন। তাঁদের সঙ্গে কাজ করে কী শিখলেন ফারিণ? ‘সরয়ার ভাই সবাইকে চরিত্রের নামেই ডাকেন। সবাই চরিত্রের ভেতরে থেকেই কথা বলতেন। ফলে আমিও তাঁদের ওভাবেই পেয়েছি। আমাকেও সেভাবে ট্রিট করেছেন তাঁরা। মনে হয়েছে, তাঁদের কেউ আমার বাবা, অফিসের পিওন, বস বা হাজবেন্ড’, বলেন ফারিণ।