kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

লকডাউনের দিনে

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



লকডাউনের দিনে

ভাবনার ছবি তুলেছেন জয়িতা আফরিন, মিমের ছবি তুলেছেন রিয়াদ আশরাফ এবং মেহজাবীনের ছবিটি সংগৃহীত

কী করছেন তাঁরা

গত বছর স্বেচ্ছাবন্দিত্বের দিনগুলোতে শোবিজ তারকাদের অনেকেই বাড়িতে বসে ছবি এঁকেছেন, রান্না শিখেছেন-করেছেন, ইউটিউব বা ফেসবুক লাইভ করেছেন। এবারের স্বেচ্ছাবন্দিত্বের দিনগুলোতে সবাই কেমন যেন চুপ। কী করছেন তাঁরা? শুনেছেন ইসমাত মুমু

 

আঁকছি তবে প্রকাশ করছি না

আশনা হাবিব ভাবনা অভিনেত্রী

গত বছর আঁকাআঁকি শুরু করেছিলাম। এই বছর যখন করোনার প্রভাব কম ছিল তখনো অবসর সময়ে প্রচুর আঁকাআঁকি করেছি। এখন আক্রান্তের হার বেড়েছে। কে কত দিন সুস্থ থাকি বলতে তো পারছি না। মনে সাহস নিয়ে কিছু শিল্পের মধ্যে আছি। বই পড়ি আর লেখালিখি করি। ফাঁকে ছবিও আঁকছি। তবে সেসব প্রকাশ করছি না। সব সময় সব যে প্রকাশ করতে হবে এমনও না। অনেক কিছুই তো করি, প্রকাশ করি না। আর শুটিংয়ের কথা কী বলব, আমি তো কখনোই বেশি কাজ করতাম না। তার পরও বেশ কিছু নাটকের কাজ জমে আছে। ঈদের আগে আর করতে পারব কি না জানি না। আমি যেভাবে বড় হয়েছি, শিল্পের প্রায় সব মাধ্যমেই টুকটাক হেঁটেছি। শৈশবের অনেক কিছুই এই লকডাউনে নতুন করে ঝালাই করে নেওয়ার ইচ্ছে আছে, যদি বেঁচে থাকি।

 

কিছু লেখার চেষ্টা করছি

বিদ্যা সিনহা সাহা মিম অভিনেত্রী

পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঈদে আমার সিনেমা মুক্তি পেত। ‘ইত্তেফাক’-এর কিছু শুটিং এই সময়ে হওয়ার কথা ছিল। এখন বাসায় আছি। ছোট বোনটাও কাছে আছে। ওর সঙ্গে দুষ্টামি করি। সিনেমা দেখছি প্রচুর। জিম করি নিয়মিত, এটা আমাকে রিফ্রেশ রাখে। লেখালেখির অভ্যাস তো আগে থেকেই ছিল। এবার কিছু লেখার চেষ্টা করছি। আমি খুব ছবি তুলতে পছন্দ করি। বাসায় বসেই ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছি। মা-বাবাকে নিয়ে খুবই টেনশনে আছি। দুজনেরই বয়স হয়েছে। নিজেরা বাইরে যাচ্ছি না, ওনাদেরও বের হতে দিচ্ছি না। দুই বোন চেষ্টা করছি যতটা পারা যায় তাঁদের ফুরফুরে রাখতে।

এ যাত্রায় বেঁচে যাব কি না বুঝতে পারছি না। পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এভাবে কত দিন ঘরবন্দি থাকতে হবে কিছুই জানি না।

 

এ বছর অনেকটাই ভেঙে পড়েছি

মেহজাবীন চৌধুরী অভিনেত্রী

সর্বশেষ শুটিং করেছি ২৯ মার্চ। সাধারণত রমজানের এই সময়ে আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় কাটে। আর এবার ঘরে বসে আছি। গত বছরের লকডাউনে মনের যে অবস্থা ছিল এখন সেটা নেই। কাজ করতে পারছি না, এটা নিয়ে গত বছর টেনশনে ছিলাম। কিন্তু মনে জোর ছিল আমরা ঘুরে দাঁড়াব। এ বছর অনেকটাই ভেঙে পড়েছি। মনে হচ্ছে শুধু পিছিয়েই যাচ্ছি। গত বছর প্রতিদিন কিছু না কিছু করার চেষ্টা করেছি। রান্নাবান্না, ইউটিউব কনটেন্ট করেছি, সহকর্মীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। এবার কেন যেন মনে জোর পাচ্ছি না। পরিবার ও সহকর্মীদের সবার জন্যই টেনশন হচ্ছে। 

বাসায় আছি পরিবারকে সময় দিচ্ছি। ইফতারে নতুন কিছু পদ তৈরির চেষ্টা করছি। কিছু স্ক্রিপ্টও আছে সেগুলো পড়ছি। শুধু আশায় আছি কবে পৃথিবীটা সুস্থ হবে। করোনার এই অবস্থা চলতে থাকলে আমি শুটিং শুরু করব না।

 

নিরব-মিথিলা—‘অমানুষ’ ছবির নায়ক-নায়িকা

লকডাউনে শুটিং

আগে বিজ্ঞাপনচিত্রে একসঙ্গে কাজ করলেও প্রথমবার সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন নিরব ও রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। অনন্য মামুনের ‘অমানুষ’ ছবিটি দিয়েই চলচ্চিত্রে অভিষেক হবে মিথিলার। ২৪ মার্চ শুরু হয়েছে ছবিটির শুটিং। ঢাকা, ময়মনসিংহ, বিরুলিয়া, গাজীপুর, ভবানীপুর ও বান্দরবানে এরই মধ্যে ছবির ৮০ শতাংশ শুটিং হয়েছে। লকডাউনের মধ্যেই শুটিং করে ১৮ এপ্রিল বান্দরবান থেকে ঢাকায় ফিরেছে ছবির ইউনিট। পরিচালক- অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কেউই ছবি ও শুটিং লোকেশন নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। এমনকি স্টিল ছবিও কাউকে দেখাচ্ছেন না। চমক রাখতে চান। 

লকডাউনে শুটিং করার বিষয়ে অনন্য মামুন বলেন, ‘লকডাউন শুরুর আগেই আমরা আউটডোরে চলে গিয়েছিলাম। তাই আমরা শুটিং বন্ধ রাখিনি। তা ছাড়া আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে শুটিং করেছি।’

নিরব বলেন, ‘৩ এপ্রিল যখন বান্দরবান যাই তখন তো করোনার প্রকোপ এতটা বোঝা যায়নি। ইউনিটে প্রায় ১০০ জন সদস্য। এমন জায়গায় শুটিং করেছি যেখানে শুধু আমরাই ছিলাম। ওখানে খাওয়া-দাওয়া, ওখানেই ঘুম। কেউ ইউনিট ছেড়ে যাননি, আবার বাইরের কেউ ঢুকতেও পারেনি। তেমন প্রস্তুতি নিয়েই সেখানে গিয়েছিলাম। রান্নাবান্নাও সেখানে হয়েছে।’ 

রাজধানীসহ দেশজুড়ে চলছে সুনসান নীরবতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ। চলছে ‘কঠোর’ লকডাউন। অনন্য মামুন আরো বলেন, ‘এখন আর কাউকে সতর্ক করতে হয় না। সবাই নিজেরটা বোঝে। শুটিংয়ে প্রতিদিনই সবার শরীরের তাপমাত্রা মাপতাম। খোঁজ নিতাম কারো সমস্যা হচ্ছে কি না। সমস্যা হলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতাম অবশ্যই। কিন্তু এমন কিছু ঘটেনি বলে নির্বিঘ্নে শুটিং করতে পারছি।’

নিরব আরো বলেন, ‘বাকি আছে ছবির গানের দৃশ্য ধারণ। দেশের বাইরে গানের শুটিংয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। দেখা যাক কী হয়।’