kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

ফারিয়া আসিয়াছে ফিরিয়া

‘পটাকা’র দুই বছর পর গতকাল নতুন গান ‘আমি চাই থাকতে’ নিয়ে হাজির হয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। এবারও কি ঘটবে বিস্ফোরণ? লিখেছেন মাহফুজুর রহমান

১৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফারিয়া আসিয়াছে ফিরিয়া

নুসরাত ফারিয়া মাজহার ছবি : কালের কণ্ঠ

যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন। নুসরাত ফারিয়াও অভিনয় সামলে গাইতে পারেন। পারেন শরীরে ঢেউ তুলে নাচতে। নেচে, গেয়ে বছর দুয়েক আগে পটাকার মতোই আওয়াজ তুলেছিলেন। তাঁর প্রথম গান ‘পটাকা’ সশব্দে ফেটে পড়েছিল। গানের ভাষায় ‘কেউ বলেছিল ছি ছি, কেউ বলেছিল বেশ’। সেই বারুদের মতো গানের গন্ধ বাতাসে মিশে গেছে এত দিনে। দর্শক-শ্রোতা তৈরি ফারিয়ার নতুন গানের বিস্ফোরণ সামলানোর জন্য। করোনার জন্য আটকে ছিল নতুন ছবি, গানসহ আরো অনেক কিছুই। তরতাজা একটা মিউজিক ভিডিও পেলে দর্শক-শ্রোতারা নিশ্চয়ই বুঁদ হবে তাতে। ভারতের ‘এসভিএফ’-এর ব্যানারে ফারিয়ার দ্বিতীয় গান ‘আমি চাই থাকতে’র মিউজিক ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। জনতার প্রতিক্রিয়া হয়তো জানা যাবে শিগগির। তার আগে জেনে নিই গায়িকার প্রত্যাশা। ‘পটাকা’কে ছাড়িয়ে যেতে পারবে নতুন গান?

‘ঠিক বলতে পারব না। প্রথম গান যেমন মন-প্রাণ আর ভালোবাসা দিয়ে করেছি, দ্বিতীয় গানটাও তাই। ব্যতিক্রম শুধু উদ্দেশ্যে, প্রথম গানের উদ্দেশ্য ছিল এক রকম, দ্বিতীয়টায় আরেক রকম। প্রথম গানে আছে একটা মেয়ের ভালোবাসা থেকে বেরিয়ে আসার গল্প। দ্বিতীয় গান মেয়েটার ভালোবাসায় বসবাসের গল্প’, জবাব ফারিয়ার।

দুটো গানের মাঝখানে দুই বছরের গ্যাপ। নেহাত কম সময় নয়। ফারিয়া বললেন, ‘ইচ্ছে করে দেরি করিনি। গত বছর জুলাইয়ে এই গানের পরিকল্পনা করি। তার আগে ও পরে অনেকটা সময় সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ফাঁকে ফাঁকে করেছি গানটির কাজ।’

গানচিত্রটির শুটিং হয়েছে ভারতের রাজস্থানে। কোরিওগ্রাফি করেছেন যথারীতি বাবা যাদব। আগের গানটি প্রীতম হাসান করলেও এবারেরটির সুর-সংগীত করেছেন মাস্টার ডি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এই গায়ক-সুরকার কিভাবে যুক্ত হলেন ফারিয়ার গানে?

“মাস্টার ডির প্রথম গান ‘ও মেয়ে কথা না কইয়া তুমি যাইও না’ বাংলাদেশে খুব সাড়া ফেলেছিল। পৃথিবীর অনেক দেশের শ্রোতাও পছন্দ করেছে গানটি। মনে হয়েছে, আমিও তাঁর সঙ্গে একটা গান করি না কেন! তাঁর জনপ্রিয়তা আমার কাছে প্রাধান্য পায়নি, কাজের মানটাকেই দেখেছি। জনপ্রিয়তা যেমনই হোক কাজের মান থাকলে দর্শক-শ্রোতা সেটাকে গ্রহণ করবেই”, বললেন ফারিয়া।

আজ যিনি অভিনয় করছেন, গাইছেন, নাচছেন, এক সময় তিনি উপস্থাপনাও করতেন। চেনা আঙিনায় কবে ফিরছেন ফারিয়া?

জানতে চাইলে সাবেক রেডিও জকি বলেন, ‘উপস্থাপনায় ফিরতে তো চাই। ভালো এবং বড় অনুষ্ঠান করতে চাই। তার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার, যে আয়োজন দরকার—তা পাচ্ছি কই! আগের মতো জমকালো অনুষ্ঠান কম হচ্ছে। তেমন হলে আবার মাইক্রোফোন হাতে নেব।’

উপস্থাপনা থেকে সিনেমায় আসেন ফারিয়া। প্রথম ছবি ‘আশিকী’ [২০১৫]। তারপর ‘বাদশ্য দ্য ডন’, ‘ধ্যাততিরিকি’, ‘বস টু’ ছবিতে ক্যারিয়ার বড় হয়েছে তাঁর। করোনা জাঁকিয়ে বসার আগে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘শাহেনশাহ’। তার আগে শুটিং সেরেছিলেন দীপংকর দীপনের ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এর। শিহাব শাহীনের ওয়েব ছবি ‘যদি কিন্তু তবুও’র জন্য করা ফটোসেশনে অপূর্বর সঙ্গে ফারিয়ার জোরদার রসায়নের ইঙ্গিত মিলেছিল। অঘোষিত লকডাউনে ছবিটির শুটিং থমকে যায়। লম্বা অবসর পেয়ে গ্রামে চলে যান ফারিয়া। ফিরে এসে জানান রিয়াদ রশিদ রনির সঙ্গে তাঁর বাগদানের খবর।

সম্প্রতি হবু বরের সঙ্গে ঘুরে এসেছেন দুবাই। লোকে বলছে ‘প্রাক-মধুচন্দ্রিমা’।

ফারিয়া কী বলছেন? ‘এটাকে প্রি-হানিমুন বলা যাবে না। গিয়েছিলাম ওয়েডিং শপিংয়ে। হানিমুনের জন্য আলাদা করে বড় প্রিপারেশন আছে আমাদের’, বললেন ফারিয়া।

জানালেন, করোনার পরেই তাঁদের বিয়ে। সংসার শুরু করে আবার সিনেমাকে বিদায় দেবেন না তো? অতীতে অনেকেই বিয়ের পর সিনেমাকে পিঠ দেখিয়েছেন। ফারিয়া জানালেন, সিনেমা ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। শ্যাম বেনেগালের নির্মাণে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ছবি আছে তাঁর আগামী কাজের তালিকায়। আছে কিছু স্বপ্নের চরিত্রও। অভিনয় ছাড়লে কিভাবে করবেন সেগুলো!

স্বপ্নের চরিত্রগুলো কেমন? বর্ণনা দিলেন ফারিয়া, ‘সাধারণ একটা মেয়ের চরিত্র করতে চাই। বড়লোকও না, গরিবও না, সাধারণ মেয়ে। যার কোনো গল্প নেই। কিছু কষ্ট আছে, জীবনে কিছু ধাক্কা আছে। ধাক্কাগুলো নিয়ে যদি একটা চরিত্র করা যায় তবে বেশ ভালো হবে।’

পর্দার বাইরে বাস্তবেও ফারিয়ার নানা চরিত্র, নানা ভূমিকা। যার একটি ‘ছাত্রী’। লন্ডনে এলএলবি পড়ছেন। চলছে দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা। খুব দেরি নেই, যখন তাঁকে লোকে ‘নুসরাত ফারিয়া, এলএলবি’ বলে জানবে। আর ‘পটাকা গার্ল’ তো লোকে তাঁকে ডেকেই থাকে। নতুন গানের পর নতুন কোনো নাম জোটে কি না দেখা যাক!

মন্তব্য