kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

এই ঈদে দেখতে চান পুরনো কোন নাটক?

১৪ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



এই ঈদে দেখতে চান পুরনো কোন নাটক?

টেলিফিল্ম ‘নীলপরী নীলাঞ্জনা’য় জাকিয়া বারী মম ও তাহসান রহমান খান

ঈদে প্রচারের জন্য নির্মিত হয়নি নতুন কোনো নাটক। গত ঈদ ও নববর্ষে প্রচার না-হওয়া কিছু নাটক দেখানো হবে। বিটিভি ও প্যাকেজ যুগে নির্মিত নিজের পুরনো কোন নাটক আবার দেখতে চান, বিভিন্ন প্রজন্মের ১০ অভিনেতা ও পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমরা।

পাতা ঝরার দিন

সৈয়দ হাসান ইমাম

দুই বছর আগে কোরবানির ঈদে চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হয়েছিল রেদওয়ান রনির ‘পাতা ঝরার দিন’। তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া নাটকটি আবার দেখতে চাই। গল্পে দারুণ কিছু মেসেজ আছে, আমি চাই আরো বেশি মানুষ গল্পটা জানুক। আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করছি, বেশির ভাগ নাটকেই আমাদের শোপিস করে রাখা হয়। কয়েকটা দৃশ্যের জন্য আমরা উপস্থিত হই। কিন্তু এ নাটকটি আমার বয়সী একজন মানুষকে নিয়েই। আমাদেরও যে গল্প আছে সেটা তুলে ধরা হয়েছে। আমার অভিনীত নাটক বলেই বলছি না, এ সময়ে এমন গল্প খুব প্রয়োজন। বেশ যত্ন করে রনি কাজটা করেছে। ঈশিতা, মৌসুমী হামিদরাও ভালো করেছে।

 

সুইট সিক্সটিন

দিলারা জামান

অনেক নাটকই দেখা হয়, কিন্তু কোনোটাই শেষ করতে পারি না। আবার কোনোটা শুরুই করি মাঝখান থেকে। তাই সেগুলো মনে রাখাও কঠিন। নিজের নাটকের কথাই মনে থাকে বেশি। গেল কয়েক বছরে যত নাটক করেছি, কোনো বিশ্লেষণে না গিয়ে সেখান থেকে বেছে নেব ‘সুইট সিক্সটিন’। গত বছর ঈদে নাগরিক টিভিতে প্রচারিত নাটকটিতে ইরফান সাজ্জাদের প্রেমিকা হয়েছিলাম। গল্পটা বেশ মজার। রচনা টিকলি মাহমুদ, পরিচালনা রাহাত মাহমুদ। আমাদের এখানে বয়স হলেই অভিনয়শিল্পীরা হারিয়ে যান। এখানে আমার চরিত্রটা নিজেকে ১৬ বছরের কিশোরী ভাবে। চালচলনে, কথাবার্তায় এমনকি রূপচর্চায়ও সেই ছাপ ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। আবুল হায়াতও আছেন। তাঁর চরিত্রটাও মজার। নাটকটি আবার প্রচার হতেই পারে।

 

হেফাজ ভাই

মাসুম রেজা

‘হেফাজ ভাই’ আমার খুব প্রিয় একটা নাটক। এটিএন বাংলায় ২০১৭ সালে প্রচার হয়েছিল। আমার লেখা, পরিচালনায় সৈয়দ আওলাদ। অভিনয়ে তৌকীর আহমেদ, মোশাররফ করিম, তারিন। এত সহজ একটা গল্প, কিন্তু খুব সুন্দর। গ্রামের স্কুলের হেডমাস্টারের সহজসরল ছেলে হেফাজ [মোশাররফ করিম], তার ও তার বাবার স্বপ্ন—সে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করবে। সেই স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসে। তার চালচলন নিয়ে তৌকীর লিখে ফেলে ঈদের সেরা হাসির নাটক। মোশাররফ করিমকে বেশ কয়েকটি জায়গায় বলতে শুনেছি যে এটা ওর করা অন্যতম সেরা নাটক।

 

বরিশাল বনাম নোয়াখালী

মীর সাব্বির

২০০৮ সালে এটিএন বাংলায় প্রচার হওয়া ‘বরিশাল বনাম নোয়াখালী’ আমি আবার দেখতে চাই। এটা আমার লেখা ও পরিচালনায় প্রথম নাটক। এক ঘণ্টার এই নাটকে ১৪ জন অভিনয় করেছিলেন। ছিলেন হুমায়ুন ফরীদিও। নাটকটিতে আমি প্রথম পরিপূর্ণ আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেছি। এর পরেই বাংলাদেশে আঞ্চলিক ভাষার নাটক ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে।

আরেকটি নাটক হুমায়ূন আহমেদের ‘নাট্যমঙ্গলের কথা শোনে পুণ্যবান’। আমার আইডিয়া নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ নাটকটি লিখেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ আমাকে বলেছেন, অন্য কারো আইডিয়া নিয়ে তাঁর লেখা প্রথম নাটক এটিই। দেশটিভিতে প্রচার হয়েছিল।

 

এতিমখানা

গিয়াসউদ্দিন সেলিম

এতিমখানা, সবার আগে এ নামটাই মনে এলো। ২০০৫-৬ সালে এটিএন বাংলায় প্রচার হয়েছিল। আমার রচনা ও পরিচালনায় নাটকটিতে অভিনয় করেছে বিজরী, তারিন, চঞ্চল, ফজলুর রহমান বাবু। আমার ভালোলাগার অন্যতম কারণ, এখানে রূপক অর্থে অনেক কিছুই বলতে পেরেছি। একটা এতিমখানা নিয়েও যে কত চক্রান্ত চলে, সেটা তুলে ধরেছি। এতিমখানাকে যদি বড় করে দেখি, তাহলে দর্শক অনেক কিছুই রিলেট করতে পারবে। এখনো নাটকটির আবেদন অটুট।

 

আকাশজোড়া মেঘ

চয়নিকা চৌধুরী

আমি সবার নাটকই দেখি। অনেক নাটকই এখন আবার প্রচার হলে ভালো লাগবে। এ মুহৃর্তে মনে পড়ছে, ২০১৩ সালে ঈদে এনটিভিতে প্রচার হওয়া টেলিফিল্ম ‘আকাশজোড়া মেঘ’-এর কথা। রচনায় অরুণ চৌধুরী। শিল্পীতালিকা বেশ বড়—আলী যাকের, সুবর্ণা মুস্তাফা, শহীদুজ্জামান সেলিম, আফসানা মিমি, মাহফুজ আহমেদ, শম্পা রেজা, সারিকার সঙ্গে আছেন আলমগীর। প্রত্যেকেই এত দারুণ অভিনয় করেছেন, এমন অভিনয়সমৃদ্ধ টেলিফিল্ম এখন আবার প্রচার হলেও দর্শক দেখবে। গল্পটাও দারুণ। ‘নির্জন সাক্ষর’, ‘হাসপাতাল’, ‘আঁচড়’, ‘অনুমতি প্রার্থনা’...আমার এই নাটকগুলোও আবার দেখতে চাইবেন দর্শক।

 

 

হুমায়ূন আহমেদের যেকোনো নাটক

মেহের আফরোজ শাওন

একটু স্বার্থপরের মতোই বলব, হুমায়ূন আহমেদের নাটকগুলো আবার প্রচার হোক। তাঁর বেশ কিছু নাটক এরই মধ্যে প্রচার হয়েছে। সামনে আরো প্রচার হোক। ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘বহুব্রীহি’, ‘এইসব দিনরাত্রি’ প্রচার হচ্ছে। সামনে ‘অয়োময়’, ‘আজ রবিবার’ও প্রচার হতে পারে। ঈদের সময়ও এগুলো দর্শক পছন্দ করবে। এই নাটকগুলোর সঙ্গে তো নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। তাঁর অনেক প্যাকেজ নাটক আছে, যেগুলো প্রচার হতে পারে। তাঁর যেকোনো নাটক দেখতে চাই। আসলে নাটকে হুমায়ূন আহমেদকে তো কেউ ছাপিয়ে যেতে পারেনি।

 

মেঘ রোদ্দুর ও রমলা

সোহানা সাবা

২০১১ সালে দেশটিভিতে প্রচার হয়েছিল ‘মেঘ রোদ্দুর ও রমলা’। লিখেছেন মুরাদ পারভেজ, পরিচালনা করেছি আমি। অভিনয়ে আজিজুল হাকিম, ইন্তেখাব দিনার, দীপান্বিতা। দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে দেশে ফিরেছে দুই বন্ধু। এক বৃষ্টির রাতে বন্ধুকে হত্যা করে তার সব অর্থ ও জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় অন্য বন্ধু। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। আরেক বৃষ্টির দিনে নিজের অজান্তেই বন্ধুকে হত্যার কথা স্বীকার করে সে। বেশ ভালো চিত্রনাট্যে টানটান গল্প। নাটকটা এখনো প্রচার হলে দর্শক মুগ্ধ হয়ে দেখবে।

 

নীলপরী নীলাঞ্জনা

জাকিয়া বারী মম

২০১৩ সালে ঈদে এনটিভিতে প্রচারের পর দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল শিহাব শাহীনের টেলিফিল্ম ‘নীলপরী নীলাঞ্জনা’। আবারও যদি ঈদে প্রচার হয়, দর্শক খুব করে দেখবে। ফেসবুকে এ নামেই অজস্র আইডি চালু হয়েছিল, দারুণ কিছু গান আছে। একবার সুন্দরবন গিয়েছিলাম, সেখানে বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের বলতে শুনেছি—এই দ্যাখ, ‘নীলপরী নীলাঞ্জনা’র মেয়েটা! মানে মমর চেয়েও চরিত্রটা বেশি পরিচিতি পেয়েছে। তাহসান ভাইও তখন সবে অভিনয়ে রেগুলার হওয়া শুরু করেছেন। আমাদের জুটিটাও ভালো জমেছিল। এখন তো ভিউয়ের যুগ, এ সময়ে টেলিফিল্মটি প্রচার হলে অনেক রেকর্ডই ভাঙত।

 

 

এই শহরে

মেহজাবিন চৌধুরী

গত বছর কোরবানির ঈদে এনটিভিতে প্রচার হয়েছিল আশফাক নিপুণের টেলিফিল্ম ‘এই শহরে’। আমার প্রিয় নাটক-টেলিফিল্ম অনেক। কিন্তু আশফাক নিপুণ এখানে যা বলেছেন, সেটা বেশ সাহসী। এই সময়ের কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দর্শক টেলিফিল্মটির সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পেরেছেন। আমরা বাজেটের পর সবচেয়ে বেশি সংকটে ভুগি গল্পের। আর সেই গল্প যদি আশপাশের বেদনাদায়ক ঘটনা হয়, তাহলে তো কথাই নেই। আমার বিশ্বাস, টেলিফিল্মটি বারবার প্রচার হলেও দর্শক দেখবে।

 

অনুলিখন : মীর রাকিব হাসান

মন্তব্য