kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

গণ্ডি ছাড়িয়ে বন্ধুত্ব

প্রথমবার বাংলাদেশি ছবিতে সব্যসাচী চক্রবর্তী, জুটি বেঁধেছেন সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে। আছেন অপর্ণা ঘোষ-মাজনুন মিজান জুটিও। ফাখরুল আরেফীন খানের সেই ‘গণ্ডি’ মুক্তি পাবে কাল। ছবির দুই জুটি নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গণ্ডি ছাড়িয়ে বন্ধুত্ব

‘গণ্ডি’তে সুবর্ণা মুস্তাফা ও সব্যসাচী চক্রবর্তী

‘গণ্ডি’র প্রচারণায় সব্যসাচী চক্রবর্তী ঢাকায় এসেছেন মঙ্গলবার। এ যাত্রায় অবশ্য তাঁর সঙ্গে কথা হয়নি, ‘গণ্ডি’বদ্ধ আলাপ করে গেছেন আগেই, শেষবার যখন শুটিং করে গেলেন তখন। সঙ্গে ছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফাও। পরিচালক ফাখরুল আরেফীন কেন তাঁকে ‘গণ্ডি’র নায়ক ভাবলেন, এটা ভেবেই হয়রান হয়েছিলেন ‘ফেলুদা’। বলেন, ‘বয়স ছাড়া আর কোনো কিছুর সঙ্গেই বোধ হয় ছবির ‘আজগর’ চরিত্রটির সঙ্গে আমার মিল নেই। হয় গুণ্ডা, নয় পুলিশ, নয় গোয়েন্দা—এ রকম চরিত্রে অভিনয় করেই অভ্যস্ত। অভিনয়জীবনের শুরুতে এ রকম কিছু চরিত্র করেছিলাম। চেহারাগত কারণে পরে আর কেউ এ ধরনের চরিত্র করাতে চাননি। গত বছর জানুয়ারিতে আরেফীন যখন আমার বাসায় গিয়ে গল্প শোনান, তখনই রাজি হই। পরিচালকের চোখে যে চিত্রকল্প দেখেছি, স্বপ্ন দেখেছি—সেটাও একটা কারণ।’

‘গণ্ডি’তে যুক্ত হওয়ার কারণ বললেন সুবর্ণা মুস্তাফাও, ‘ছবির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো গল্প। পরে যখন শুনলাম, আমার প্রিয় একজন অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীও আছেন, বিষয়টি তখন সোনায় সোহাগার মতো হয়ে গেল। সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো সহশিল্পী পেলে অভিনয় এমনি এমনিই ভালো হয়ে যায়।’

ছবিতে সুবর্ণা ও সব্যসাচীকে নেওয়ার পর পরিচালকের রাতের ঘুম হারাম! এই দুই অভিজ্ঞ শিল্পীকে কিভাবে ক্যামেরাবন্দি করলে সবচেয়ে ভালো হবে, সেটা ভেবেই দিন পার করেছেন। গত বছর মার্চে শুরু হয় দৃশ্যধারণ। যুক্তরাজ্য ছাড়াও ঢাকা ও কক্সবাজারে হয়েছে শুটিং।

৫৫ ও ৬৫ বছরের দুজন নারী-পুরুষের বন্ধুত্বের গল্প ‘গণ্ডি’। স্বামী ও স্ত্রী হারিয়ে দুজনই একা, বিষণ্নতায় দিন কাটাচ্ছেন। ছেলেমেয়েরা থাকে বিদেশে। ডিমেনশিয়ায় ভোগা সব্যসাচী ঘটনাক্রমে ডেন্টিস্ট সুবর্ণার চেম্বারে যান, তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। তাঁদের ছেলেমেয়েরা কি সেটা মেনে নিতে পারে? এ নিয়েই গল্প।

কেমন ছিল শুটিংয়ের দিনগুলো? সব্যসাচী বলেন, ‘দারুণ। আগেও পাঁচ-ছয়বার এসেছি বাংলাদেশে। ঘুরতে এসেছি, আবার মঞ্চনাটক করতেও এসেছি। এবার অন্য বাংলাদেশ আবিষ্কার করলাম। বিশেষ করে কক্সবাজারের কথা বলব। বেড়ানোর জন্য দারুণ জায়গা! যদিও শুটিংয়ের কারণে সেভাবে ঘোরার সুযোগ হয়নি। আর সুযোগ এসে থাকলেও সেটার সদ্ব্যবহার করিনি। এখানে আমি এতটাই পরিচিত, চারদিকে লোকে ঘিরে ধরছে, ছবি তুলছে, অটোগ্রাফ চাইছে। যেতে হলে কাউকে না কাউকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হতো। তবে শুটিংয়ে কয়েকটি বিচে গিয়েছি, সাম্পানে চড়েছি, বিচ বাইক চালিয়েছি। শুধু স্পিডবোট আর প্যারাসাইক্লিং হয়নি। সেগুলো তোলা রইল। যদি কোনো দিন সুযোগ হয় তাহলে হবে।’ সব্যসাচীর কথা শুনে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘এখন হয়নি তো কী হয়েছে? আবার যখন আসবেন তখন হবে।’

একে অপরের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? সুবর্ণা বললেন আগে, ‘উনি দারুণ অভিনেতা। প্রায় ৪৪ বছর ধরে নিয়মিত অভিনয় করছেন। ফলে অ্যাকশন আর রিঅ্যাকশন নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয়নি কারোই। আমাদের কাজের পদ্ধতিটা প্রায় একই রকম। দুজনই জানি আমাদের কী করতে হবে।’

সব্যসাচী বলেন, ‘অভিজ্ঞতায় উনি আমার সিনিয়র। উনার সঙ্গে অভিনয় করে দারুণ লেগেছে। ব্যক্তি সুবর্ণাও ভীষণ ভালো মানুষ, ভীষণ রেসপেক্টেবল লেগেছে। এসেছেনও শিক্ষিত শিল্পী পরিবার থেকে। তিনি শুধু ভালো অভিনেত্রীই নন, একজন রাজনৈতিক নেত্রীও বটে। তিনি বংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য, এটা কি চাট্টিখানি কথা!’

মাজনুন মিজান ও অপর্ণা ঘোষ

ফাখরুল আরেফীনের সঙ্গে মাজনুন মিজানের বন্ধুত্ব সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। দুজনই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। সম্পর্কটা আরো গাঢ় হয় ‘ভুবনমাঝি’ করার সময়। মিজান বলেন, “আরেফীন যখন ‘গণ্ডি’তে অফার করল, আমি তো অবশ্যই, অপর্ণার কথাও বলতে পারি—দুজন ব্লাইন্ডলি ডাইভ দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস ছিল আরেফীন কিছু করছে মানে অনেস্টলি কিছু করছে।”

অপর্ণা যোগ করেন, ‘মিজান ভাইয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। কী ক্যারেক্টার সেটা বড় কথা নয়, আমরা আবার একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি সেটাই ছিল বড় কথা।’

চট্টগ্রামে বড় হওয়া একটা মেয়ে লন্ডনে থাকে। একটু রাগী স্বভাবের মেয়ে। এই প্রথম সিনেমায় ভিলেনের রোল করলেন অপর্ণা। ভিলেন বলতে প্রধান চরিত্রের বিপরীত চিন্তার মানুষ। পর্দায় মিজান তাঁর স্বামী। কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে দুজনারই একই সুর, ‘আস্থার প্রতিদান আমরা পেয়েছি।’

সুবর্ণা মুস্তাফা, সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো সিনিয়র অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও অতুলনীয় তাঁদের কাছে। মিজান বলেন, “সুবর্ণা আপা ঢাকা থিয়েটার করতেন। ১৯৯৬ সাল থেকে আমিও এ দলের সদস্য। ছোট ভাই আর বড় বোনের সম্পর্ক আমাদের। ছবির শুটিংয়ে সংলাপ দেওয়ার সময় একবার ভুলে বলে ফেলি, ‘আপা, এটা আপনার জন্য।’ মানে একটা চাবির রিং দিচ্ছিলাম। কিন্তু সিনেমায় তিনি তো আমার আপা নন। একটু নার্ভাসনেস থেকে এই ভুলটা হয়েছে।’

সব্যসাচীর সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা বললেন অপর্ণা, ‘ছোটবেলা থেকেই তাঁকে দেখি।  ধারণা ছিল, তিনি একটু গুরুগম্ভীর স্বভাবের। কাজ করতে গিয়ে দেখি পুরোটাই উল্টো। প্রথম পরিচয়েই অনেক সহজভাবে আপন করে নিয়েছিলেন। আমিও সাহস পেলাম।’

ছবিতে মিজান-অপর্ণার একটা মেয়ে আছে। মিজানের বাবা সব্যসাচীর সঙ্গে সুবর্ণার সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতবিরোধ। মিজান বলেন, ‘সম্পর্কের গণ্ডি ভাঙার গল্প এই ছবি। এমন গল্প বাংলাদেশের দর্শক আগে পর্দায় দেখেনি। এ কারণেই দর্শক ছবিটি দেখবে। স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও গল্পে একটা অ্যাফেয়ার আছে। অন্যদিকে আমার বাবা একলা জীবন যাপন করে। প্রায় সমবয়সী একজন নারীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। সেটা কিন্তু ভালোভাবে নিই না। সম্পর্কগুলো আমরা একটা গণ্ডির মধ্যে রাখতেই পছন্দ করি। ছবিটা আমাদের এসব মানসিকতার বিরুদ্ধে।’

মন্তব্য