kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গানের টানে দেশে

নাভেদ পারভেজ ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এসেছেন স্রেফ গান করতেই। তাঁর সুর-সংগীতায়োজনে এ বছর প্রকাশ পেয়েছে ২৮টি গান। লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য। ছবি তুলেছেন নাঈম হোসেন তানজীর

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গানের টানে দেশে

নাভেদরা সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ২০০৫ সালে, ডিভি লটারি পেয়ে। তখন নাভেদের বয়স ১৩ বছর। সেখানে থাকতেই তাঁর গান করা শুরু। সে গল্প বললেন নাভেদ নিজেই, “আগ্রহ থেকেই টুকটাক গান করতে শুরু করি।

বিজ্ঞাপন

সেগুলো ফেসবুকে দেশের বিভিন্ন সংগীতশিল্পী-পরিচালকদের কাছে পাঠাতাম। অনেকে শুনতেনই না। অনেকে উত্সাহ দিতেন। আমি তখন একেবারেই অপরিচিত। তার ওপর বিদেশবিভুঁইয়ে থাকি। কেউ-ই সুযোগ দেওয়ার সাহস করতেন না। একইভাবে পরিচালক আশিকুর রহমান ভাইকে আবহ সংগীতের কিছু ডেমো পাঠিয়েছিলাম। তাঁর খুব পছন্দ হয়। গানের ডেমো পাঠাতে বলেন। সেগুলোও পছন্দ করেন। কিছুদিনের মধ্যেই টাইগার মিডিয়া আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সুযোগ হয় ‘কিস্তিমাত’ ছবিতে দুটি গানের সংগীতায়োজন করার। ”

এভাবেই ২০১৪ সালে ছবির গান দিয়ে অভিষেক হয় নাভেদের। প্রথম সুযোগেই করেন বাজিমাত, বিশেষ করে ‘শুধু একবার বলো’ গানটি ব্যাপক সাড়া ফেলে; কিন্তু গোল বাধে অন্যত্র, ‘সবাই গান দুটির প্রশংসা করছিল; কিন্তু আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করল না। তাই উল্টো হতাশ হয়ে পড়লাম। পরে কারণটা বুঝলাম—কমিউনিকেশন গ্যাপ। আসলে কোনো ইন্ডাস্ট্রিতেই দূরে থেকে কাজ করা যায় না। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে ফেরার। ’

এর মধ্যে আশিকুর রহমানের পরের ছবিগুলোতেও গানের সংগীতায়োজন করেন। শেষ করেন পড়াশোনা। এদিকে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়ন করাটা সহজ ছিল না। ‘মা-বাবা কিছুতেই মানবেন না। বিদেশে বড় হয়েছি, দেশে এসে সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। তা ছাড়া আমাদের দেশের গানের ইন্ডাস্ট্রি খুবই অনিশ্চিত জায়গা। তাঁরা ভরসা পাচ্ছিলেন না। তবে ভাইদের সমর্থন পেলাম। শেষে মা-বাবাও রাজি হলেন। তবে একটা শর্তে। দুই বছরের মধ্যে একটা কিছু করে দেখাতে হবে। নইলে আবার ফিরতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে,’ বললেন নাভেদ।

অবশেষে ২০১৭ সালে দেশে ফিরলেন নাভেদ। শুরু হলো নতুন পথচলা। এবার আর পেছন ফিরে তাকাতে হলো না। সিঙ্গলস, ছবি, নাটক, বিজ্ঞাপন—সংগীতায়োজন করছেন সব মাধ্যমেই। শুধু এ বছরেই প্রকাশ পেয়েছে ২৮টি গান! জানালেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছেন রেহান রাসূলের গাওয়া ‘ফেরাতে পারিনি’, অয়ন চাকলাদারের  ‘দিল আমার খুশিতে ড্যাং ড্যাং করে’, মাহতিম শাকিবের ‘রোজ বেলাশেষে’ ও এপি শুভর ‘সুবহানাল্লাহ’ গানগুলোর জন্য। গত বছর মুক্তি পাওয়া মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘যদি একদিন’ ছবিতে নাভেদের সুর-সংগীতায়োজনে তাহসান-কোনালের গাওয়া ‘আমি পারব না তোমার হতে’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। নাটকের গান ও বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলও করছেন নিয়মিত নাভেদ। মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে কাজ করছেন তিন-চারটি প্রজেক্টে। সামনে তাঁর সংগীতায়োজনে প্রকাশ পাবে আসিফ আকবর, জুয়েল মোর্শেদ, কনা, তানজীব সারোয়ার, পড়শী, কর্নিয়া, লুইপা, স্বপ্নীল সজীব, তামান্না প্রমি, শেখ সাদীসহ আরো অনেকের গান। ২০২০ সালে মুক্তি পেতে যাওয়া রায়হান রাফির ‘পরান’, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নাম ঠিক না হওয়া একটি ছবি, ওয়ালিদ আহমেদের ‘লিভ অ্যান্ড লাইফ’ ও অনিরুদ্ধ রাসেলের ‘এনকাউন্টার’ ছবিতে তাঁর সংগীতায়োজনে গান থাকবে।

এর মধ্যেই দেশে ফেরার তিন বছর পেরিয়ে গেছে। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাভেদ বললেন, ‘শর্তের দুই বছর পার হয়ে গেলেও মা-বাবা এখনো ফিরতে বলেননি। এটা কিন্তু কম পাওয়া নয়। মিউজিক করে টিকতে গেলে শ্রোতাদের চাওয়াকে বুঝতে হয়। দেশের সংস্কৃতিকে জানতে হয়। আমি সংগীতায়োজনের সময় সেসব মাথায় রাখার চেষ্টা করি। আশা করি শেষ পর্যন্ত শ্রোতাদের ভালোবাসা ধরে রাখতে পারব। ’