kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

তাঁরা ঘরোয়া শিল্পী

পর্দায় নায়ক-নায়িকারা অন্যের গানে ঠোঁট মেলান। তবে বাস্তবে নায়ক-নায়িকাদের অনেকেই ঘরোয়া আসর জমাতে পারেন ভালো। তেমনই কয়েকজনকে নিয়ে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তাঁরা ঘরোয়া শিল্পী

মাইক্রোফোন হাতে গাইছেন সাইমন

ঘরোয়া কোনো অনুষ্ঠান মাতাতে জুড়ি নেই শাবনূরের। হাসিঠাট্টায় মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। হাতের কাছে মাইক্রোফোন পেলেই গান ধরেন। ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবির ‘উত্তরে ভয়ংকর জঙ্গল’ তাঁর ভীষণ প্রিয়। এ গানটিই করেন বেশির ভাগ সময়। চলচ্চিত্রের প্রায় সবাই জানে তাঁর এই গুণের কথা। সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন বলেন, ‘নিয়মিত গাইলে পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হয়ে উঠতে পারতেন শাবনূর। তাঁর গলায় মেলোডিটা দারুণ পাওয়া যায়।’ মৌসুমী, সালমান শাহ, রুবেলরা অভিনয়ের পাশাপাশি প্লেব্যাকও করেছেন; এমনকি হালের আরিফিন শুভও গেয়েছেন। অথচ এত বছরের ফিল্মি ক্যারিয়ারে মাত্র কিছুদিন আগে শাবনূর প্রথমবারের মতো প্লেব্যাক করলেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘এতো প্রেম এতো মায়া’য়। গানটি এখনো প্রকাশ পায়নি। শাবনূর অবশ্য মনের আনন্দে গান করেন। তবে ছোটবেলায় কণ্ঠশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন অমিত হাসান। স্কুলের অনুষ্ঠানে গান করতেন নিয়মিত। পরে অবশ্য অভিনয়ের প্রেমে পড়ে যাওয়ায় গানে সেভাবে নজর দিতে পারেননি। তবে সুর তো আর ভুলে যাননি! বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা চলচ্চিত্র অনুষ্ঠানগুলোতে শোনা যায় অমিতের কণ্ঠ। গত বছর শিল্পী সমিতির পিকনিকেও গেয়ে ওঠেন, ‘একদিকে পৃথিবী একদিকে তুমি যদি থাকো’। অমিত বলেন, ‘রবীন্দ্রসংগীত বা নজরুলগীতি সেভাবে গাইতে পারি না। আধুনিক, ফোক আর ব্যান্ডের গান ভালো তুলতে পারি। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমার ছবির গানই করি। মাঝখানে একবার মনে হয়েছিল অ্যালবাম করব। অনেকে সাহসও দিয়েছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হয়ে ওঠেনি।’

ঘরোয়া আসরে নাঈম-শাবনাজ জুটিও গান ধরেন।

গত বছর ওমর সানীর ৫০তম জন্মদিনে একসঙ্গে গাইছেন তাঁর দুই নায়িকা শাবনূর ও মৌসুমী

শাবনাজের কণ্ঠে ‘এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল’ অনেক তারকারই প্রিয়। নাঈমও তাঁর অভিনীত ছবির গান করেন। মেলোডি গান পছন্দ স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই। একই গল্প পূর্ণিমার। যেকোনো শিল্পীর গলা দ্রুত নকল করতে পারেন তিনি, বিশেষ করে বেবী নাজনীনের গান। সিনিয়র ও সমবয়সী অভিনেতারা প্রায়ই পূর্ণিমার কাছে গান শোনার আবদার করেন। এক টিভি শোতে সে কথা বলেছেনও অভিনেতা আলমগীর।

ছোটবেলা থেকেই আইয়ুব বাচ্চু ও জেমসের ভক্ত সাইমন। স্কুল-কলেজে তো গাইতেনই। নায়ক হওয়ার পরও গাইছেন। এলআরবির ‘সেই তুমি’ সাইমনের কণ্ঠে দারুণ লাগে, এই সার্টিফিকেট দিয়েছেন স্বয়ং আইয়ুব বাচ্চু। মারা যাওয়ার দিন সাতেক আগে বিজয় সরণির একটি রেস্টুরেন্ট উদ্বোধনের দিন সাইমনকে স্টেজে ডাকেন বাচ্চু। তাঁর সঙ্গে ‘সেই তুমি’ ধরতে বলেন। সাইমনও এমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি। সেই ভিডিও এখনো শোভা পাচ্ছে সাইমনের ফেসবুকে। ‘পেশাদার শিল্পী হওয়ার বা প্লেব্যাক করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। গাইতে ভালো লাগে। অবশ্য সবাই উত্সাহ দেয় বলেই হয়তো সাহসটা করি’—বললেন ‘পোড়ামন’ অভিনেতা সাইমন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পিকনিকে গাইছেন আলমগীর

ব্যান্ডের গান প্রিয় আমিন খানেরও। তিনি ওয়ালটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় তাঁকে, বক্তৃতার পাশাপাশি গানও ধরেন এই অভিনেতা। তাঁর দাবি, গানটা ভালো বোঝেন তিনি। নিজের অনেক ছবির গান তৈরির সময় উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি ওয়ালটনের একটি থিম সংও করেছেন নিজের পছন্দে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে আর প্লেব্যাক বা অ্যালবাম করার ইচ্ছা নেই।

ঘরোয়া আসরে গান করার ক্ষেত্রে মৌসুমী-ওমর সানী দম্পতির কথা বলতে হবে আলাদা করে। পারিবারিক যেকোনো আয়োজনে অতিথিদের জোর করে হলেও গাওয়ান তাঁরা। ‘কারাওকে’ সিস্টেম করে নিয়েছেন বাসাতেই, যাতে সহজেই গাইতে পারেন তাঁরা। নিজেরাও গলা মেলান। ওমর সানী তো এখন ফেসবুক লাইভেও গেয়ে শোনান। তাঁর ইচ্ছা আছে প্লেব্যাকেরও।

মন্তব্য