kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

জীবন মৃত্যুর গল্প

সাড়া-জাগানো উপন্যাস ‘দ্য গোল্ডফিঞ্চ’ থেকে তৈরি হয়েছে একই নামের এই চলচ্চিত্র। মুক্তির আগেই বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে ছবিটি। আগামীকাল ছবিটির মুক্তির আগে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবন মৃত্যুর গল্প

২০১৩ সালে কম পরিচিত এক ঔপন্যাসিক ডনা টার্ট ‘দ্য গোল্ডফিঞ্চ’ নামে একটি উপন্যাস লেখেন। ইতিহাস সৃষ্টি করে বইটি, ত্রিশ সপ্তাহেরও বেশি সময় থাকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলারের তালিকায়। সেই অচেনা ঔপন্যাসিক ভূষিত হন মর্যাদাবান পুলিত্জারে। এবার ইতিহাস সৃষ্টি  করা উপন্যাসটি আসছে রুপালি পর্দায়। একই নামে নির্মিত চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জন ক্রাউলি।

মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে এক বোমা বিস্ফোরণে চোখের সামনেই মাকে হারায় ১৩ বছর বয়সী থিওডোর। এই গভীর বেদনাকে সঙ্গী করে বড় হয় থিওডোর, প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় নিজের সঙ্গে। বড় হয়ে উঠার গল্পে তার সংগ্রামের সঙ্গী একটি শিল্পকর্ম। বিস্ফোরণের আগে সেই জাদুঘরে দেখা ‘দ্য গোল্ডফিঞ্চ’ নামের একটি ছবি। সপ্তদশ শতাব্দীর এক ওলন্দাজ শিল্পী ক্যারেল ফ্যাব্রিশিয়াসের আঁকা ছবিটি থিওডোরকে মনে করিয়ে দেয় মানবজীবনের এক অসহায়ত্ব।

‘দ্য গোল্ডফিঞ্চ’ চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্র থিওডোরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যথাক্রমে ওকস ফেগলি ও অ্যানসেল এলগর্ট। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে নিকোল কিডম্যান, আনেউরিন বার্নার্ড, ফিন ওলফহার্ড, সারাহ পলসনের মতো অভিনেতাদের।

উপন্যাসটি প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের গুঞ্জন ছিল সিনেমাপাড়ায়। ওয়ার্নার ব্রাদার্স স্বত্ব কিনে নিলে দর্শকরাও নিশ্চিত হয় যে নন্দিত উপন্যাসটি আসছে বড় পর্দায়। পরে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে প্রযোজনায় যুক্ত হয় স্ট্রিমিং সার্ভিস অ্যামাজন প্রাইম। পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘ব্রুকলিন’ খ্যাত জন ক্রাউলিকে। অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হওয়া সত্ত্বেও অনেক সমালোচকের মতে উপন্যাসটি ছিল অসম্ভব বিস্তারিত। ৭৮৪ পৃষ্ঠার উপন্যাসটিকে পর্দায় তুলে আনা ছিল তাই বেশ দুরূহ। চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট হওয়ায় অনেকেই আশাবাদী—হয়তো জন ক্রাউলি তাঁর দক্ষতার মাধ্যমে উপন্যাসের সমালোচনাকে চলচ্চিত্রে আনবেন না কোনোভাবেই।

‘বেবি ড্রাইভার’ মুক্তির পর থেকেই অ্যানসেল এলগর্টের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। থিওডোরের চরিত্রটিকে এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে কঠিন চরিত্র হিসেবেই মনে করছেন তিনি। মানবজীবনের গভীরতম অনুভূতির রুপালি পর্দায় প্রকাশ ছিল অ্যানসেলের জন্য বেশ চমকপ্রদ, ‘মানুষের ভাসমান জীবনে বেদনার গভীরতম প্রকাশ করতে হয়েছে এই চরিত্রে। প্রতিনিয়তই কিছু না কিছু হারাই আমরা। সেই হারানোর গল্পই ফুটে উঠেছে।’

তবে চলচ্চিত্রে অ্যানসেলের অভিনয়ের চেয়েও ১৩ বছর বয়সী ওকস ফেগলির অভিনয় নিয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। অ্যানসেলও বলছেন, তাঁকে আরো কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে ওকসের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য।

টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে মুক্তির পর থেকেই সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছে চলচ্চিত্রটি। এমনকি অনেকে এবার অস্কারে অন্যতম শক্তিশালী লড়াকু হিসেবে ধরছে ‘দ্য গোল্ডফিঞ্চ’কে। তবে ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে যাওয়া চলচ্চিত্রটিকে বক্স অফিসে পড়তে হবে কঠিন যুদ্ধের মুখে। এদিনই যে মুক্তি পাচ্ছে জেনিফার লোপেজ ও কার্ডি বি অভিনীত ‘হাসলারস’।

মন্তব্য