kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই

ডেঙ্গু এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এর হাত থেকে রেহাই পেলেন না নায়ক আলমগীর ও শরিফুল রাজ। এখন কেমন আছেন তাঁরা? জেনেছেন ইসমাত মুমু

ডেঙ্গুর তেমন কোনো ওষুধও নেই

আলমগীর

শরীরে ডেঙ্গু নিয়েই ২৭ জুলাই চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নায়ক জায়েদ খান তাঁকে ধরে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যান। ভোট প্রদান শেষে জায়েদের হাত ধরেই কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন আলমগীর। হাসপাতাল থেকেই ভোট দিতে গিয়েছিলেন চিত্রনায়ক আলমগীর। ২৫ জুলাই ভর্তি হয়েছিলেন স্কয়ার হাসপাতালে। এর আগে টানা চার দিন জ্বরে ভুগেছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক অভিনেতাকে জানালেন, তাঁর ডেঙ্গু হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শেই স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার পর ৩০ জুলাই বাসায় ফিরেছেন আলমগীর। এখন অনেকটাই সুস্থ, তবে বেড রেস্টে আছেন। এর মধ্যে কথা বলতে বেশ অসুবিধাই হচ্ছিল। তবু বললেন, শরীর এখনো বেশ দুর্বল। এখনো প্রায়ই রক্ত পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। তবে মুশকিল হচ্ছে হাসপাতালে আসা-যাওয়া। তা ছাড়া রোগ প্রতিরোধের জন্য একটু বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ডেঙ্গু খুব ভয়াবহ জ্বর। সাধারণ জ্বর হলেই মানুষকে কয়েক দিন ভুগতে হয়। আর ডেঙ্গুতে কাঁপুনিটা একটু বেশিই। এই রোগের তো তেমন কোনো ওষুধও নেই। বিশ্রামেই পুরোপুরি সেরে উঠবেন বলে তাঁর আশা।

 

এ সময় প্রচুর তরল খাবার খেতে হয়

শরিফুল রাজ

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জুলাই শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন রাজ। হাসপাতাল ছেড়ে এখন বাসায় ‘আইসক্রিম’ অভিনেতা। বলেন, ‘হাসপাতাল ছেড়ে আসার দিন চিকিৎসক বলেছেন, আমি শঙ্কামুক্ত। কিন্তু আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। আসলে এই জ্বরটা যার না হয় তাকে বোঝানো কঠিন এটা কেমন রোগ। তবে মানসিকভাবে ভালো লাগছে যে আমি আরোগ্য লাভ করেছি। কারণ ডেঙ্গু এখন শুধু জ্বর নয়, এটি এখন মৃত্যু আতঙ্ক।’

জ্বরে রাজের মাংসপেশি, জয়েন্ট ও মাথা ব্যথা হয়েছিল প্রচণ্ড। জ্বর উঠেছিল ১০৪ ডিগ্রি। রক্তের প্লাটিলেট নেমে এসেছিল ২৭ হাজারে। প্লাটিলেট সব সময় উঠানামা করে। স্বাভাবিক হতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লেগেছিল। রাজের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই মিলে রক্ত রেডি করেই রেখেছিল। কিন্তু সেটা দরকার হয়নি। প্লাটিলেট হুট করে বেড়ে গিয়ে এক লাখ হয়। ‘আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিদিনই ডেঙ্গুর কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে শুনেছি। সেখান থেকে যে ওপরওয়ালা আমাকে সুস্থ করে তুলেছেন, সেটা অশেষ কৃতজ্ঞতা। চিকিৎসক বেড রেস্টে থাকতে বলছেন। কবে শুটিংয়ে নামতে পারি জানি না। তবে এখন ক্রমে সুস্থ হয়ে উঠছি।’

পরামর্শও দিলেন, ‘সামান্য জ্বর হলেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। আপনি যত বড় পালোয়ানই হোন না কেন, এই রোগ আপনাকে দুর্বল করে দেবে। এ সময় প্রচুর তরল খাবার খেতে হয়। স্যালাইন খেতে হয়। যদি খাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে শরীরে পুশ করতে হয়। আমি সেটাই করেছি। আসল ব্যথাটা হয় বডির বিভিন্ন জয়েন্টে। এটার তো কোনো ট্রিটমেন্ট নেই। চিকিৎসক বলেছেন, বডিকে যত আরাম দেবেন তত দ্রুত সুস্থ হবেন। খাবারদাবার খেতে হবে ঠিকঠাক। আর ডেঙ্গু যেহেতু ছড়িয়ে গেছে, মশা থেকে রক্ষার উপায় খুঁজতে হবে। সরকার যেমন চেষ্টা করছে, তেমনি আমাদেরও করতে হবে।’

মন্তব্য