kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

সেই অদ্ভুতুড়ে শহরে

প্রথম দুই কিস্তি দিয়েই বাজিমাত করেছে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’। সিরিজের প্রধান পাত্র-পাত্রীরা এখন পরিচিত নাম। গেল সপ্তাহেই ‘নেটফ্লিক্স’-এ শুরু হয়েছে তৃতীয় কিস্তি। লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই অদ্ভুতুড়ে শহরে

দর্শকদের টেলিভিশনের পর্দা থেকে অনলাইনে নিয়ে এসেছে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। নেটফ্লিক্স তো একের পর এক মৌলিক সিরিজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় সৃষ্টিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’। আমেরিকার হকিন্স শহরে ভিন্ন বাস্তবতার প্রাণীদের আগ্রাসন, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কয়েকজন কিশোরের সংগ্রাম নিয়েই সিরিজটি। তবে ফ্যান্টাসি ঘরানার এ সিরিজে অন্যতম মুখ্য বিষয় বন্ধুত্ব, মানবিক সম্পর্ক। ডাফার ব্রাদার্সের সৃষ্টিতে নির্মিত সিরিজটির তৃতীয় কিস্তি নেটফ্লিক্সে প্রচার শুরু হয়েছে ৪ জুলাই।

১৯৮৫ সালের গ্রীষ্মে হকিন্সের নতুন বিপণনকেন্দ্রটি হয়ে ওঠে সবার আকর্ষণের  কেন্দ্র। মাইক ও ইলেভেনের মধ্যে গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্ক। প্রথম সিজনে যার অন্তর্ধান নিয়ে গল্পটি গড়ে উঠেছিল, সেই উইল আবারও অশুভ কিছুর আগমন অনুভব করতে থাকে। আর অন্যরাও বুঝতে পারে এবার সেই অশুভ শক্তি প্রভাব বিস্তার করছে হকিন্সের বাকি বাসিন্দাদের ওপরও। সৃষ্টি হয় আতঙ্কের, ফের শুরু হয় সংগ্রাম। সিরিজটিতে প্রধান চরিত্রগুলোতে দেখা যায় উইনোনা রাইডার, ডেভিড হারবার, ফিন ওলফহ্যান্ড, মিলি ববি ব্রাউন, গ্যাটেন মাতারাজ্জো, ক্যালেব ম্যাকলগিন, নোয়াহ স্ন্যাপকে।

‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর গল্পের প্রধান প্রেরণা সত্তর-আশির দশকের হলিউডের চলচ্চিত্র, সে সময়ের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিগুলো। নস্টালজিয়া জাগিয়ে দেওয়া সিরিজটি শুধু আশির প্রজন্মকেই নয়, বরং আকর্ষণ করে এই প্রজন্মকেও। স্টিফেন স্পিলবার্গের চলচ্চিত্র কিংবা স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস—সিরিজটি নির্মিত হয়েছে এই কিংবদন্তিদের সম্মান জানাতেই। ডাফার ব্রাদাররা তো বলেই ফেলেছেন, অন্যতম প্রধান চরিত্র ইলেভেনকে তারা স্টিফেন স্পিলবার্গের ইটির অনুকরণে নির্মাণ করেছেন।

মাইক, ডাস্টিন, লুকাস ও উইল চরিত্রগুলো এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সব নাম। তবে চরিত্রগুলোর পাত্র-পাত্রী বাছাই করতে নির্মাতাদের অসম্ভব ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। প্রধান চরিত্রগুলোর জন্য অডিশনই দিয়েছে ৯০৬ বালক এবং ৩০৭ বালিকা। ইলেভেন চরিত্রে মিলি ববি ব্রাউনের অন্তর্ভুক্তিটাও বেশ মজার। ডাফার ব্রাদাররা এখানে সাহায্য পেয়েছেন সিরিজটির অন্যতম প্রেরণাদায়ী স্টিফেন কিংয়ের। ‘ইন্ট্রুডারস’ সিরিজে মিলির অভিনয়ে অভিভূত হয়ে টুইট করেন স্টিফেন কিং। তাঁর টুইট দেখেই ডাফার ব্রাদাররা সিদ্ধান্ত নেন অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন ইলেভেন চরিত্রে মিলি ববি ব্রাউনই সবচেয়ে জুতসই হবেন।

সিরিজটি নির্মাণের অন্যতম উপজীব্য ছিল শীতল যুদ্ধ চলাকালে আমেরিকা ও রাশিয়ার বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুতুড়ে পরীক্ষণ। ১৯৮২ সালের প্রেস্টন বি নিকোলসের একটি বইতে এ রকমই আমেরিকার একটি পরীক্ষণের কথা ফাঁস হয়ে যায়। প্রকল্পটির নাম ছিল ‘মোন্টাক প্রজেক্ট’। এর সঙ্গে জড়িতরা পরে জানিয়েছেন প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশ অথবা অন্য বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা। ডাফার ব্রাদাররা এটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরুতে সিরিজটির নাম রাখেন ‘মোন্টাক’। পরে দর্শকদের আরো কাছে পৌঁছার জন্য বদলে রাখা হয় ‘স্ট্রেঞ্জার্স থিংস’।

মন্তব্য