kalerkantho

রবিবার। ১০ নভেম্বর ২০১৯। ২৫ কার্তিক ১৪২৬। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শুভ্র দেবের কণ্ঠে ক্রিকেট

ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে নতুন গান বেঁধেছেন শুভ্র দেব। ক্রিকেট নিয়ে তাঁর করা গানগুলো নিয়ে লিখেছেন মাহতাব হোসেন

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুভ্র দেবের কণ্ঠে ক্রিকেট

ক্রিকেট ক্রিকেট প্রাণ

এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে শুভ্র দেবের গান। ‘ক্রিকেট ক্রিকেট প্রাণ, বিশ্বকাপে রাখবো বাংলাদেশের সম্মান’—লিখেছেন শহিদুল আজম। বাংলাদেশ বেতারে গানটি নিয়মিত বাজছে।

শুভ্র দেব বলেন, ‘শহিদুলের সঙ্গে আমার অনেক আগের সম্পর্ক। বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুজন পরিকল্পনা করে গানটি করেছি। কিছু অংশ আমি নিজেও লিখেছি। বাংলাদেশ দলকে উৎসাহ জানাতেই বরাবরের মতো আমার এই প্রয়াস। যাঁরাই শুনেছেন ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।’

ক্রিকেট ক্রিকেট ভালোবাসি

১৯৯৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ‘উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ’। সেই টুর্নামেন্টের থিম সং ‘ক্রিকেট ক্রিকেট ভালোবাসি ক্রিকেট’ করেন শুভ্র দেব। গায়ক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ডিজিটাল স্কোর বোর্ডের সূচনা হয় এই গানের মাধ্যমে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন প্রায় ৪০০ জন এই গানে পারফরম করেন।  নেতৃত্বে ছিলেন শামীম আরা নিপা ও শিবলী মহম্মদ। তখন ধারাভাষ্যে ছিলেন টনি গ্রেগ, তিনি গানটির সুরের অনেক প্রশংসা করেন। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে হোটেলে দেখা হয়। অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়ে আমাকে ডেকে বাহবা দেন। হার্শেল গিবস তো চার লাইন গেয়েই শোনান! ক্রিকেট নিয়ে এর আগে কখনো থিম সং হয়নি। রিকি মার্টিন ফুটবলের থিম সং করেছিলেন; কিন্তু ক্রিকেটের থিম সং আমারটাই প্রথম। গানটির জন্য মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।’

গুড লাক বাংলাদেশ

১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে যায় বাংলাদেশ। সেবার শুভ্র দেব গেয়েছিলেন ‘গুড লাক বাংলাদেশ’। আসাদুজ্জামান নূরের কথায় গানটির সুর করেছিলেন শুভ্র দেব নিজেই। সৈয়দ আব্দুল হাদী, সুবীর নন্দী, শাকিলা জাফরের সঙ্গে কণ্ঠও দিয়েছিলেন তিনি। শুভ্র দেব বলেন, ‘সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যখন স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারায় তখন ঢাকাসহ সারা দেশে যেসব মিছিল বের হয়, সেগুলোতে এ গান বাজানো হয়। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও গানটি মানুষের মুখে মুখে ছিল। গানটি লেখার জন্য নূর ভাইকে অনেক যন্ত্রণা দিয়েছি। তখন মোবাইল ফোন এতটা সহজলভ্য ছিল না। ল্যান্ডফোনেই নূর ভাইকে যখন-তখন, এমনকি মধ্যরাতেও ফোন দিয়ে বলতাম—ভাইয়া, গানটা লেখা হয়েছে?’

চার মারো মারো রে, ছক্কা মারো মারো রে...

২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির পর দলের থিম সংটি বানান শুভ্র দেব। শহিদুল আজমের লেখা গানটি বেশ আলোচিত হয়। গানটি নিয়ে মজার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন শুভ্র দেব। যুক্তরাষ্ট্রে বলিউড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান তিনি। তাঁর আগে রুনা লায়লা এই আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। শুভ্র দেব বলেন, অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে বলিউড গায়ক লাকী আলী এসে আমাকে বলল, আরে তোমাদের আমিনুল ইসলাম তো সেঞ্চুরি করে ফেলল। আমি বললাম, থিম সংটা শুনেছ? লাকী বলল, হ্যাঁ। বললাম, ওটা আমার করা। সে অবাক হয়ে বলল, ‘তাই নাকি!’

বাংলাদেশ জেগে ওঠো

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে উৎসাহ জানিয়ে গানটি করেন শুভ্র দেব। কথা লেখেন শহিদুল আজম। গানটিতে শুভ্র দেবের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠ দেন মেহরীন।

আরো গান

২০১৫ সালের বিপিএলে সিলেট দলের থিম সং করেছিলেন শুভ্র দেব। শিরোনাম ‘ক্রিকেট ক্রিকেট মন’। তাঁর উপস্থাপনায় চ্যানেল নাইনে ক্রিকেটের একটি অনুষ্ঠানের  টাইটেল হিসেবেও বাজানো হয় গানটি। এ ছাড়া গলফ, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, আর্চারি নিয়েও গান করেছেন শুভ্র দেব, ‘ক্রিকেট নিয়ে যত গান করেছি অন্য দেশ হলে হয়তো অনেক সম্মান পেতাম। পাইনি, এটা আমার দুর্ভাগ্য। খেলা ভালো লাগে, তাই গান করে যাই।’

বিশ্বসেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে

‘ক্রিকেট ক্রিকেট ভালোবাসি ক্রিকেট’ গান দিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে সখ্য হয় শুভ্র দেবের। বলেন, ‘ঢাকায় এক বন্ধুর বাসায় টেন্ডুলকারের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছি। টেন্ডুলকার আমাকে বলেন, তুমি তো জিনিয়াস। শুধু মিউজিকই নয়, ক্রিকেটের ভেতরেও গভীরভাবে প্রবেশ করেছ।’ হ্যান্সি ক্রনিয়ে, জ্যাক ক্যালিস ও ড্যারিল কালিনানের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল বলে জানান শুভ্র দেব।

মন্তব্য