kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আগে তো হয়নি এমন!

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগে তো হয়নি এমন!

ঈদের ছবি ‘পাসওয়ার্ড’-এ শাকিব-বুবলীর পর্দাসঙ্গী হয়েছেন। দর্শকের প্রশংসা পেয়ে রীতিমতো হতবাক এই অভিনেতা। আগে কখনোই এতটা ভালোবাসা পাননি দর্শকের! মামনুন ইমনকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শাকিব খানের সঙ্গে একের পর এক ছবির প্রস্তাব পেয়েছেন। অনেক পরে এসে করলেন, তাও মাত্র দুটি। ‘পাসওয়ার্ড’-এর আগে করেছিলেন ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২’। ‘ক্যাপ্টেন খান’সহ আরো বেশ কয়েকটি ছবির প্রস্তাব পেয়েছিলেন। চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। ইমন কী চান, সেটা বুঝেছেন শাকিব। ‘পাসওয়ার্ড’ নিজে প্রযোজনা করেছেন। তাই ইমনকে এই ছবির অফার দিয়েছেন স্বয়ং শাকিব। “শাকিব ভাই আমাকে বললেন, ‘ছবিতে একটা ভালো চরিত্র আছে, তুমি করো। আমি সিনেমার হিরো; কিন্তু গল্পের হিরো এ চরিত্রটা। তুমি আগে গল্পটা শোনো, পছন্দ না হলে করো না। ছবিতে তুমি আমি দুই ভাই। সবাই আমাকে বলছে, প্রয়োজনে ডাবল রোল করতে।’ গল্প শোনার পর রীতিমতো মুগ্ধ। অনেক দিন ধরেই আমার এ ধরনের চরিত্র করার ইচ্ছা। এত বড় বাজেটের ছবিতে সুযোগটা পেয়ে যাব ভাবিনি। ‘হিরো’ হয়ে অনেক ছবিই তো করলাম। এবার অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেলাম। এই চ্যালেঞ্জ হাতছাড়া করতে চাইনি”—বললেন ইমন।

শুটিং শেষ হতেই প্রশংসা পেতে শুরু করলেন। সম্পাদনা করতে বসে সম্পাদকই ইমনকে প্রশংসায় ভাসালেন। ডাবিং করতে গিয়েও সহশিল্পীদের প্রশংসা পেলেন। তবে সেন্সর বোর্ড সদস্যরা যখন ফোন করে প্রশংসা করলেন, তখনই সিরিয়াসলি নিলেন এবং আশায় বুক বাঁধলেন। ‘অপেক্ষায় ছিলাম দর্শক কিভাবে নেয় আমাকে। সবাই বলেন, শাকিব খানের ছবিতে অন্য অভিনেতারা সেভাবে হাইলাইটেড হয় না। এখানেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিটা, শাকিব ভাই থাকা সত্ত্বেও আমাকে নিয়ে দর্শকের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। আমার ক্যারিয়ারে আগে কখনোই এমন হয়নি।’

শাকিব খানও প্রশংসায় ভাসালেন ইমনকে। কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন কয়েক দফা কথা হয় তাঁদের। শাকিব ইমনকে বলেন, ‘আমার কাছে যেই আসে বলে, ইমন দারুণ অভিনয় করেছে। আমার নিজেরও ভালো লেগেছে। তোকে নিয়ে চরিত্রটা ভেবেছি, মানুষ সেটা পছন্দ করছে; এটাই তো আমার পাওয়া।’ শাকিব তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরের ছবির জন্যও ইমনকে কথা দিয়ে রেখেছেন। একসঙ্গে আরো ছবি করার পরিকল্পনা তাঁদের।

ঈদের দিন ‘মধুমিতা’ হলে ছবিটা দেখতে গিয়েছিলেন। শো শেষ হতেই লোকজন এসে জড়িয়ে ধরল ইমনকে। সবার একটাই কথা, ‘এত কাঁদালেন কেন আমাদের!’

অনেকেই ছবির গল্প শুনে বলছেন, এখানে প্রতিবন্ধীর চরিত্র করেছেন ইমন। কিন্তু ইমন বলেন, ‘এটা ঠিক শারীরিক প্রতিবন্ধী চরিত্র নয়। রাগী মানুষ। এ ধরনের মানুষের মায়া বেশি, পাগলামিও থাকে। যখন ভাইকে সে হারিয়ে ফেলে তখন সে পাগলপ্রায়। পরিচালক মালেক আফসারী ভাই অনেক হেল্প করেছেন আমাকে। চরিত্রটা করার জন্য রাতে কম ঘুমাতাম। চেহারাটা একটু রাফ রাখার চেষ্টা করতাম।’ 

শুটিংয়ের ফাঁকে শাকিবের সঙ্গে ফিল্ম নিয়ে গল্প করতেন। কখনো কখনো সেই গল্প চলত গভীর রাত পর্যন্ত। ইমনকে অনেক প্রাধান্য দিয়েছেন শাকিব। সেটা কেমন? ‘একজন শাকিব খান যখন সেটে যাবেন, অন্য সবার শুটিং অফ থাকবে, তাঁর শটগুলো সবার আগে নিতে হবে—এমনই তো হওয়ার কথা। কিন্তু শাকিব ভাই ইউনিটের সবাইকে তাড়া দিয়ে বলতেন, ইমনের কাজটা আগে শেষ করে দাও। এমনও হয়েছে, শাকিব ভাই সকালে এসে একটা শট দিয়েছেন, সারা দিন বসে থেকে রাত ১১টায় আবার শট দিলেন। এতক্ষণ উনি চুপ করে বসেই ছিলেন। আমি গিয়ে বলতাম, ভাইয়া আপনি এতক্ষণ বসে থাকবেন! তিনি বলেন, কোনো সমস্যা নেই। তুমি মন দিয়ে কাজ করো। ছোট ভাইয়ের যেমন যত্ন নেয় বড় ভাইরা, শাকিব ভাইও তেমনি আমার যত্ন নিয়েছেন।’ 

ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও ইমন শুটিং করছেন ‘সাহসী যোদ্ধা’র। তাঁর অন্য ছবি ‘আমার সিদ্ধান্ত’ জমা পড়েছে সেন্সর বোর্ডে। নতুন আরো তিনটি ছবি হাতে নেবেন শিগগিরই। এর মধ্যে রয়েছে জাকির হোসেন রাজু ও কাজী কামরুলের ছবি। নতুন একটা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ছবিও চূড়ান্ত।

ইমন বলেন, ‘পাসওয়ার্ড আমার ক্যারিয়ারে নতুন জোয়ার এনে দিয়েছে। সামনে আমাকে আরো চমকপ্রদ সব চরিত্রে পাবে দর্শক, সে আশা করতেই পারি।’

মন্তব্য