kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভালো লাগা ঈদের নাটক ও টেলিফিল্ম

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভালো লাগা ঈদের নাটক ও টেলিফিল্ম

২২শে এপ্রিল

ঈদে টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হয়েছে শতাধিক নাটক ও টেলিফিল্ম। কেমন হয়েছে সেগুলো? ঈদ নাটকের অভিনয়শিল্পী ও পরিচালকরা বলেছেন তাঁদের ভালো লাগা দুটি নাটক বা টেলিফিল্মের কথা। শর্ত ছিল, নিজের কাজ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। শুনেছেন ইসমাত মুমু

২২শে এপ্রিল ও শিশির বিন্দু

চয়নিকা চৌধুরী নির্মাতা

আমার প্রথম সিনেমার শুটিং শুরু হবে শিগগিরই। পূর্ব প্রস্তুতির জন্য এবার নাটক-টেলিফিল্ম দেখতে পারিনি বললেই চলে। যা দেখেছি তার মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ‘২২শে এপ্রিল’। প্রমো দেখে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম, যে করেই হোক টেলিফিল্মটি দেখব। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। নির্মাণ, সংলাপ, সম্পর্কের রসায়নগুলো আমার অসাধারণ লেগেছে। কাঁদতে কাঁদতেই আমি মিজানুর রহমান আরিয়ানকে ফোন করেছি। কথা বলতেই পারছিলাম না। অনেক দিন পর আমি নাটক দেখে কাঁদলাম। বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে টেলিফিল্মটি। যেদিন এ ঘটনা ঘটেছিল, সেদিন এফআর টাওয়ারের উল্টো দিকে আমি শুটিং করছিলাম ফেরদৌসী মজুমদার ও সুবর্ণা মুস্তাফাকে নিয়ে। নিজের চোখে ওই দৃশ্যগুলো দেখলাম। আমি সব সময় সম্পর্কের গল্প পছন্দ করি। নাটকের একটা সুন্দর নাম থাকবে, মেকিং সুন্দর হবে, পাত্র-পাত্রীরা সুন্দর করে কথা বলবে—সবই পেয়েছি এই গল্পে।

মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘শিশির বিন্দু’ নাটকটাও বেশ ভালো লেগেছে। প্রমোতে নাটকটির একটা গান বেশ ভালো লেগেছিল। গান ভালো লাগার কারণেই দেখতে বসেছিলাম। গল্পটাও বেশ তৃপ্তি দিয়েছে। সাধারণ রোমান্টিক নাটক থেকে অনেকটাই ভিন্ন বলব।

 

মিস শিউলি

২২শে এপ্রিল ও মিস শিউলি

শিহাব শাহীন নির্মাতা

নিজের ব্যস্ততা তো ছিলই, বিশ্বকাপও শুরু হয়ে গেছে। তাই খুবই কম নাটক দেখা হয়েছে এবার। এর মধ্যে দুটি নাটকের কথা বলতে পারি—মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘২২শে এপ্রিল’ ও আশফাক নিপুণের ‘মিস শিউলি’। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ দুটি নিয়ে ভীষণ আলোচনা হচ্ছে। পরিবার, ভালোবাসা, বাবা-মেয়ের সম্পর্ক, প্রতিবাদী নারীর নিশ্চুপ ভালবাসার গল্প দেখেছি ‘২২শে এপ্রিল’-এ। প্রতিটি গল্পই আমাদের রোজকার গল্প। গল্পগুলোকে নিপুণভাবে আরিয়ান পর্দায় নিয়ে এসেছে। এ রকম একটা ইস্যু নিয়ে সময় ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করা বেশ কঠিন। আরিয়ান বেশ ভালোভাবেই উতরে গেছে।

‘মিস শিউলি’টা আবার জটিল কিছু না। কিন্তু সেই সহজটাই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন আশফাক নিপুণ, যেটা চোখের আরাম দেয়। অভিনয়ে আফরান নিশো, অপি করিম, রোহানসহ যাঁরা ছিলেন, সবার চরিত্রকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। নিপুণভাবে সহজ সরল একটা গল্পে কিছু মেসেজও দিয়ে গেছেন নিপুণ। ভালোবাসার মানুষ, বাবা, মা কিংবা বন্ধু-বান্ধবের বাইরেও শিউলির আলাদা গল্পটাও উপভোগ্য।

 

শিশির বিন্দু

২২শে এপ্রিল ও শিশির বিন্দু

শবনম ফারিয়া অভিনেত্রী

‘২২শে এপ্রিল’ খুবই ভালো লেগেছে। মিজানুর রহমান আরিয়ানের লেখা ও পরিচালনায় খুবই সুন্দর একটি টেলিফিল্ম। একটা আগুন লাগার গল্প। যার সঙ্গে কিছুটা মিল পাই বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার। কিন্তু এখানে আলাদা আলাদা অনেক মানুষের গল্প উঠে এসেছে। একজন ডিভোর্সি মহিলা, একজন বাবা, একটা ছেলে, একটা গার্লফেন্ড—সবার গল্প যেভাবে ব্যালান্স করে দেখিয়েছেন পরিচালক, সেটা অসাধারণ। তরুণ নির্মাতাদের মধ্যে আরিয়ান অন্যতম। আমি বলব, ‘বড় ছেলে’সহ তাঁর আগের সব কাজকে ছাড়িয়ে গেছে ‘২২শে এপ্রিল’। 

মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘শিশির বিন্দু’ও ভালো লেগেছে। বেশির ভাগ পরিচালকই অপূর্ব ভাইকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই দেখাতে চান। উনার ভেতর থেকে অন্য রকম কিছু একটা বের করে আনা হয়েছে এ নাটকে। তানজিন তিশাকেও বেশ ভালো লেগেছে। ও নিয়মিত অভিনয় করে, ভালোও করে। কিন্তু এখানে অনেক বেশি ম্যাচিওরড লেগেছে।

আমি দুটি নাটক মিস করেছি—শিহাব শাহীনের ‘এক হৃদয়হীনা’ ও আশফাক নিপুণের ‘মিস শিউলি’। ইউটিউবেও এই দুটি এখনো আসেনি।

 

মিস শিউলি ও এক হৃদয়হীনা

মিজানুর রহমান আরিয়ান নির্মাতা

আমাদের নাটকে এখন যে সংকট চলছে, এ নাটক দুটিতে সেটা নেই। সংকটটা কিসের? সবাই একবাক্যে বলবেন, গল্পের। দুটিতেই গল্প আছে এবং শেষ পর্যন্ত দেখার মতো। ‘মিস শিউলি’তে আশফাক নিপুণ ভাই গল্প বলার পাশাপাশি অনেক কিছু বোঝাতে চেয়েছেন।

শিহাব শাহীন ভাইয়ের ‘এক হৃদয়হীনা’ ডিফারেন্ট একটা লাভ স্টোরি। দেখতে বসে উঠে যাওয়ার উপায় নেই। এডিটিং প্যানেলে ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম, এর মধ্যেই নাটক দুটি দেখেছি। যদি তেমন ভালো না হতো আমি উঠে যেতাম।

ঈদের ছয় দিনের মধ্যে আমার দেখা এই দুটি নাটকই বেস্ট। হয়তো অনেকগুলো মিস করেছি। আরো অনেক নাটক পর দেখে নেব। আশা করি, তার মধ্যেও আরো কিছু নাটক ভালো লাগবে।

 

 

 

মন্তব্য