kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

স্বর্ণপাম

সামনে এলো বৈষম্যের বাস্তবতা

বছর দুই আগে ‘ওকজা’ নিয়ে লড়েছিলেন, পারেননি। এবার ‘প্যারাসাইট’ দিয়ে জিতে নিলেন স্বর্ণপাম। প্রথম দক্ষিণ কোরীয় পরিচালক হিসেবে স্বর্ণপাম জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বং জুন-হো। বৈষম্য নিয়ে ডার্ক কমেডির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সমালোচকরা

৩০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সামনে এলো বৈষম্যের বাস্তবতা

বং জুন-হো

২৫ মে শেষ হলো ৭১তম কান চলচ্চিত্র উৎসব। গেলবারের মতো এবারও স্বর্ণপাম এসেছে এশিয়ায়। কান চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ ছয় পুরস্কার নিয়ে এক পৃষ্ঠার বিশেষ আয়োজন

 

‘প্যারাসাইট’ মূলত কি টায়েকের গল্প। হুট করে চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে দিশাহারা বেচারা। সে সময়ই তার আগ্রহ জন্মায় শহরেরই আরেকটি পরিবারের প্রতি। ধনী সেই পরিবারটি কি টায়েকের পরিবারের একদমই উল্টো। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দুটি পরিবারের গল্প যেন একই রকম। এ সময় ঘটতে থাকে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা। যা শ্রেণিবৈষম্য ও সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের একটি অনন্য রূপ তুলে ধরে। ডার্ক কমেডি ঘরানার এ চলচ্চিত্র  দর্শকদের ভাবনার গভীরে গিয়ে আঘাত করে। চলচ্চিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সং কাং হো, লি সুন কিউন, চো ইও জিয়ং।

কানের স্বর্ণপাম লড়াইয়ে পরিচালক বং জুন-হোর পদচারণ নতুন নয়। ২০১৭ সালেও তাঁর পরিচালিত ‘ওকজা’ লড়েছিল মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে। সেবার না পারলেও ‘প্যারাসাইট’ দিয়ে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ৪৯ বছর বয়সী এই পরিচালক। কিম কি দুক, পার্ক চ্যাক উক, কিম জি উনদের দেশে প্রথমবারের মতো তিনিই নিয়ে যাচ্ছেন স্বর্ণপাম। সমালোচকরা এরই মধ্যে এ বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের তকমা দিয়ে দিয়েছেন ছবিটিকে। তবে ‘প্যারাসাইট’-এর স্বর্ণপাম জেতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন অনেকেই। কারণ সেরা হতে এটিকে লড়াই করতে হয়েছে কুয়েন্টিন টারান্টিনোর ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’, পেদ্রো আলমোদোভারের ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’র মতো ছবির সঙ্গে। বং জুন-হোর স্বর্ণপাম জয় নিয়ে কানের বিচারকমণ্ডলীর প্রধান আলেহান্দ্রো ইনারিতু বলেন, ‘সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতা নিয়ে গল্প। ছবিটি একটি শৈল্পিক উপমা সৃষ্টি করেছে।’

নির্মাণে আলফ্রেড হিচকককে গুরু মানা বং জুন-হোর ‘প্যারাসাইট’ তাঁর আগের চলচ্চিত্রগুলো থেকে অনেকাংশেই আলাদা। এবার তিনি কাজ করেছেন রাজনীতি নিয়ে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রটির অনেক কিছু শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার দর্শকদের জন্যই। তবে বৈষম্যে যেহেতু বৈশ্বিক বাস্তবতা, তাই গল্পটি সহজেই সারা দুনিয়ার সব প্রান্তের দর্শককেই স্পর্শ করবে।’

মন্তব্য