kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

মায়ের জন্য শাড়ি, বাবার জন্য পাঞ্জাবি

নিজের উপার্জনে প্রথমবার মায়ের জন্য শাড়ি আর বাবার জন্য পাঞ্জাবি কেনার গল্প বলেছেন ঈদের নাটক-সিনেমার তারকারা। এবার ঈদে মা-বাবাকে কী দেবেন, বলেছেন সেটাও। শুনেছেন মীর রাকিব হাসান

৩০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মায়ের জন্য শাড়ি, বাবার জন্য পাঞ্জাবি

বাবাকে ছাড়া প্রথম ঈদ

ববি হক

প্রথম উপার্জনের টাকা দিয়ে বাবার জন্য শার্ট, ঘড়ি কিনেছিলাম আর মায়ের জন্য শাড়ি। আমি তখন উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। প্রথমবার বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিং করে যে টাকা পেয়েছিলাম, সেটা দিয়েই কিনেছিলাম। ঘটনাক্রমে সময়টা ছিল ঈদের আগে আগেই। প্রায় একই সময়ে একটা প্রতিযোগিতা থেকেও কিছু টাকা ও গয়না পেয়েছিলাম। গয়নাগুলোও মাকে দিয়েছিলাম। এবার ঈদে কিছুই কিনিনি। গত মাসে বাবা মারা গেছেন। বাবাকে ছাড়া প্রথম ঈদ, কিভাবে কী করব জানি না। বাবাকে ছাড়া মানুষ কিভাবে ঈদ করে তা-ও জানি না। ‘নোলক’ মুক্তি পাবে ঈদে, এই ব্যস্ততায় কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করি। সত্যি বলতে, এবারের ঈদ ভালো যাবে না আমার। তবু মায়ের পাশে থেকে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে যাব।

আম্মু যদিও বকেছিল...

মেহজাবীন চৌধুরী

অভিনয় শুরু করার পরই মা-বাবা, ভাই-বোনদের প্রথম উপহার দিয়েছিলাম। এর আগে কেউ টাকা দিলে সেটা আম্মুর কাছে দিয়ে দিতাম। লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বের হয়েই কয়েকটি নাটকে অভিনয় করি। সেখান থেকে কিছু টাকা জমে। ওই বছর ঈদের নাটকও করেছিলাম। সেটা দিয়েই সবার জন্য ঈদ শপিং করি। আম্মুকে শাড়ি, আব্বুকে পাঞ্জাবি আর ভাই-বোনকে জামা উপহার দিয়েছিলাম। নিজের উপার্জন থেকে পরিবারের কাউকে কিছু দেওয়ার মজাই তো আলাদা। আম্মু যদিও বকেছিল, ‘তুমি এগুলো করতে কেন গেছ।’ আর এখন তো কাজের চাপ এমন বেড়ে যায়, ঈদের আগের রাতেও শুটিং থাকে। না চাইলেও করতে হয়। শপিং করার আর সময় হয় না। আম্মুই করেন সব।

 

টিউশনির টাকায় প্রথম উপহার

শবনম বুবলী

উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময়ই মা-বাবার জন্য প্রথম উপহার কিনেছিলাম। আমি যখন স্কুলে পড়তাম, তখন আমার বান্ধবীদের পড়াশোনায় গাইড করতাম। যখন কলেজে উঠলাম, তখন এক বান্ধবী বলল, আমার বাসার কাছেই ওর বোনের ছেলে আছে, ওকে পড়াতে হবে। আমার মধ্যে একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করল যে নিজে কিছু উপার্জন করব। শিক্ষক হয়ে কাউকে কিছু বোঝাতে পারব। বেতন খুবই কম ছিল। ঈদের আগে দু-তিন মাসের টাকা জমে গেল। তখন বাবার পাঞ্জাবি আর মায়ের জন্য শাড়ি কিনেছিলাম। আমি পরিবারের ছোট মেয়ে, তাই সবাই আমাকেই উপহার দেয়; আমি কিছু দিতে গেলে বকা খাই। এখন বড় হয়েছি, উপার্জন করছি; চেষ্টা করি সবাইকে কিছু না কিছু দেওয়ার।

 

একটা আর্ট স্কুলে পড়াতাম

অর্চিতা স্পর্শিয়া

জন্মের পর থেকে আমি আম্মুকেই পাশে পেয়েছি। আম্মুকে সাধারণত আমি বই উপহার দিই। বই পেলে খুব খুশি হন। আর আমি যা উপার্জন করি, নিজের খরচটা রেখে বাকিটা আম্মুকেই দিই। কেনাকাটা আমার খুব একটা পছন্দ না। ঈদ বা অন্যান্য উৎসবে আম্মুই আমার জন্য কেনাকাটা করেন। আমি তো অনেক ছোটবেলা থেকেই কাজ করি। সে সময়ই আম্মুকে প্রথম উপহার দিয়েছিলাম। শোবিজে আসার আগে একটা আর্ট স্কুলে পড়াতাম। ওখান থেকে বেতন পাওয়ার পর নিজে পছন্দ করে আম্মুর জন্য উপহার কিনেছিলাম। তিনি শাড়ি পরেন না, তাই সালোয়ার-কামিজ দিয়েছিলাম।

 

মন্তব্য