kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

ওপারে জ্যোতি দাদা

তিনি মূলত গণমাধ্যমকর্মী। টুকটাক অভিনয়ও করেছেন। হঠাৎ করেই সুযোগ পেলেন কলকাতার ছবি ‘মিস্টিক মেমোয়্যার’-এ। জুলহাজ্জ জুবায়েরের কাছ থেকে সেই গল্প শুনেছেন নাবীল অনুসূর্য

৩০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওপারে জ্যোতি দাদা

নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন করপোরেট জগতে। একদিন বাবার কথা শুনে হঠাৎই জীবনের গতিপথ বদলে নিলেন। ‘বাবা বললেন, এত টাকা রোজগার করে কি হবে? মৃত্যুর পর কি কেউ মনে রাখবে? প্রশ্নটা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। চিন্তা করে দেখলাম, গণমাধ্যমে কাজ করলে সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের কথা বলা যাবে। ব্যস, করপোরেট জগৎ থেকে চলে এলাম গণমাধ্যমে।’

শুরুটা টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা দিয়ে। যমুনা টেলিভিশনে দীর্ঘদিন ধরে করছেন ‘সকালের বাংলাদেশ’ ও ‘যমুনার নিমন্ত্রণ’। ২০১৫ সালে এলেন অভিনয়ে, টিভি নাটক করেছেন কয়েকটি। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একটি মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সেই নাটকের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র করেছিলেন। তবে পেশাদার মঞ্চনাটক ছিল না সেটা। ছোট পর্দায় অভিনয় করাটাকেই তাই হাতেখড়ি বলতে চান। তবে পরিচিত মুখ হওয়ার চেষ্টা করেননি কখনো। বললেন, “আমি নিরীক্ষাধর্মী চরিত্র করতে পছন্দ করি। নাজনীন হাসান চুমকির ‘তিলোত্তমাজ’, ‘নাগরদোলা’, বদরুজ্জামান শুভর ‘নির্বাক ভালোবাসা’, ফেরারী অমিতের ‘পাগলা ঘোড়া’য় তেমন চরিত্রই করেছি। তবে আমার বরাবরই আগ্রহ ছিল বড় পর্দায়।”

দু-একটি ছবিতে প্রস্তাবও পেয়েছিলেন। কিন্তু গল্পগুলো ঠিক মনে ধরছিল না। তবে একেবারে সিনেমাটিকভাবেই অভিনয় করে ফেললেন ‘মিস্টিক মেমোয়্যার’-এ। ছবিটির পরিচালক অপরাজিতা ঘোষের সঙ্গে প্রথম দেখা ‘সকালের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে। ২০১৭ সালের শেষ দিকে ঢাকা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন অপরাজিতা। অনুষ্ঠান শেষে অপরাজিতা সরাসরিই জুলহাজ্জকে বলে বসেন, ‘আমি কোনো ছবি করলে তুমি অভিনয় করবে?’ এরপর দুজনের টুকটাক আলাপ হতো অন্তর্জালে। পরের বছরের শুরুতে আবারও ঢাকায় এলেন অপরাজিতা। আবারও এলেন জুলহাজ্জের উপস্থাপনায় কথা বলতে। জানালেন, একটা গল্প ভাবছেন তিনি। কিছুদিন পরই ‘মিস্টিক মেমোয়্যার’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব। ‘অপরাজিতা যখন বলল, গল্পটা আমাকে নিয়েই ভেবেছে, একটা ধাক্কা খেলাম। আবার জিজ্ঞেস করলাম। ও বলল, গল্পটা যখন ভাবছিল, ও কলকাতার প্রথম সারির অনেক অভিনেতাকেই চরিত্রটির জন্য ভেবেছিল। কিন্তু ওর মনে হয়েছে, চরিত্রটা নাকি আসলেই আমার মতো। আমি বাস্তবে যেমন, তেমনই। গল্পটা পড়ার পর মনে হলো, সত্যিই এটা আমার গল্প। তারপর আর দুবার ভাবিনি। সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাঁ বলে দিলাম।’

ছবির গল্প জ্যোতি দাদা [জুলহাজ্জ জোবায়ের] আর রিশুকে [দিব্যাংশু দাস] ঘিরে। এক দিকে স্কুলের চাপ, আরেক দিকে বাড়ির চাপ; বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় রিশু। দেখা হয় জ্যোতি দাদার সঙ্গে। তাদের দুজনের গল্পই ‘মিস্টিক মেমোয়্যার’। জ্যোতি দাদার বেশভূষা দেখলে সবার আগে মনে পড়ে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় চরিত্র হিমুর কথা। তার পরনে হলুদ পাঞ্জাবি, তাতে কোনো পকেট নেই। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। মোবাইল ব্যবহার করে না। ফেসবুক-টুইটার ব্যবহারের তো প্রশ্নই ওঠে না। সোজা কথায়, তার মধ্যে বৈষয়িক কোনো ব্যাপারই নেই। জুলহাজ্জ বললেন, ‘এই ব্যাপারগুলো ছাড়া হিমুর সঙ্গে চরিত্রটার আর কোনো মিল নেই। পরিচালককে বিষয়টা জিজ্ঞেসও করেছিলাম। তাঁর পরিষ্কার কথা, এই গল্পটা জ্যোতির, হিমুর নয়।’

ছবিটাতে অভিনয়ের জন্য ৮ এপ্রিল কলকাতায় গিয়েছিলেন জুলহাজ্জ। দুই দিন ওয়ার্কশপ করে ১০ তারিখ থেকে শুটিং। ‘দিনে ১২ ঘণ্টা করে শুট করেছি। আট দিনে পুরো ছবির শুটিং শেষ! সল্টলেক, লেক গার্ডেন, গঙ্গার পার, বিমানবন্দর এলাকাসহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করেছি।’

ছবিটা কি বাংলাদেশের দর্শক দেখতে পাবে? ‘প্রাথমিকভাবে কলকাতায় মুক্তি দেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন উৎসবে পাঠানো হবে। হয়তো বাংলাদেশের কোনো উৎসবেও দেখানো হবে।’

অপরাজিতা ঘোষের পরের ছবিতেও থাকছেন জুলহাজ্জ। সেটা নিয়ে বেশি কিছু অবশ্য বললেন না। শুধু জানালেন, ভারত ও বাংলাদেশের দুই শহরের দুজনের গল্প নিয়ে ছবিটি। দুজনের একটা যোগসূত্রও আছে। নাম এখনো ঠিক হয়নি। তবে কি এখন থেকে ভারতেই অভিনয় করবেন? ‘একেবারেই না। আমি বাংলাদেশেই কাজ করতে চাই। দু-একজনের সঙ্গে কথাও হচ্ছে। পছন্দমতো পেলে না করার কোনো কারণই নেই।’

মন্তব্য