kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

উপায় না পেয়ে ইউটিউবে

দশ বছর আগে শুটিং করেছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষা, নানা বিতর্কের পর অবশেষে এই ঈদে ইউটিউবে মুক্তি পাবে ‘দ্য ডিরেক্টর’। নিজের প্রথম ছবি নিয়ে বললেন পরিচালক কামরুজ্জামান কামু

৩০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



উপায় না পেয়ে ইউটিউবে

‘দ্য ডিরেক্টর’ ইউটিউবে মুক্তি দিচ্ছি; যদিও ইউটিউবে মুক্তি দেওয়ার কথা চিন্তা করে ছবিটি নির্মাণ করিনি। নানা কারণে শেষ পর্যন্ত স্বাধীন এই মাধ্যমটিই বেছে নিতে হলো। এর পেছনে এত লম্বা কাহিনি, বলে শেষ করতে পারব না। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা গুগলে সার্চ করলেই নেপথ্যের কারণগুলো জানতে পারবেন। এই ছবি নির্মাণের পেছনের সংগ্রাম, মুক্তি নিয়ে যে জটিলতা, তার সবই সচেতন পাঠক জানেন। ছবিটির নির্মাণ প্রক্রিয়াটা ছিল একটু আলাদা। নানাভাবে শুটিং করতে হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা করে কোনো কাজই করতে পারিনি। বানাতে বানাতে হয়ে যাওয়া ছবি ‘দ্য ডিরেক্টর’। নির্মাণে বেশিদিন লাগেনি।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেন্সর বোর্ডে জমা দিই। প্রথমে জানানো হয়, এই ছবি প্রদর্শনের যোগ্য নয়! এরপর নানা অজুহাতে ছবিটি আটকে রাখল সেন্সর বোর্ড। ছবি মুক্তির দাবিতে চলচ্চিত্রকর্মীরা আন্দোলনে নামল। অবশেষে দুই বছর পর কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য কর্তন সাপেক্ষে ছাড়পত্র দিয়েছে সেন্সর বোর্ড।

এর পর থেকেই ছবিটি হলে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো হলই নিতে রাজি হয়নি। চেষ্টা করেছি টেলিভিশনে মুক্তি দেওয়ার, সেখানেও ব্যর্থ হয়েছি। কেন ব্যর্থ হলাম বলা দরকার। এই ছবির অ্যাপ্রোচের সঙ্গে নাকি প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাপ্রোচের মিল নেই। এটা একটা অপ্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গির ছবি, যে কারণে হল ও টেলিভিশন ছবিটির সঙ্গে যুক্ত হতে চায়নি। ছবিটি যখন সেন্সর বোর্ড আটকাল, তখনই বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু তখন তো আমার হাতে পরিবর্তন করার সুযোগ ছিল না। বদলালে পুরো ছবিই ফেলে দিতে হয়।

আমাদের সিনেমা হলগুলোতে একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাটের ছবি দেখানো হয়। যেমন—বড়লোকের মেয়ে আর গরিবের ছেলের প্রেম, এ রকম বিভিন্ন ফরম্যাট থাকে। সেগুলোর ভেতর থেকেই ছবি বানাতে হয়। তাহলে সেন্সর বোর্ডের জন্য সেন্সর দেওয়াও সুবিধা, হলগুলোর জন্যও সুবিধা। কারণ এ রকম ফরম্যাটের ছবি হলে চলে। এর বাইরের কোনো ফরম্যাট বা গল্পের ছবি হলে সেন্সর বোর্ডের অসুবিধা, হলগুলোর অসুবিধা। যেমন—আমার এই ছবিতে চলচ্চিত্র অঙ্গনের শুধু পপিই আছেন। যে সময় ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে, তখন পপি অনেকটাই নিষ্প্রভ। হলগুলো ছবিটি না নেওয়ার এটাও একটা কারণ। ভেবেছে এটা হলে চলবে না। আমি নিজেও আলাদা ফরম্যাটের লোক। ফলে ছবিটা বানাতে গিয়ে ভিন্ন ফরম্যাটের হয়ে গেছে। আর কোনো উপায় না পেয়ে ইউটিউবে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। হলে মুক্তি দেওয়ার জন্য ছবিতে সেন্সর বোর্ড কর্তন দিয়েছিল। কিন্তু সেটা যখন হচ্ছে না, ফলে এখন আর তাদের কর্তন মানতে আমি বাধ্য নই। ইউটিউবে আনকাট ছবিটাই মুক্তি পাবে। এরপর কোনো ছবি বানালে সেন্সর বোর্ডের কোনো ধারই ধারব না। আমার ইচ্ছামতো ছবি বানিয়ে ইউটিউবে মুক্তি দেব। হলে মুক্তি দিতে যে ফরম্যাট মেনে ছবি বানাতে হয়, সেটা আমি পারব না। তাই সেই ফরম্যাটে যেতেও চাই না।

হল কিংবা টেলিভিশন না পেলেও এই ছবি দিয়ে দর্শকের কাছে আমি ঠিকই জায়গা পাব। এটা ভিন্ন ধরনের ছবি। চিরাচরিত ছবির সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এটাই চমকে দেবে দর্শককে। এই ছবি এমন কেন, গল্পটা এ রকম কেন—এমন প্রশ্ন তাদের মাথায় ঘুরপাক খাবে। ঈদের দিন রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে সান বিডিটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে ছবিটি।

ছবির এক অভিনেত্রী [পপি] সম্প্রতি বলেছেন, এটা নাকি ছবি নয়, টেলিফিল্ম। তাঁকে টেলিফিল্ম বলে অভিনয় করানো হয়েছে। তাঁর এমন মিথ্যাচারের নিন্দা জানাই। চলচ্চিত্র জেনেই তিনি ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, ছবিটি যখন সেন্সর বোর্ডে আটকে ছিল, তখন তিনিও এই ছবির পক্ষে সোচ্চার হয়েছিলেন। এখন কেন এসব বলছেন, আমার বুঝে আসে না। দেখার পর দর্শকই বিচার করবে এটা ছবি, না অন্য কিছু। ছবিটি ঘিরে পুরো ইন্ডাস্ট্রির যে অবস্থান, সে জায়গা থেকেই হয়তো পপি এমন কথা বলেছেন। এর আগে ‘স্ক্রিপ্ট রাইটার’ নামে একটি শর্টফিল্ম বানিয়েছিলাম, এনটিভিতে প্রচারিত হয়েছিল। বিভিন্ন উৎসবেও গিয়েছিল। সে অর্থে এটিই আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। ছবিতে নিজেও অভিনয় করেছি। এটাও একটি মজার বিষয়। নির্মাণের মাঝপথেই বাজেট শেষ হয়ে যায়। যে কারণে নামি অভিনেতা নিতে পারিনি। তাই নিজেই অভিনয় করেছি। আরো অভিনয় করেছেন মারজুক রাসেল, পপি, মোশাররফ করিম, তানভীন সুইটি, নাফা, নাফিজা জাহান, কচি খন্দকার।

ছবিটা মুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। অনেক বছর ধরে ছবিটা আমার ভেতর আটকে আছে। এর ভেতর থেকে আমার বের হওয়াটা খুব জরুরি। বের হতে পারলে আমার মানসিক মুক্তি ঘটবে। পরের ছবি নির্মাণেও হাত দিতে পারব।

অনুলিখন : আতিফ আতাউর

মন্তব্য