kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

। ঈদের ছবি।

ওহে রহস্যময়ী

ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবি নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন। এবারের কিস্তি ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে। নায়িকা শবনম বুবলী বলেছেন ছবিটি নিয়ে। লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

৩০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওহে রহস্যময়ী

ঈদের ছবি মানেই বুবলী। ২০১৬ সালে জোড়া ছবি ‘বসগিরি’, ‘শুটার’ দিয়ে অভিষেক। ২০১৭ সালে ‘রংবাজ’ ও ‘অহংকার’ এবং ২০১৮ সালে ‘সুপার হিরো’ ও ‘ক্যাপ্টেন খান’—সবই ঈদে ছবি। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। মালেক আফসারীর ‘পাসওয়ার্ড’ মুক্তি পাবে ঈদে। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত শাকিব খান ছাড়া আর কোনো নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেননি বুবলী। ‘পাসওয়ার্ড’-এ যথারীতি তাঁর নায়ক শাকিব খান।

এই ছবির গানের শুটিংয়ে টানা ১২ দিন তুরস্কে ছিলেন তাঁরা। ফিরেছেন শুক্রবার। টানা শুটিংয়ের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছেন বুবলী। বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুটিং করে আবার রওনা দিতাম অন্য লোকেশনে। একটা লোকেশন থেকে আরেকটায় পৌঁছাতে সাত-আট ঘণ্টা লেগে যেত। নামমাত্র বিশ্রাম নিয়ে সকালে আবার শুটিং। বলা চলে প্রত্যেকেই রোবটের মতো খেটেছি।’

১২ দিনে চারটি গানের শুটিং করেছেন। কোরিওগ্রাফি করেছেন ভারতের বাবা যাদব। টানা শুটিং করতে করতে ক্লান্ত শাকিব নাকি তাঁর ওপর একবার খেপেও গিয়েছিলেন! হাসতে হাসতে বুবলী জানালেন সেই ঘটনা—‘হিরোর মুখের দিকে তাকানোই যাচ্ছিল না। চোখ দুটি লাল টকটকে। ফ্যাকাশে হয়ে গেছে মুখ। এর মধ্যে বাবা বলছেন, শট দাও, শট দাও। সূর্য ডুবে যাচ্ছে! তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন হিরো। বললেন, নিজে প্রযোজক, তাই এত প্যারা নিচ্ছি। নইলে কে করে এত কষ্ট! আর কখনোই বাবাকে নিয়ে কাজ করব না। ও মানুষ না, আস্ত একটা মেশিন!’

তুরস্কে এবারই প্রথম কোনো বাংলাদেশি ছবির শুটিং হলো। স্থানীয়রা এর আগে বলিউড, হলিউড কিংবা টালিগঞ্জের ছবির শুটিং দেখেছে। সেই সুবাদে তারা ওই ইন্ডাস্ট্রিগুলোর তারকাদের ভালো করে চেনে। ঢালিউড নামে আরেকটা ইন্ডাস্ট্রিও যে আছে তা তাদের জানা ছিল না। শুটিং দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ হাজির হতো। শুধু তা-ই নয়, বেশ কয়েকটি শহরে শুটিং করার সময় সিটি মেয়ররাও এসেছিলেন। শাকিব-বুবলীর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন তাঁরা। ‘পাসওয়ার্ড’ দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাঁরাও। বিষয়টি নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত বুবলী।

সংবাদগুলো পড়েছিলাম। পড়ে কষ্টও পেয়েছিলাম। তবু ইচ্ছা করেনি কাউকে ফোন দিয়ে ভুল ভাঙাতে

এরই মধ্যে বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্রও পেয়েছে ছবিটি। ঈদের এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এর মধ্যে ৮২টি হল বুকিং হয়েছে। প্রযোজক টেবিলমানি পেয়েছেন প্রচুর। ফলে শাকিব আছেন ঝুঁকিমুক্ত। প্রযোজকের এমন ফুরফুরে মেজাজ দেখে বুবলীও চিন্তামুক্ত। বুবলী বলেন, ‘শাকিব বাংলাদেশের সুপারস্টার। তার ওপর এই ছবির প্রযোজক তিনি। হল মালিকদের এই ছবির প্রতি আগ্রহ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে পরীক্ষার শেষ এখনো হয়নি। দর্শক হলে ছবিটি কতটুকু উপভোগ করবে সেটাই মূল বিষয়। একেক দর্শকের একেক রকম গল্প পছন্দ। তারা এই ছবি গ্রহণ করবে কি করবে না, ছবি মুক্তির আগে তা কোনোভাবেই বোঝা যাবে না।’

এখন থেকেই ‘পাসওয়ার্ড’-এর প্রচারণায় কাজ শুরু করেছেন বুবলী। প্রযোজক ও পরিচালকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে শিডিউলও সাজিয়েছেন। বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হাজির হবেন। ছবি মুক্তির দিন থেকে ঘুরবেন হলে হলে। তাই ঈদ নিয়ে ‘পাসওয়ার্ড’-এর বাইরে আলাদা কোনো ভাবনা নেই মাথায়।

মাঝখানে দুই মাস আড়ালে ছিলেন বুবলী। মিডিয়ার কারো ফোনই ধরেননি। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও পারেনি বুবলীকে কথা বলাতে। এত দিন পরে এসে সেই রহস্যের উন্মোচন করলেন তিনি—‘ছোটবেলা থেকে আমি চুপচাপ থাকতে পছন্দ করি। কাজ না থাকলে ঘর থেকে বের হই না। তা ছাড়া ফোনের ব্যাপারে খুব এলার্জি আমার। অন্যদের মতো ফোন কানে দিয়ে মিনিটের পর মিনিট কথা বলতে বিরক্ত লাগে। হাতে নতুন ছবি ছিল না, তাই নিজেকে সময় দিতে চেয়েছিলাম। তখন কেউ ফোন করলে রাগ লাগত। আসলে নতুন কোনো খবর থাকলে তো নিজেই দিতাম সবাইকে। অযথা হাই-হ্যালো করে কী লাভ! তাই একটু আড়ালেই ছিলাম।’ কিন্তু এই সুযোগে অনেকে তো রটিয়ে দিয়েছে ‘শাকিবের সঙ্গে আপনার জুটি ভেঙে গেছে’, ‘আপনি অহংকারী’ ইত্যাদি ইত্যাদি!

‘সংবাদগুলো পড়েছিলাম। পড়ে অনেক কষ্টও পেয়েছিলাম। তবু ইচ্ছা করেনি কাউকে ফোন দিয়ে ভুল ভাঙাতে। সবাই মনগড়া সংবাদ লিখে গেছেন। আমি ফোন না ধরায় অহংকারীও বলেছেন। এসব মেনে নিয়েছিলাম সহজভাবেই। সত্যি বলতে আমি রহস্যময়ী নায়িকা হয়েই থাকতে চাই’—বললেন বুবলী।

মন্তব্য