kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

ওপার বাংলায় নিশিতা

প্রথমবারের মতো ওপার বাংলার ছবিতে গেয়েছেন নিশিতা বড়ুয়া। শিগগিরই কলকাতা যাবেন আরো পাঁচটি গান রেকর্ডিং করতে। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওপার বাংলায় নিশিতা

প্রস্তাবটা পেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সংগীত পরিচালক অম্লান চক্রবর্তীর কাছ থেকে। শ্রী ভেঙ্কটেস ফিল্মস প্রযোজিত একটি ছবিতে প্লেব্যাকের সুযোগ আছে। তার জন্য দিতে হবে অডিশন। টিকে গেলে তবেই মিলবে সুযোগ। প্রস্তাব শুনে একটু চমকে যান নিশিতা বড়ুয়া, ‘আমি ছাড়াও কলকাতার আরো চারজন গানটিতে অডিশন দেয়। বাংলাদেশ থেকে ভয়েস রেকর্ড করে পাঠানোর সময় মনে হয়েছিল সুযোগটা পেতে পারি।’ নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের ফল পেতে দেরি হয়নি। কয়েক দিন পরই অম্লানের বার্তা—‘গানটা তুমিই গাইছ।’ এরপরই পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ‘কে তুমি নন্দিনী’র ‘ইশক খুদা হে’ গানটিতে কণ্ঠ দেন নিশিতা। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ ভাগাভাগি করেন রাজু দাস ও ঈশান মিত্র। ২০ এপ্রিল শ্রী ভেঙ্কটেস ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন নিশিতা। বলেন, ‘‘সিলন মিউজিক লাউঞ্জে ‘তখন তোমার একুশ বছর’ এবং ‘আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব’ গান দুটি গাওয়ার পর বাংলাদেশ তো বটেই, কলকাতা থেকেও দারুণ সাড়া পাই। কলকাতার ইভেন্ট অর্গানাইজেশন ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন থেকে শুরু করে সেখানকার অনেক সংগীত পরিচালক আমাকে বাহ্বা দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই কলকাতার ছবিতে গাওয়ার সুযোগটি পেয়েছি। এটা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের বিষয়।’ শুধু কলকাতা নয়, গান দুটির কল্যাণে আসাম, হায়দরাবাদ, মুম্বাইয়েও এখন পরিচিত তিনি। পূজায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাওয়ার নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। দেড় মাস আগে কলকাতায় গিয়ে শো করে এসেছেন। তারপর প্লেব্যাক। কয়েক দিন পর আবার উড়াল দেবেন কলকাতা। আরো পাঁচটি গান রেকর্ড হবে। মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়েও অংশ নেবেন। তবে সে বিষয়ে এখনই জানাতে চাননি! সিলন মিউজিক লাউঞ্জের আরো তিনটি গান গেয়েছেন। সেগুলোর নামও আপাতত গোপন রাখলেন। তবে জানালেন, শিগগিরই শ্রোতারা গানগুলো শুনতে পাবেন।

আজকাল টেলিভিশনে কম গান করেন নিশিতা। এর কারণও ব্যাখ্যা করলেন, ‘বেশির ভাগ টেলিভিশন অনুষ্ঠানেই সরাসরি গান হয়। এতে মূল গান ও টেলিভিশনে গাওয়া গানের মধ্যে মিল থাকে না। সেসব গান নামসর্বস্ব অনেক ইউটিউব চ্যানেল  অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ করে। মূল গানের চেয়ে টেলিভিশনে গাওয়া গানটাই বেশি ছড়ায়। এতে শিল্পীর সমালোচনা হয়। এ কারণেই টেলিভিশনে কম গান করি।’

মাঝে অনেকটাই নীরব ছিলেন নিশিতা। এ নিয়েও কথা বললেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র, শ্রোতা, অডিও ইন্ডাস্ট্রি সব কিছু নিয়েই খানিকটা নিরাশ ছিলাম। মানুষ সিনেমা দেখে না, সিডি কিনে গান শোনে না, এমনকি টেলিভিশনও তেমন দেখে না। কোনো শ্রোতাকে আমার গানের নাম জিজ্ঞেস করলে বলতে পারত না। যদিও কিছু গান শুনেছে, ভুলে গেছে। যে গান শ্রোতা শুনে ভুলে যাবে সেটা গেয়ে লাভ কী? পাশাপাশি পড়াশোনা নিয়েও ব্যস্ততা ছিল। ভালো সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। সুযোগ পেয়েছি আবার সরব হয়েছি।’ ইউটিউবে নিজের একটি চ্যানেল ছিল নিশিতার। বছর দুয়েক আগে সেটা হাতছাড়া হয়ে গেছে। নতুন আরেকটি চ্যানেল খুলেছেন। গানের পাশাপাশি এখন সেই চ্যানেলটিকেও দাঁড় করাতে চান এবার।

মন্তব্য