kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ক্যাপ্টেন মার্ভেল হাজির

২০টি মার্ভেল চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেও ক্যাপ্টেন মার্ভেলকে নিয়ে সিনেমা দেখেনি দুনিয়া। এবার বক্স অফিসে ঝড় তুলতে আসছেন তিনি। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ক্যাপ্টেন মার্ভেল’কে নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্যাপ্টেন মার্ভেল হাজির

পর্দায় ‘অ্যাভেঞ্জার্স : ইনফিনিটি ওয়ার’ চলছে। ছবি শেষ হয়ে গেলেও হল ভর্তি দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মার্ভেল চলচ্চিত্রগুলোর বিশেষ আকর্ষণ ‘পোস্ট ক্রেডিট’ দৃশ্যের জন্য। সেই দৃশ্যে চলে আসে শিল্ডের কর্তা নিক ফিউরি। থানোসের সেই বিখ্যাত তুড়ির জোরে অদৃশ্য হওয়ার আগে তার পুরনো পেজার মেশিনের মাধ্যমে একটি মেসেজ পাঠাতে সক্ষম হয় সে। একটু পরই সেই পেজার মেশিনের ছোট্ট পর্দায় দেখা যায় একটি চিহ্ন। মার্ভেল কমিকসের দুনিয়ার অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র ক্যাপ্টেন মার্ভেলের আগমনটাও নিশ্চিত হয়ে যায় পরবর্তী অ্যাভেঞ্জার্স চলচ্চিত্রে। দর্শক ক্যাপ্টেন মার্ভেলের শুরুর গল্পটা দেখতে পাবে নারী দিবসে।

ছবির কাহিনি ১৯৯৫ সালের ঘটনাবলি নিয়ে। মহাকাশের দুই চিরবিবদমান শক্তি ক্রি ও স্ক্রাল। এ দুই শক্তির লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয় মার্কিন বিমানবাহিনীর এক পাইলট ক্যারল ডেনভার্স। অতীতের সব স্মৃতি হারিয়ে সে যোগ দেয় ক্রি সেনাবাহিনীতে। আবারও এক যুদ্ধের প্রাক্কালে পৃথিবীতে ফিরে খুঁজতে থাকে নিজের অতীতকে, দুনিয়ার মানুষের কাছে পরিচিত হয় পরাক্রমশালী ক্যাপ্টেন মার্ভেল হিসেবে। চলচ্চিত্রটিতে ক্যাপ্টেন মার্ভেল/ক্যারল ডেনভার্স করেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ব্রি লারসন। এ ছাড়া ক্যাপ্টেন মার্ভেলের শিক্ষকের চরিত্র করেছেন জুড ল। শিল্ডের প্রতিনিধিত্বকারী নিক ফিউরি হিসেবে স্যামুয়েল এল জ্যাকসন এবং ফিল কলসন হিসেবে ক্লার্ক গ্রেগকে দেখা যাবে।

মার্ভেল কমিকসে ক্যাপ্টেন মার্ভেলের প্রথম আগমনের পর মার্ভেল ও ডিসির মধ্যে দ্বন্দ্ব চূড়ান্তে পৌঁছেছিল। কারণ একই নামে ডিসি কমিকসেরও একটি বিখ্যাত চরিত্র ছিল! সেই দ্বন্দ্বের মীমাংসা করতে আদালতেও যেতে হয়। আদালতের রায়টা মার্ভেলের পক্ষেই ছিল। ডিসি চরিত্রটির নাম পরিবর্তন করে রাখে ‘শ্যাজাম’। ক্যাপ্টেন মার্ভেল মুক্তির এক মাস পর ৫ এপ্রিল পর্দায় আসছে ডিসির ‘শ্যাজাম’। ‘রুম’-এর জন্য অস্কার পাওয়া অভিনেত্রী ব্রি লারসনকে নিজেকে পুরোপুরি নতুনভাবে তৈরি করতে হয়েছে চরিত্রটির জন্য। শুধু পোস্টারের পোজটি আয়ত্ত করতেই ছয় ঘণ্টা অনুশীলন করতে হয়েছিল! পুরো ছবি করার আগে কঠোর ডায়েট ও শারীরিক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে পুরোটা সময়। নারীবাদী হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী চলচ্চিত্রটিকে দেখছেন বিশ্বজুড়ে নারীর ক্ষমতায়নকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। নিজের চরিত্রটি নিয়েও বেজায় উচ্ছ্বসিত তারকা, ‘অন্যান্য সুপারহিরোর মতো ক্যারল ডেনভার্স নিখুঁত নয়। এ দিকটিই চরিত্রটিকে অনন্য করেছে।’ জুড ল এবারই প্রথম সুপারহিরো চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। অভিনয়ের আগে তিনি পরামর্শ নিয়েছেন ‘শার্লক হোমস’ ছবিতে তাঁর সহকর্মী মার্ভেলের ‘ঘরের ছেলে’ রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের। তবে ব্রি ও জুড ল নিয়ে এত আলোচনা হলেও ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্যামুয়েল এল জ্যাকসন নিজের চরিত্রে বাজিমাত করেছেন। যদিও ৭০ বছর বয়সী অভিনেতাকে পর্দায় মধ্যবয়স্ক পুরুষ হিসেবে দেখানোটা সহজ ছিল না। এ জন্য নিতে হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য। 

‘অ্যাভেঞ্জার্স এজ অব অ্যালট্রন’-এ ক্যাপ্টেন মার্ভেলকে প্রথমবার পর্দায় নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন জশ হুইডন। তবে মার্ভেল চলচ্চিত্রের কর্ণধার কেভিন ফাইগির ইচ্ছা ছিল আরো বড় পরিসরে ক্যাপ্টেন মার্ভেলকে পরিচয় করানোর। চলচ্চিত্রটির ঘোষণা আসার পর থেকে কখনো লিঙ্গবৈষম্যের, আবার কখনো বা ডিসিভক্তদের তোপের মুখে পড়েছে ছবিটি। ব্রি বলছেন, সব কিছুর জবাব কাজ দিয়েই দিতে চান তাঁরা।

মন্তব্য