kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

একসঙ্গে তিন ‘প্রথম’

৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



একসঙ্গে তিন ‘প্রথম’

প্রথমবার বড় পর্দায় তাহসান রহমান খান, প্রথমবার বাংলাদেশি ছবিতে শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি এবং প্রথমবার ভিলেন চরিত্রের বাইরে তাসকিন রহমান। মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘যদি একদিন’-এ প্রথমবার একসঙ্গে পাওয়া যাবে এই তিন তারকার ‘প্রথম’। কাল মুক্তি পাবে ছবিটি। মুক্তির প্রাক্কালে তিন তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান

 

পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হওয়ার দেড় বছর আগে প্রস্তাব নিয়ে তাহসানের কাছে যান পরিচালক রাজ। গল্প পছন্দ হয় না তাহসানের। তবে রাজকে জানিয়ে দিলেন, অসাধারণ কিছু নিয়ে এলে অবশ্যই ‘না’ করার ক্ষমতা তাঁর থাকবে না। রাজও হাল ছাড়ার পাত্র নন। এক বছরে ছয়-সাতটি গল্প শোনান, কোনোটিতেই মন ভরল না তাহসানের।

তাহসান বললেন, ‘আমি ওর ধৈর্যে মুগ্ধ হয়েছি। এত বছরে অনেক পরিচালকই আমাকে গল্প শুনিয়েছেন। যখন বলেছি আমার ভালো লাগেনি, তখন তাঁরা আমার ওপর খুব রাগ করেন। অনেক সময় সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। পেছনে আমাকে নিয়ে গালমন্দ করেন। কিন্তু রাজ ব্যতিক্রম। যতবার বলেছি পছন্দ হয়নি, হাসিমুখে মেনে নিয়েছে। বিষয়টিকে বরং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ও। বলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমার পছন্দ হবে, নতুন নতুন গল্প শোনাতেই থাকবে। এভাবেই একদিন সিঙ্গল ফাদারের একটা গল্প শোনাল। ইন্টারভ্যাল পর্যন্ত শুনিয়ে বলল—এতটুকুই দাঁড় করিয়েছি, এরপর কী হবে জানি না। এতটুকু কেমন হয়েছে? আমি বললাম, খুবই ভালো লেগেছে। পরের পার্টটা এমন হলে কেমন হয়। দুজন মিলেই ইন্টারভ্যালের পরের পার্টটা এগিয়ে নিলাম।’

ছবির নায়িকা পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী। আগে যৌথ প্রযোজনার দুটি ছবিতে অভিনয় করলেও এবারই প্রথম বাংলাদেশি ছবি করলেন। কলকাতায় গিয়ে শ্রাবন্তীর সঙ্গে দেখা করে গল্প শোনালেন রাজ। “রাজ যখন গল্পটা শোনাল, আমি আর জিজ্ঞেস করিনি কে কে অভিনয় করবে। আমি ‘হ্যাঁ’ বলে দিই। তারপর ও আমার সহশিল্পীদের নাম বলে। গল্পটাই খুব স্ট্রং। মনে হয়েছে, গল্পটাই ছবির হিরো। রাজকে অবশ্যই ধন্যবাদ দেব যে এমন একটা ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমাকে ডেকেছে”—মুঠোফোনে জানালেন শ্রাবন্তী।

তাহসান-শ্রাবন্তীর পর চুক্তিবদ্ধ হলেন তাসকিন। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ করে রীতিমতো তারকা বনে গেলেন। থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। ফোনে তাঁকে গল্প শোনান রাজ। তাসকিন বলেন, ‘প্রথম ছবিতে ভিলেন হয়ে সবার প্রশংসা পেলাম। তারপর এমন একটা চরিত্রের প্রস্তাব, সঙ্গে সঙ্গে লুফে নিলাম। এটি একটি ফ্যামিলি ফিল্ম। শেষ দৃশ্য পর্যন্ত দর্শক বুঝতেই পারবে না আমার চরিত্রটা পজিটিভ নাকি নেগেটিভ। ইমোশন, প্রেম, বন্ধুত্ব, রাগ, ঘৃণা—সব আছে এখানে। তাহসান ভাইয়ের সঙ্গে আমার রসায়ন জটিল হবে, এটা ভেবেই রাজি হয়েছিলাম। তারপর ঢাকায় আসি শুটিংয়ের জন্য।’

তিনজনেরই বিশ্বাস, গল্পটা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। কারণ ফ্যামিলি ড্রামা বাংলাদেশে অনেক দিন হয়নি।

তাহসান বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেরা খুশি না হতে পারব ছবি মুক্তি দেব না, আমার সঙ্গে রাজের এমনই কথা ছিল। আর এ পর্যায়ে এসে বলব, শতভাগ না হলেও আমরা ৯০ ভাগ খুশি। আমাদের ভালো লেগেছে। এখন দেখার বিষয় দর্শকের কেমন লাগে। ১০০ কোটির একটা সিনেমাও অনেক সময় দর্শকের ভালো লাগে না। আমাদের এই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি আবেগ, দর্শক এই আবেগের সঙ্গে সহজেই একাত্ম হবে।’

ভারতের তারকা হলেও একেবারে বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিলে গিয়েছিলেন শ্রাবন্তী। কলকাতায় বসেও মিস করেন এই শুটিং ইউনিট। বিশেষ করে শিশুশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করা রাইসাকে। তাকে নিয়ে বলেন, ‘ও একেবারে আমার নিজের মেয়ের মতোই হয়ে গিয়েছিল। হয়তো এখন নিয়মিত কথা হয় না। তবে ওকে ভীষণ মিস করি।’

রাইসাকে নিয়ে একই কথা বললেন তাহসান, “আমার নিজের মেয়ের মতোই ওকে ভালোবাসি। ওর সঙ্গে আমার রসায়ন অলরেডি দর্শক দেখেছে, ‘লক্ষ্মীসোনা আদর করে দিচ্ছি তোকে’ গানে। আমার ধারণা, ছবি দেখার সময় দর্শক সারাক্ষণ ওকেই খুঁজবে। ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। সামনে বাংলাদেশের বড় তারকা হবে ও।’

শ্রাবন্তীকে নিয়ে এক মজার ঘটনা বললেন তাহসান, ‘তিনি যেখানেই যান না কেন, সঙ্গে মরিচ নিয়ে যান। ঝাল ছাড়া নাকি তিনি খেতেই পারেন না। সেটা কক্সবাজার হোক কিংবা লন্ডন, সবখানেই তাঁর সঙ্গে থাকে মরিচ। আমরা যখন একসঙ্গে খেতাম, দেখতাম ১৫-২০টি মরিচ নিয়ে খেতে বসছেন। আমি খুবই অবাক!’ আর এই মরিচ নিয়ে প্রতিযোগিতা হতো তাসকিনের সঙ্গে, ‘আমিও ভীষণ মরিচ ভালোবাসি। তাহসান ভাই এ ব্যাপারে আমাদের থেকে দূরে থাকতেন। একবার তো আমি আর শ্রাবন্তী প্রতিযোগিতায় নেমেছিলাম, কে কয়টা মরিচ খেতে পারে। ও আমার সঙ্গে হেরে গেছে। হা হা হা।’

ছবিতে তাহসানের নাম ফয়সাল। সিঙ্গল ফাদার, করপোরেট চাকুরে। তাসকিনের চরিত্রটার নাম জেমি। সে একজন রকস্টার। তাহসান বলেন, ‘ওর আর আমার রসায়ন দেখে বেশি ধাক্কা খাবে দর্শক। তাসকিন ভালো গাইতে পারে। শুটিংয়ে গানের খুব চর্চা হতো আমাদের। হাতের কাছে গিটার বা পিয়ানো পেলেই আমরা গাইতে শুরু করতাম।’

আর শ্রাবন্তী এখানে অরিত্রী। তার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় তাহসান ও তাসকিন। ঠিক কেমন সম্পর্ক তা নিয়ে মুখ খুললেন না কেউই।

‘যদি একদিন’ নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত শ্রাবন্তী। গত বছর ছবির গানের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। প্রচারণায় আসতে চাইছেন। ভিসা পেলেই চলে আসবেন। রাজ, তাহসান ও তাসকিনের কথাও বললেন, ‘রাজ তো আমার ভাইয়ের মতো। তাহসান দারুণ একজন মানুষ। টাইমিং, এক্সপ্রেশন—অনেক কিছু শিখেছি তাঁর কাছ থেকে। তাসকিনের নাম আমি কলকাতায় বসেই শুনেছি। আমাদের হিরো জিৎ বলেছে ওর কথা। বলেছে, দারুণ অভিনেতা। একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে সত্যি মুগ্ধ হয়েছি। দারুণ মজার মানুষ।’

পরিচালক রাজকে নিয়ে বললেন তাহসান, ‘জোর গলায় বলতে পারি, আগের সিনেমাগুলো দর্শকের যতটা ভালোবাসা পেয়েছে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভালোবাসা পাবে এই ছবির কারণে। আমি বিশ্বাস করি, এই ছবির পর বাংলাদেশের প্রথম সারির পরিচালকদের তালিকায় থাকবে তাঁর নাম।’

পর্দায় তাহসান-তাসকিনের কী সম্পর্ক তা নিয়ে মুখ না খুললেও পর্দার বাইরের সম্পর্ক নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘তাহসান ভাইয়ের তো অনেক গুণ। একসঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য বেশ শিক্ষণীয় ছিল। একসঙ্গে কাজ করার পর তাঁকে আমার আপন বড় ভাই মনে হয়। মাঝে তিনি সিডনি গিয়েছিলেন। তখন আমাদের জম্পেশ আড্ডা হয়েছে।’

শ্রাবন্তী ও রাজকে নিয়েও বললেন তাসকিন, ‘আমার দেখা মতে সে সবচেয়ে সুন্দর হাসে। তার হাসি খুবই পছন্দ আমার। এটা তাকে প্রায়ই বলি। সে তখনো হাসে। দারুণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। আর রাজ আগে আমার বন্ধু, তারপর ডিরেক্টর। আমি আমার ডিরেক্টরকে হতাশ করতে পারি, কিন্তু বন্ধুকে হতাশ করতে পারি না।’

 

মন্তব্য