kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

সত্যি প্রেমের গল্প

পর্দায় তাঁরা কত রোমান্টিক চরিত্রই না করেন! বাস্তবে তাঁদের প্রেম নিয়ে নানা গুজব রটলেও অজানা থেকে যায় আসল ভালোবাসার কথা। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে হলিউড-বলিউডের তারকাদের সত্যিকারের প্রেমের গল্প জানাচ্ছেন খালিদ জামিল

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সত্যি প্রেমের গল্প

অভিষেক-ঐশ্বরিয়া

এই শতকের শুরুর দশকে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত জুটি বলা যায় তাঁদের। হেন দিন নেই যে তাঁদের প্রেম নিয়ে খবর হতো না। তবে বিয়ের আগে কখনোই প্রেমের কথা স্বীকার করেননি কেউ। একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি করলেও তাঁদের প্রেমের শুরু ২০০৬ সালে, ‘ধুম-২’-এর সেটে। পরের বছর মণি রত্নমের ‘গুরু’র প্রিমিয়ারে ঐশ্বরিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন অভিষেক। সে বছরই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন দুজন। চুল বাঁধার পাশাপাশি রাঁধার কাজটাও ঐশ্বরিয়া ভালোই জানেন। অন্তত অভিষেকের তা-ই মত। বলেন, ‘সে ডেজার্ট ভালো বানাতে পারে। বিয়ের পর হালুয়া বানিয়ে খাইয়েছিল। ও সংসারী টাইপ, সহজেই আমাদের পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে গেছে।’ ঐশ্বরিয়া পছন্দ করেন অভিষেকের সোজাসাপটা কথাবার্তা, ‘সে আমাকে যখন প্রেমের প্রস্তাব দেয়, তখন এ কারণেই ওকে পছন্দ করি। যা বলার মুখের ওপর বলে। একটাই আফসোস, আমরা বেশি প্রেম করতে পারিনি, দ্রুতই বিয়ে করে ফেলি।’

 

বিরাট-আনুশকা

দুজনের প্রথম দেখাটা ২০১৩ সালে, টিভি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে। এর পর থেকেই একে অন্যের ‘ভালো বন্ধু’। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষ করে ভারত ক্রিকেট দল দেশে ফিরলেও ফেরেননি বিরাট কোহলি। তিনি চলে যান আনুশকা শর্মার সঙ্গে দেখা করতে। তাঁর জন্য গাড়িও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী। মূলত এই ঘটনার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের ব্যাপারটা জানাজানি হতে শুরু করে। দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়েছিল মাঝে। কিন্তু সব মান-অভিমান ভুলে শেষমেশ আনুষ্ঠানিকভাবেই ঘর বাঁধেন দুই জগতের এই দুই তারকা। ‘মাঝে আমাদের সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল, কী যে দুঃসহ সময় কেটেছে! বিরাটকে কতটা চাই, সেটাও তখন বুঝেছি,’ বলেছেন আনুশকা।

 

রণবীর-দীপিকা

প্রথম দেখায় রণবীর সিংকে জীবনসঙ্গী হিসেবে ভাবতে পারেননি দীপিকা পাড়ুকোন। ভেবেছিলেন, এই ছেলে মোটেও সংসারী না, বাউণ্ডুলে টাইপ। কিন্তু দেখা হওয়ার পর থেকেই দীপিকার পেছনে লেগে ছিলেন রণবীর। দীপিকার নানা সিনেমার সেটে গোপনে হাজির হয়ে চমকে দিয়েছেন। দুবাইয়ে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর শুটিং চলার সময় সেখানে অনেকটা সময় কাটান দুজন। মূলত এর পর থেকেই তাঁদের প্রেমের গুজব রটে। শেষমেশ রাজি হন দীপিকা।

২০১৬ সালে আম্বানি পরিবারের এক আমন্ত্রণে একে অন্যের হাত ধরে হাজির হয়েই সম্পর্কটা প্রকাশ্য করেন; যদিও মুখে কিছু স্বীকার করেননি। ‘দীপিকাকে প্রথম দেখার পর থেকেই হারিয়ে গিয়েছিলাম। একটা রেস্টুরেন্টে প্রথম ওকে প্রস্তাব দিই। ও পাত্তা দেয়নি; কিন্তু আমি ঠিকই জানতাম সে রাজি হবে। এরপর অনেকটা সিনেমার মতোই এগিয়েছে আমাদের প্রেমের গল্প,’ বলেন রণবীর।

 

রবার্ট ডাউনি-সুসান

রবার্ট ডাউনির প্রথম প্রেম ছিল জেসিকা পার্কারের সঙ্গে। কিন্তু ডাউনির মাদকাসক্তির কারণে তাঁকে ছেড়েছিলেন জেসিকা। এরপর অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী ডেবোরা ফ্যালকরানকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ডাউনির বারবার রিহ্যাব আর জেলে যাওয়া-আসার কারণে সেই সংসারও টেকেনি। জীবনের এই চরম দুঃসময়ে পরম বন্ধুর মতো এগিয়ে আসেন সুসান নিকোল। ২০০৩ সালে একটি ছবির সেটে দেখা হওয়ার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের শুরু। অন্যদের মতো অভিনেতাকে ছেড়ে যাননি সুসান। বরং কাছে থেকে নেশা ছাড়িয়েছেন। এ জন্য সুসানের সঙ্গে প্রেমটা অন্য রকম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতার কাছে, ‘ও জীবনে কতটা প্রভাব রেখেছে, সেটা আমার ক্যারিয়ার গ্রাফ দেখলেই বুঝতে পারবেন। ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর জীবনই বদলে গেছে,’ বলেন অভিনেতা।

 

কাম্বারব্যাচ-সোফি হান্টার

একুশ শতকের শার্লক হোমসকে তাঁর বাস্তব জীবনের ঘরণি সোফির সঙ্গে দেখলে মনে হতেই পারে, তাঁরা আসলে এক অন্যের জন্যই তৈরি হয়েছেন। সোফিকে রানির মতোই রাখতে চান এই ব্রিটিশ অভিনেতা। তার কারণও আছে যথেষ্ট। জীবনের নানা খারাপ সময়ে সোফিকে পাশে পেয়েছেন। তাঁদের প্রথম দেখার কথা মনে করে অভিনেতা বলেন, ‘পারিবারিক নানা ঝামেলায় খুব হতাশ ছিলাম। তখন সোফি যেন আশীর্বাদের মতোই হাজির হয়। আমি খুব এলোমেলো, অনেক দোষ আছে। সব মানিয়ে নিয়ে ও ভালোবেসেছে। ওর কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

 

কিথ আরবান-নিকোল কিডম্যান

২০০৭ সালে এসে ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিথের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন নিকোল কিডম্যান। জানান, এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেখা হওয়ার পর দুজনই সম্পর্কে জড়িয়েছেন। প্রস্তাবটা দেন কিথ আরবান, অনেক ভাবার পর রাজি হন নিকোল। অভিনেত্রীর মতে প্রকৃতিই তাঁদের এক করে দিয়েছে, ‘যখন দেখা হয়, তখন দুজনই একা। ভাঙা সংসার, ভাঙা মন নিয়ে বিষাদগ্রস্ত। ঈশ্বরই আমাদের এক করে দিয়েছিলেন।’

 

মাইলি সাইরাস-লিয়াম হেমসওয়ার্থ

২০১০ সালে ‘দ্য লাস্ট সং’-এ নায়িকার চরিত্র করেছিলেন মাইলি সাইরাস। মাইলির বিপরীতে ছিলেন লিয়াম হেমসওয়ার্থ। এই ছবির শুটিং করতে গিয়েই তাঁদের প্রেমের শুরু। শোনা যায়, ২০১২ সালে বাগদানও হয়। এর কোনো কিছুই তখন অবশ্য তাঁরা স্বীকার করেননি। পরে আরো কয়েক দফা তাঁদের সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার পর ২০১৬ সাল থেকে নতুন গতি পায়। দুজনই প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন, একে অন্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করতে থাকেন। অবশেষে গেল বছরের বড়দিনে শুভ কাজটা সেরে ফেলেন তাঁরা। ‘১০ বছর দারুণ কেটেছে। সম্পর্কে নানা উত্থান-পতন ছিল। সত্যি বলতে কি, সে জন্যই এত ভালো লেগেছে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ফিরে এসেছি বলেই লিয়ামের সঙ্গে বিয়েটা খুবই স্পেশাল,’ বলেন মাইলি।

মন্তব্য