kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনন্য অ্যান

যদিও বড় পুরস্কার সবই প্রায় আছে কিন্তু অভিনয়ের চেয়ে তাঁর সৌন্দর্য নিয়েই বেশি কথা হয়। অথচ অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ের আবেদনও কম নয়। ‘সেরেনিটি’ মুক্তি উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনন্য অ্যান

তালিকাটা ‘সেরা আবেদনময়ী’র হোক কিংবা ‘সেরা সুন্দরীর’, তাঁর নামটা একদম শুরুর দিকেই থাকে। এমনকি তালিকাটা যদি হয় অভিনয় প্রতিভার বিচারে, সেখানেও প্রথম দিকেই থাকেন অ্যান হ্যাথাওয়ে।

মা ছিলেন মঞ্চ অভিনেত্রী, শেকসপিয়ার বলতে পাগল। মেয়ের জন্ম হওয়ার পর ভেবেছিলেন নাম রাখবেন ক্যাথেরিন। কিন্তু পরে রাখেন শেকসপিয়ারের স্ত্রী অ্যানের নামে। বাবার পদবিটা হ্যাথাওয়ে হওয়ায় সোনায় সোহাগা। কারণ এটা ছিল শেকসপিয়ারের স্ত্রীর বিবাহ-পূর্ববর্তী নাম! মা অভিনেত্রী ছিলেন, সে পথ ধরে হাঁটেন অ্যানও।

মঞ্চে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য চারদিকে যশ ছড়িয়ে পড়ে। তুলনা শুরু হয় জুডি গারল্যান্ড, অড্রে হেপবার্নের মতো তারকাদের সঙ্গে। এরই মধ্যে ছোট পর্দায় অভিষেক হয়ে যায় ‘গেট রিয়াল’ দিয়ে। সেটা তত আলোচিত হয়নি। তবে বড় পর্দায় প্রথম আবির্ভাবেই বাজিমাত।  ২০০১ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়ারিজ’-এ অ্যানের অনবদ্য অভিনয় বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে। পত্রিকাগুলো তাঁর নাম দেয় ‘হলিউডের নতুন রাজকুমারী’।

পরে ‘প্রিন্সেস ডায়ারিজ ২’, ‘এলা এনচ্যান্টেড’, ‘দ্য আদার সাইড অব হ্যাভেন’ ইত্যাদি চলচ্চিত্রের সাফল্য সেই ‘রাজকুমারী’ খেতাবের প্রতি সুবিচার করেছিলেন অ্যান। তবে ‘চকোলেট হিরোইন’ তকমাটা লেগে গিয়েছিল চরিত্রগুলোর জন্যই। ২০০৫ সালের নন্দিত দুই চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্রোকব্যাক মাউন্টেইন’ ও ‘হ্যাভক’ করে অ্যান জানিয়ে দেন শুধু কমেডি ড্রামার চটপটে কিশোরীরই নয়, গুরুগম্ভীর চরিত্রে অভিনয়েও পারদর্শী তিনি। অ্যাং লির ‘দ্য ব্রোকব্যাক মাউন্টেইন’-এ তাঁর চরিত্রটি সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা পায়।

২০০৭ সালে ‘বিকামিং জেইন’-এ তিনি অভিনয় করেন কিংবদন্তিতুল্য লেখিকা জেইন আয়ার চরিত্রে। শুরুতে তিনি কোনোভাবেই নিজেকে যোগ্য ভাবতে পারছিলেন না চরিত্রটির জন্য। অ্যাং লির উৎসাহেই রাজি হন। পরে চরিত্রটির জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। মূলত এ চরিত্র করেই তাঁর সাহস বেড়ে যায়। এরপর অ্যান করতে থাকেন একের পর এক বক্স অফিস কাঁপানো ছবি। ‘ডেভিলস ওয়ারস প্রাডা’, ‘গেট স্মার্ট’, ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’, ‘অ্যালিস ইন দ্য ওয়ান্ডারল্যান্ড’, ‘ওশেনস এইট’, ‘ওয়ান ডে’, ‘লাভ অ্যান্ড আদার ড্রাগস’ ইত্যাদি ছবি শুধু বক্স অফিসেই ঝড় তোলেনি, প্রশংসা এনে দিয়েছে সমালোচকদের।

পুরো ক্যারিয়ারে নানা কিছিমের চরিত্র করেছেন। ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’-এ তাঁর চরিত্র ক্যাটওম্যান সেলিনা কাইল ছিল সুপারহিরো। তবে অ্যানের জন্য অন্যতম স্মরণীয় ছবি ২০১২ সালের ‘লা মিজারেবলস’। যে মঞ্চ নাটকে মাকে অভিনয় করতে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী হতেই হবে তাঁকে, সেই নাটকের বড় পর্দায় রূপদান তাঁর জন্য ছিল ভীষণ আবেগের। মজার ব্যাপার, মা-মেয়ে দুজনই একই চরিত্র ‘ফ্যান্টিন’ করেছিলেন মঞ্চে ও রুপালি পর্দায়।

অভিনয় প্রতিভার পাশাপাশি অ্যানের সুনাম রয়েছে সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করায়। তিনি সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য গঠিত অনেক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে আফ্রিকার অবেহলিত শিশুদের পক্ষে যুদ্ধে এবং বিশ্বজুড়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার সংগ্রামে সব সময় সরব।

২৫ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে অ্যান হ্যাথাওয়ের নতুন চলচ্চিত্র ‘সেরেনিটি’। থ্রিলারধর্মী ছবিটি পরিচালনা করেছেন স্টিভেন নাইট।

মন্তব্য