kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন কিশোর

শিহাব শাহীনের ওয়েবফিল্ম ‘দ্বিতীয় কৈশোর’-এ প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অপূর্ব, নিশো ও তাহসান। কিভাবে কী হলো? জানাচ্ছেন মীর রাকিব হাসান

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তিন কিশোর

নিশো ও অপূর্ব দীর্ঘদিনের বন্ধু। ক্যারিয়ারের স্ট্রাগল পিরিয়ডে একজনকে ছাড়া আরেকজনের চলতই না। সপ্তাহটা ভাগ করে দুজন দুজনার বাসায় থাকতেন। কী করবেন, ক্যারিয়ার কোন দিকে যাচ্ছে—এসব ভেবে কত দিন-রাত পার করেছেন! দুজনই প্রতিষ্ঠিত। উত্তরায় তাঁদের বাসাও কাছাকাছি। তাঁদের সঙ্গে তাহসানের বন্ধুত্বটা অনেক দিনের। বিশেষ করে অপূর্বর খুবই ভালো বন্ধু তাহসান। একসঙ্গে অভিনয় করেছেন নাটক ‘কথোপকথন’-এ। অবশ্য নিশো আগে তাহসানের সঙ্গে অভিনয় করেননি। তিনজনই এখন টিভি নাটকের জনপ্রিয়তম শীর্ষ পুরুষ অভিনেতা। ‘দ্বিতীয় কৈশোর’-এ প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দেখা যাবে তাঁদের। তিনজনকে ‘এক’ করা যেকোনো পরিচালকের জন্যই চ্যালেঞ্জের। কিভাবে সম্ভব হলো? প্রশ্নটার উত্তর দিয়েছেন শিহাব শাহীন, ‘ওদের মোটিভেট করতে হয়েছে তো অবশ্যই। ওরা এখন যে যার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। সেখানে আমি এক হতে বললেই তো হবে না। ওদের সেই কাজের সুযোগটা করে দিতে পেরেছি বলেই ওরা রাজি হয়েছে। ওদের বুঝিয়েছি, অনেক দর্শক এখন ওয়েবের দিকেই তাকিয়ে থাকে। সারা বিশ্বে চলছে নেটফ্লিক্সের আধিপত্য। আমাদের দেশে যদি কোনো ওয়েব প্ল্যাটফর্ম দাঁড়ায়, সেটা আমাদের জন্যই ভালো। এই বিবেচনা থেকেই হয়তো ওরা রাজি হয়েছে।’

তিন অভিনেতার কাছে ছিল অভিন্ন প্রশ্ন, তুখোড় গল্প পেয়েছেন বলে রাজি হয়েছেন, নাকি শিহাব শাহীনকে ‘না’ করতে পারেননি বলেই...? প্রশ্ন শুনে হাসলেন অপূর্ব। তারপর বললেন, ‘না, না তেমন কিছু না। তাঁর ওপর ট্রাস্ট তো আছেই। অন্য দুজনেরও আছে। আমরা তিনজন কাজের বাইরে ভালো বন্ধুও। ভেবেছি ভিন্ন কিছু একটা হচ্ছে, আমার থাকা উচিত।’ তাহসান যোগ করলেন, ‘আমরা জানি শিহাব ভাই আমাদের প্রপার জাজমেন্ট করে হ্যান্ডেল করতে পারবেন। আর ওয়েব প্ল্যাটফর্মের জন্য বড় একটা কিছু করতে পারছি, এটাও কম কী।’ নিশো বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ধরনের চরিত্র করতে পছন্দ করি। এখানেও আমার চরিত্রটি পছন্দ হয়েছে এবং কাজটি করে যথেষ্ট আনন্দ পেয়েছি।’

ত্রিশ পেরোনো তিন বন্ধুর ভিন্নধর্মী সংকটের গল্প ‘দ্বিতীয় কৈশোর’। গল্পের তিন কিশোর আবির, ধ্রুব ও রিও রোজারিও। আবির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং ধ্রুব স্বাবলম্বী। আবিরের বয়স ৩৫ হয়ে গেছে, তবু বিয়ে করতে অনিচ্ছুক। ‘বয়স ত্রিশ ক্রস করলেই চারদিক থেকে বিয়ের চাপ আসে। মধ্যবয়সী মানুষের মনেও কিন্তু একটা কৈশোর থাকে। তারা ভাবে এখনো তো আমি সুস্থ-সবল, বয়স ৪০-৪৫ তো হয়ে যায়নি! যদিও বাস্তবতা ভিন্ন’, আবিরকে নিয়ে বললেন অপূর্ব।

তাহসান বললেন ধ্রুবকে নিয়ে, ‘ধ্রুব বিয়ে করেছে, তবে বাচ্চা নিতে চায় না। তার স্ত্রী চায় এখনই বাচ্চা নিতে।’ 

রিওকে নিয়ে নিশো বলেন, ‘কফিশপটা নিয়ে পুরোপুরি দাঁড়াতে পারেনি রিও। একটা চাপ ফিল করে। ৩৫ বছর হয়ে গেল, কিন্তু ক্যারিয়ারটা দাঁড়াল না! ২০-২৫ বছর বয়সে মানুষ ভাবে সামনে দিন আছে, তত দিনে স্টাবলিশ হয়ে যাব। ৩০-৩৫ বছর বয়সে গিয়ে মনে হয় হায় হায় কিছুই তো হলো না। এই বয়সীরা একটা আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভোগে। ভাবে বাবা হব, নাকি ক্যারিয়ার ঠিক করব, নাকি জামাই হব, নাকি যেভাবে আছি সেভাবেই থাকব।’ 

নিশোর সঙ্গে এটা শিহাব শাহীনের চতুর্থ কাজ। তবে তাহসান ও অপূর্বর ক্যারিয়ারের জনপ্রিয় নাটকের বেশির ভাগের পরিচালকই শিহাব শাহীন। পরিচালক বলেন, ‘তারা প্রত্যেকেই পেশাদার অভিনেতা। প্রত্যেকেরই স্টারডম আছে, ফ্যান-ফলোয়ার আলাদা এবং তাদের ফ্যানদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও আছে। এই ফ্যানদের তুষ্ট রাখতে হয়। সেই মানের কাজ দিতে হয়। এমন কাজ দিতে হয় যেন ওরা গর্ব করে বলতে পারে, ভাই ফাটিয়ে দিয়েছে। সেই জায়গা থেকে একটা চাপ আছে ওদের মধ্যে। ওয়েবফিল্মটা প্রকাশের পরও আলোচনা হবে, কে কতটুকু রোল পেল। ফ্যানদের উদ্দেশে বলি, ওদের মধ্যে সেটা নেই। যার যে কাজ ওরা সেটাই করার চেষ্টা করেছে। চরিত্রের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ হিসাব করেনি।’

ফিল্মে তিন বন্ধুর তিনটি আলাদা গল্প। অপূর্বর গল্পে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন আবুল হায়াত ও অর্ষা। তাহসানের স্ত্রী হয়েছেন সানজিদা প্রীতি। নিশোর গার্লফ্রেন্ড রাইসা অর্পা, রিফাত জাহান ও রাফি।

৬০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ওয়েবফিল্ম ‘বায়োস্কোপ’-এ প্রকাশ পাওয়ার কথা ছিল ২৩ জানুয়ারি। এক সপ্তাহ পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে ৩১ জানুয়ারি।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তাহসান বলেন, ‘সময়ের বিবর্তনে বড় পর্দা ও টেলিভিশনের পরে এখন মোবাইল ফোনের পর্দায় চলে আসছে উন্নতমানের কনটেন্ট, যার রয়েছে অন্য ধরনের আবেদন। কনটেন্ট যদি আকর্ষণীয় হয়, দর্শক তা দেখবেই।’

নিশো বলেন, ‘অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো এক ধরনের আর্কাইভের মতো। তবে কাজটি কতবার দেখা হলো বা কতজন দর্শক দেখল, সেই সংখ্যাটা কাজটির মান নির্ণায়ক নয়। প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা বাড়ছে, কাজের পরিমাণ বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে দর্শকও—এসবই আমাদের জন্য আশার বিষয়।’

মন্তব্য