kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আরেক অর্ণব

বাঙালিরা অনেক দিন ধরেই বাংলা বা হিন্দি গানে সমান তালে সাফল্য পেয়ে আসছেন। সে তালিকায় নতুন নাম অর্ণব দত্ত। বলিউড হিট আগেই ছিল, এবার তাঁর গাওয়া ‘টাপুর টুপুর’ বাংলা টপচার্টেও শীর্ষে। গায়ককে নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরেক অর্ণব

হাওড়া জেলা স্কুলের ছাত্রটির বর্তমান নিবাস মুম্বাই। গেল বছর বিক্রম ভাটের ‘১৯২১’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক। বলা যায় রাজসিক অভিষেক। কারণ ছবিতে তিনটি গান গেয়েছিলেন অর্ণব দত্ত। তিনটিই ছিল হিট। এবার তিনি বাংলাতেই হিট। ‘রসগোল্লা’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘টাপুর টুপুর’ আছে মির্চি টপচার্টের শীর্ষে। যা দেখে অনেকটা স্বস্তি এসেছে অর্ণবের মনে, ‘আসলে আমি চেয়েছিলাম বাংলা গান দিয়ে শুরু করতে কিন্তু নানা কারণে হয়নি। এবার খুব ভালো লাগছে।’ কোন্নগরের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের মুম্বাই-কলকাতায় সাফল্যে অবশ্য ভেসে যাননি। বলা যায়, গান হিট হওয়ায় তেমন কোনো হেলদোল নেই। কারণ? ‘অনেক কষ্ট করেছি। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে কাতার, বেঙ্গালুরু চাকরি করেছি। অনেক দেনা ছিল, সেগুলো শোধ হওয়ার পর অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে গান শুরু করি। জীবনে এত কিছু দেখেছি যে আর কিছুতেই তত ভালো বা খারাপ অনুভূতি হয় না।’

বছর কয়েক আগে সিরিয়াসলি গান শুরু করলেও ছোটবেলা থেকেই সংগীতে তালিম ছিল। শাস্ত্রীয়, আধুনিক সবই শিখেছেন। ২০১৫ সালে সনির একটা ওয়েব সিরিজে সুযোগ পান। এরপর বিক্রম ভাটের ওয়েব সিরিজেও কাজ জুটে যায়। তখন থেকেই বিক্রমের গুড বুকে ঢুকে যান। পরে তাঁর ছবিতেও সুযোগ আসে। যদিও খবরটা তিনি জানেন অনেক পরে, ‘আসলে মুম্বাইয়ে একটা গান অনেক শিল্পীকে দিয়েই গাওয়ানো হয়। যারটা ভালো লাগে সেটাই রাখা হয়। আমি কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই গেয়ে আসি, পরে দেখি আমারটাই টিকে গেছে।’ হিন্দি, বাংলা ছাড়াও অর্ণব গেয়েছেন মালয়ালম ছবিতেও। এ ছাড়া টিভি জিঙ্গেল করেছেন অনেক। ‘রসগোল্লা’ দিয়ে বাংলা গান করার স্বপ্নপূরণ হলেও একটা বড় আক্ষেপ রয়ে গেছে শিল্পীর, ‘পাভেল ভাইয়ের [ছবির পরিচালক] কাছে খুবই কৃতজ্ঞ আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু কালিকাদাকে [প্রয়াত শিল্পী কালিকাপ্রসাদ] খুব মিস করি। এ ছবির গান উনারই করার কথা ছিল। তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া আমার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।’

‘টাপুর টুপুর’ হিট হওয়ার পর অনেক প্রস্তাব পাচ্ছেন অর্ণব। যা তাঁর কাছে আশীর্বাদের মতোই, ‘বাংলার প্রায় সব সুরকারের কাজ খুব ভালো লাগে। তাঁদের সঙ্গে গাইব এটা অনেক বড় ব্যাপার। অনেকেই আমাকে এসএমএস করে গানের জন্য প্রশংসা করেছেন, তাঁদের সঙ্গে গাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।’ এর মধ্যে কয়েকটিতে প্লেব্যাকও করেছেন শিল্পী। কিন্তু এখনো সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে নারাজ।

মন্তব্য