kalerkantho

মান্টোকে ফিরে দেখা

তাঁর লেখা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, ছয়বার আদালতে মামলা উঠেছে। সব মিলিয়ে বর্ণিল সাদাত হাসান মান্টোর জীবন। এই উর্দু লেখককে নিয়ে নন্দিতা দাসের ছবি ‘মান্টো’। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিটি নিয়ে লিখেছেন মামুনুর রশিদ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মান্টোকে ফিরে দেখা

১৯৪৬ সাল, বম্বে। উপমহাদেশে ব্রিটিশদের শাসন শেষ হতে চলেছে। লেখক সাদাত হাসান মান্টোর অবশ্য এসব নিয়ে হেলদোল নেই। লেখা আর সিনেমাজগতের মানুষের সঙ্গে আড্ডা নিয়ে বেশ আছেন। নিজে গল্প লিখছেন, চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য করছেন। সেই সময়ের তারকা অশোক কুমার ছিলেন তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ। মান্টোর জন্য তাই বম্বে ভালো জায়গা। এতটাই ভালোবাসতেন শহরটাকে কেউ দেশভাগ নিয়ে জানতে চাইলে বলতেন, ‘বম্বে যদি পাকিস্তানে চলে যায়, আমিও পেছন পেছন যেতে পারি।’ ‘১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত মান্টোর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দেশভাগের পর তাঁকে লাহোরে চলে যেতে হয়। যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেন না কী হতে চলেছে। খুবই অসহায়, অনিশ্চিত ছিল সেই সময়,’ বলেন নন্দিতা দাস। বহুল প্রশংসিত ‘ফিরাক’-এর ১০ বছর পর পরিচালনায় ফিরলেন নন্দিতা। ফিরেই কেন ‘মান্টো’র মতো বিষয়কে বেছে নিলেন? ‘২০১২ সালে মান্টোর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয়। তখনই তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি। নানাজনের লেখা পড়ে মুগ্ধ হই, পরে মান্টোর লেখাও পড়ি। তখনই ঠিক করি তাঁকে নিয়ে ছবি করব। তবে তার আগে অনেক গবেষণার দরকার ছিল, যা করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়।’ ছবিতে মান্টো হয়েছেন নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী; যদিও শুরুতে এ চরিত্র করার কথা ছিল ইরফান খানের। নন্দিতা বলেন, ‘ইরফানকে এ চরিত্রে দারুণ মানাত। তার চেহারার সঙ্গে মান্টোর অনেক মিল। ইরফানের উর্দুও চোস্ত। তা ছাড়া সে নিজেও মান্টোর অনেক লেখা পড়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওকে পাওয়া যায়নি। তবে নওয়াজও দারুণ। স্ক্রিপ্ট লেখার সময় ওর কথা মাথায় ছিল।’ কিন্তু মান্টোর জীবনের নানা ঘটনা আর দেশভাগের মতো বড় বিষয় ঘণ্টা দুয়েকের ছবিতে কতটা তুলে ধরা গেল? পরিচালক বলেন, এ ক্ষেত্রে তাঁর কাজে এসেছে সম্পাদক সত্তা, ‘এটা কঠিন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারা গেছে, কারণ এডিটিং আমার ভালো লাগে। বিশাল একটা কাহিনি থেকে কেটেছেঁটে মানুষকে প্রভাবিত করে এমন ছোট অংশ ছবিতে রেখেছি। যাঁরা মান্টোর সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তাঁদের কাছে কেমন করে বিষয়টা উপস্থাপনা করা যাবে সেটাও ভেবেছি। মান্টোর এই গল্প দর্শককে বিভীষিকার সামনে দাঁড় করাবে, প্রশ্নের মুখোমুখি করবে।’ মান্টোর চরিত্র করে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন নওয়াজও। একই সঙ্গে ছবিটি করতে গিয়ে নিজের মধ্যেও খুঁজে পাচ্ছেন ‘মান্টো’র প্রভাব, ‘মান্টোর ব্যক্তিত্ব, চিন্তা এমনই যে একটু কিছু ওর সম্পর্কে জানতে বা পড়তে পারলেই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে বাধ্য। একটা সাহস পাওয়া যায় মান্টোর লেখায়। মানুষ মনে মনে অনেক কিছু ভাবতে পারে। কিন্তু ভাবনাকে অন্য মানুষের সামনে প্রকাশ করতে পারার সাহসটা দরকার। সেটা মান্টো করতে পারেন। আমিও এখন স্পষ্টভাবে অনেক কথা বলতে পারি।’

এই সিনেমার বেশির ভাগ শিল্পীই কোনো পারিশ্রমিক নেননি। মান্টো করা নওয়াজ অবশ্য নিয়েছেন এক রুপি! ঋষি কাপুরসহ অন্যরাও বিনা মূল্যে বা প্রতীকী মূল্যে কাজ করেছেন। এ বছর কান চলচ্চিত্র উত্সবে দেখানোর পর ব্যাপক প্রশংসা পায় ছবিটি। সাদাত হাসান মান্টোকে নিয়ে ছবি হয়েছে পাকিস্তানেও। ২০১৫ সালে সরমদ খুসাতের ‘মান্টো’তে নাম ভূমিকায় ছিলেন সরমদ নিজেই। এ ছাড়া ২০১২ সালে একই নির্মাতা ‘ম্যায় মান্টো’ নামে একটি টিভি সিরিজ করেন।

মন্তব্য