kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

গণ-অর্থায়নে প্রথম ছবি ভারতের

রিদওয়ান আক্রাম   

১৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণ-অর্থায়নে প্রথম ছবি ভারতের

‘মন্থন’-এর দৃশ্যে স্মিতা পাতিল

ক্রাউডফান্ডিংয়ে বানানো প্রথম ছবি হিসেবে ধরা হয় শ্যাম বেনেগালের ‘মন্থন’কে। এই ছবির জন্য টাকা দিয়েছিলেন গুজরাটের সমবায় দুগ্ধ বিপণন সমিতির পাঁচ লাখ সদস্য। সবাই ছিলেন কৃষক। ছবির বাজেটের জন্য তাঁরা জনপ্রতি দুই রুপি দেন। সেই টাকায় তৈরি হয় ছবিটি। ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ছবির টাকা তোলার মূল বুদ্ধিটা কিন্তু শ্যাম বেনেগালের ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, এটা ছিল ডা. ভারগিজ কুরিয়েনের আইডিয়া। ডা. ভারগিজ ভারতের ‘সাদা বিপ্লব’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর হাত ধরেই ভারতের দুগ্ধশিল্প শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়ায়। তাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতের সবচেয়ে বড় খাবারের ব্র্যান্ড ‘আমুল’। তাঁকে নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন শ্যাম। তখনই তিনি এই বিষয়ের ওপর একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যে চলচ্চিত্র বানানোর কথা বলেন ভারগিসকে। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। সেটার সমাধানের জন্যও এগিয়ে এসেছিলেন এই ভারগিস। তিনিই দুগ্ধখামারিদের দুই রুপি করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এভাবেই তৈরি হয় প্রথম ক্রাউডফান্ডিং চলচ্চিত্র ‘মন্থন’। এটির কাহিনিও গুজরাটের সমবায় দুগ্ধ বিপণন সমিতির ওপর। নায়ক ডা. রাও চরিত্রেও রয়েছে ডা. ভারগিজ কুরিয়েনের ছায়া। ছবিটি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার [সেরা ছবি ও সেরা চিত্রনাট্য] জেতে। শুধু তা-ই নয়, ১৯৭৬ সালের অস্কারে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিল ‘মন্থন’।

‘মন্থন’-এর ১০ বছর পর ১৯৮৬ সালে ভারতেই তৈরি হয় মালয়ালাম ছবি ‘আম্মা আরিয়ান’। পরিচালনায় জন আব্রাহাম। জন ও তাঁর কয়েক বন্ধু চাইছিলেন এমন একটি চলচ্চিত্র তৈরি করবেন, যা হবে ‘জনগণের ছবি’। এবং এখানে যেন জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে। তাঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে গান গেয়ে, ড্রাম বাজিয়ে, নাটক করে জনগণকে এই ছবির জন্য অর্থ দিতে অনুরোধ করেন। সাড়াও পড়ল বেশ। ছবিটি অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের ঢঙে তৈরি। সমালোচকরা বেশ প্রশংসা করেছেন ছবিটির। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের করা সর্বকালের সেরা ১০ ভারতীয় ছবির তালিকায় স্থান পাওয়া একমাত্র দক্ষিণী ছবি এই ‘আম্মা আরিয়ান’।

‘মন্থন’-এর মতো গণ-অর্থায়নের টাকায় বানানো ভারতীয় ছবির মধ্যে ‘আই অ্যাম’ও জিতেছিল ভারতের সেরা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবির পরিচালক অনির। ভারতে প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এই চলচ্চিত্রের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। বাজেটের জন্য টুইটার আর ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়েছিলেন অনির। ছবির ক্রেডিটে সাহায্যকারীদের নাম এবং লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। যেসব ব্যক্তি এক লাখ রুপি দিয়ে সাহায্য করেছিলেন তাঁরা হয়েছিলেন সহপ্রযোজক আর যাঁরা এক লাখ রুপির নিচে অর্থ সাহায্য করেছেন তাঁদের নাম চলচ্চিত্রের ক্রেডিট লাইনে দেওয়া হয়েছিল। একসময় দেখা যায়, শুধু ভারত থেকেই নয়, আস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া থেকেও ৮০ লাখ রুপির মতো অর্থ এসেছে। মোট সাড়ে চার শ মানুষের অর্থ সহায়তায় তৈরি হয় ছবিটি। এই ছবির পর বলা যায় ভারতে মুক্ত চলচ্চিত্রের একটা জোয়ার আসে। পাশাপাশি অনেক ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালকই ভাবতে শুরু করেন, ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নিজের ছবিটি বানানো সম্ভব। এরই ধারাবাহিকতায় পবন কুমার ২০১৩ সালে বানান কন্নড় ভাষায় ‘লুসিয়া’। এখানেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। গতানুগতিক ধারায় ছবির জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েই ক্রাউডফান্ডিংয়ের জন্য নিজস্ব ব্লগ আর ফেসবুকে প্রচারণা চালান পবন। শেষ পর্যন্ত ৬০০ জন ক্রাউডফান্ডিংয়ের জন্য রাজি হন। তাতে উঠেছিল ৭৮ হাজার রুপি। শেষ পর্যন্ত ছবিটি চার লাখ ৮০ হাজার রুপি আয় করতে সক্ষম হয়। ছবিটি লন্ডন ইন্ডিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার পায়।

মন্তব্য