kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জয়ার ভালোবাসার শহর

ঈদে মুক্তি পাবে ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘ভালোবাসার শহর’, ‘রাজকাহিনি’র জন্য পেলেন টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড, সরকারি অনুদান পেলেন—এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানা গেল, তিনি তখনো কলকাতায়। ফোনেই সাক্ষাৎকার দিলেন জয়া আহসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পার্থ সরকার

২৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয়ার ভালোবাসার শহর

খুব ব্যস্ত? কথা বলা যাবে তো?

প্রচণ্ড ব্যস্ত। দম ফেলার সময় পাচ্ছি না। ‘আরে ভাইয়া ইধার নেহি, পার্ক স্ট্রিট হ্যায় না, রাসেল স্ট্রিট কি পাস...ওদিকে যান’—স্যরি, কিছু মনে করবেন না। ট্যাক্সি ড্রাইভারকে লোকেশন বুঝিয়ে দিতে হচ্ছিল। আজই [সোমবার] ঢাকায় আসব, দুই দিনের জন্য। বিটিভির ‘আনন্দমেলা’র শুটিং, ‘খাঁচা’র ডাবিং করব। এ ছাড়া ‘ভালোবাসার শহর’-এর কাজও আছে। ব্যক্তিগত কিছু কাজ শেষ করে দুই দিন পর আবার কলকাতা। সেখান থেকে যাব আমেরিকা, বঙ্গ সম্মেলনে যোগ দিতে। বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ারে হচ্ছে সেটা। এই তো।

 

বাংলাদেশে ভালোবাসা শহর! ওটা তো কলকাতার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র...

একদম ঠিক। কিন্তু ছবিটার ডিজিটাল পার্টনার ‘ইউনিফক্স এন্টারটেইনমেন্ট’-এর অফিস বাংলাদেশে। ওখানে কিছু ডিজিটাল প্রমোশনের কাজ বাকি।

 

ভালোবাসার শহর মুক্তি পাবে কবে?

অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি ছবিটা দেখার এবং দেখানোর জন্য। শুটিং শেষ মাস দুয়েক আগে, এখনো আমি ছবির ঘোর থেকে বের হতে পারিনি। ঈদের পরপরই [১০ জুলাই] ইউটিউবে মুক্তি পাবে।

 

এ ছবির পেছনের গল্পটা বলবেন?

ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী প্রথম যখন চিত্রনাট্যটা হাতে দিলেন, পড়ার পর অনেকক্ষণ বোবা হয়ে ছিলাম। কোনো কথা বের হয়নি মুখ দিয়ে। ওর ‘ফড়িং’ আমার খুব ভালো লেগেছিল। কিন্তু এই ছবিটা একেবারে অন্য রকম। মাত্র ৩২ মিনিটের ছবি কিন্তু দেখে পূর্ণদৈর্ঘ্যের আমেজটাই পাবেন। প্রচণ্ড সময় উপযোগী একটি ছবি। শিল্পী এবং মানুষ হিসেবে এক ধরনের তৃপ্তি নিয়ে কাজটা করেছি। এটা এই সময়ের, আমার আশপাশের কারো কিংবা অনেকের গল্প ‘ভালোবাসার শহর’।

 

নুরুল আলম আতিকের পেয়ারার সুবাস করছেন। কাজ কত দূর?

প্রথম লটের শুটিং শেষ। ঈদের পর আবার শুটিং। এখনো তারিখ পড়েনি। ‘ডুবসাঁতার’-এর পর আতিকের সঙ্গে এটা আমার দ্বিতীয় ছবি।

 

মাঝখানে আতিকের লাল মোরগের ঝুঁটিতে অভিনয় করার কথা ছিল, ওটার কী অবস্থা?

ওটা পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। যত দূর জানি ছবিটি সামনে হবে। হলে ওটা হবে আতিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার তৃতীয় ছবি।

 

সম্প্রতি কলকাতায় টেলিসিনে পুরস্কার পেলেন। পুরস্কার পাওয়ার পর নতুন কোনো রোডম্যাপ করেছেন কি টলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য?

কখনোই কোনো রোডম্যাপ ছিল না, এখনো নেই। ‘রাজকাহিনি’ও কোনো অঙ্ক কষে করিনি। পুরস্কার পাওয়াটা বোনাস। আরো অনেকেই ছিলেন, আমাকে নির্বাচন করায় অবশ্যই অনেক খুশি। সবচেয়ে বেশি খুশি দর্শক আমার চরিত্রটির সঙ্গে নিজেদের কানেক্ট করতে পেরেছেন, সেটা দেখে। এখানেই একজন শিল্পী সার্থক।

 

বলিউডে রিমেক হচ্ছে রাজকাহিনি। সেখানে অভিনয় করার ইচ্ছে কি একবারও হয়নি?

কেন হবে? এটা তো পাঞ্জাব ভাগ নিয়ে গল্প, একেবারে ভিন্ন প্রেক্ষাপট। তাই বাংলার শিল্পীরা কাজ করছে না, এটাই স্বাভাবিক।

 

এবার তো পরিচালক হিসেবে সরকারি অনুদান পেলেন...

ব্যাপারটা আমার জন্য একটু অস্বস্তিকর। ‘দেবী’ ছবিটি আমি পরিচালনা করছি না। যদিও প্রস্তাবক হিসেবে আমার নামটা ছিল। এ কারণেই ভুল বোঝাবুঝিটা হয়েছে। আমি ‘দেবী’ প্রযোজনা করছি।

 

হুমায়ূন আহমেদের দেবী কেন?

হুমায়ূন আহমেদের প্রথম দিকের গল্প। সেই ছোটবেলায় পড়েছি। তখন একটা ভালোলাগা কাজ করত। হুমায়ূন আহমেদের ক্ল্যাসিক গল্পগুলোর এটি একটি। সে কারণেই ‘দেবী’।

 

দাদাগিরিতে সেদিন আপনাকে দেখা গেল...

সৌরভ গাঙ্গুলির আমন্ত্রণে বিশেষ অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম। এমনিতেই অনুষ্ঠানটি বেশ জনপ্রিয়। তার ওপর সেদিন সৌরভকে নিয়ে লেখা বই ‘দাদা’র মোড়ক উন্মোচন হয়—ভালোই লাগল।

 

আমি জয় চ্যাটার্জি বলছির কী খবর? 

শুটিং প্রায় শেষ। একটু আটকে গেছি বর্ষার কারণে। আমাদের শুটিং চলছিল সিকিমে। কিন্তু পাহাড়ে এবার একটু জলদি বৃষ্টি চলে আসায় শুটিং বন্ধ। এখন হিমাচলে শুটিংয়ের পরিকল্পনা হচ্ছে।

 

এখন যৌথ প্রযোজনার ছবির জোয়ার। আপনার কী মতামত?

যৌথ প্রযোজনার ব্যাপারটা ঠিক বুঝি না। দুই দেশের দর্শকরুচিতে বিস্তর ফাঁক। কলকাতায় যে ছবি হিট করে সেটা ঢাকায় অনেকেই দেখে না। আবার ঢাকার হিট ছবি কলকাতায় দেখে না। শিবপ্রসাদ, সৃজিত ওদের ছবি এখানে মেইনস্ট্রিম ছবির মতো চলে। কিন্তু সেগুলো বাংলাদেশের সিনেমা হলে চলবে কি না সেটা নিয়ে অনেকের সন্দেহ। দুই বাংলাতেই সফল—এমন যৌথ প্রযোজনার উদাহরণ খুব কম।